দুই স্পিনার খেলাবে অস্ট্রেলিয়া
স্পোর্টস রিপোর্টার২২ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
দুই স্পিনার খেলাবে অস্ট্রেলিয়া
উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে বরাবরই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। নি:সন্দেহেই ঢাকা টেস্টের উইকেটেও এর ব্যতিক্রম হবে না। তাই, বাংলাদেশের বিপক্ষে আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে দুই স্পিনার নিয়ে খেলার ঘোষণা দিলেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ ড্যারেন লেহম্যান।

গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই ক্রিকেটার একাদশের ব্যাপারে একটু আভাস দিলেন। বললেন, ‘এখানে আমরা খুব বেশি একটা খেলিনি। তাই এত আগে কিছু বলা মুশকিল। টেস্টের উইকেট আর কন্ডিশন দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে যে এই স্পিনাররাই মূল তুরুপের তাস হতে যাচ্ছেন সেটা তাই না বলে দিলেও চলে। অস্ট্রেলিয়াও নিজেদের স্পিনারদের নিয়ে প্রস্তুত। বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণটা একটু নড়বড়ে। কারণ, ইনজুরির কারণে আসছেন না মূল পেসার মিশেল স্টার্ক। পেস আক্রমণে জশ হ্যাজেলউডের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন কামিন্স। যোগ হবেন আরেক পেসার জ্যাকসন বার্ড স্পিনে আছেন নাথান লিঁও ও অ্যাশটন অ্যাগার। আরো আছেন তরুণ লেগ স্পিনার মিশেল সোয়েপসন। বোঝাই যাচ্ছে, স্পিনারদের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট।

ড্যারেন লেহম্যান আলাদা করে বললেন অ্যাশটন অ্যাগারের কথা। চমকে দিয়ে ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজে অভিষেক হয়েছিল ১৯ বছর বয়সী অ্যাগারের। এর পর থেকে টেস্টে খেলেননি তিনি। অভিষেক ম্যাচে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নটিংহ্যামে ৯৮ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু বল হাতে ভালো করতে পারেননি, নেন ২ উইকেট। চার বছর পর ২৩ বছর বয়সী অ্যাগারের সামনে বড় দায়িত্ব। স্পিনে প্রতিপক্ষকে ভোগাতে তাকেই নাথান লিঁও সহকারী হিসেবে যে অ্যাগারের একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি সেটা বোঝা গেল কোচের কথায়।

তবে, তরুণ লেগ স্পিনার মিশেল সোয়েপসনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিলেন না তিনি, ‘ওর লেন্থ এখন অনেক ভাল। শেষ বছরে শেফিল্ড শিল্ডে অনেক ভাল করেছে ও। তরুণ সোয়েপসন লেগ স্পিনে আমাদের ভাল একটা অস্ত্র। ঘরোয়া ক্রিকেটে ও ভাল করেছে। আর এই ধরনের উইকেটে ও কার্যকর হতে পারে। এর বাইরে দেশে আমরা জন হলান্ডকে রেখে এসেছিল। তবে, এদের মধ্যে ব্যাটিং দক্ষতা আর ক্ষীপ্র ফিল্ডিংয়ের কারণে এগিয়ে থাকবে অ্যাশটন। ওর পরিশ্রমে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’

অ্যাগারের ব্যাটিং নিয়েও বাড়তি পরিকল্পনা আছে অজি টিম ম্যানেজমেন্টের। কোচ বলেন, ‘ওর পক্ষে নিজেকে ভাল একজন অলরাউন্ডার হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। ধরেন, যদি আমরা তিন পেসার নিয়ে খেলি, তাহলে ব্যাটিং অর্ডারে ও ওপরের দিকে ব্যাট করতে পারবে। ওর এই ফ্লেক্সিবিলিটি আমাদের একাদশ গঠনটা সহজ করে দিচ্ছে।’

তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মিরপুরের উইকেট দেখতে চান কোচ। যদিও সেটা এখনো হয়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘এখনো মিরপুরের উইকেট আমরা দেখিনি। বরাবরই এখানকার উইকেট ভাল হয়। আশা করি, বৃষ্টি কোনো বাধার সৃষ্টি করবে না। সব মিলিয়ে শুকনো উইকেটে একটা দুর্দান্ত টেস্টর ম্যাচের অপেক্ষা করছি আমরা।’

ঢাকা টেস্টের পর ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় টেস্ট চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ মাত্র চারটা টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ খেলেছিল ২০০৬ সালে। বলাই বাহুল্য সবগুলো ম্যাচেই জয়ী দলের নাম অস্ট্রেলিয়া। যদিও, গত ১০ বছরে উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে মাত্র দু’টি সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। এই পরিসংখ্যানই চলতি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লেহম্যান বলেন, ‘ভারতে আমাদের শুরুটা ভাল হয়েছিল। তারপরও সিরিজটা আমরা জিততে পারিনি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দেশের বাইরে টেস্ট সিরিজ জেতা।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
পড়ুন