সাম্প্রদায়িক বিপদ ও গণতন্ত্র
১৬ মার্চ, ২০১৫ ইং
সাম্প্রদায়িক বিপদ ও গণতন্ত্র
রাজনীতি

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না যে সাম্প্রদায়িকতা বহাল রেখে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। একইভাবে একথাও সত্য যে, গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করা যায় না। এ দু’টি কথাকে অথবা তার কোনো একটিকে অগ্রাহ্য করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করাটি হলো গুরুতর রাজনৈতিক ভ্রান্তি ও অপরাধ। ‘সাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র’ কিংবা ‘অগণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িকতা’ হলো সোনার পাথর-বাটির মতো অলীক কল্পনার অসম্ভব বিষয় মাত্র। অথচ সেই অবাস্তব ভ্রান্তি ও অপরাধমূলক রাজনৈতিক কৌশলের (অপকৌশলের!) ধাক্কায় দেশ আজ ডুবতে বসেছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হলো এদেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি দাবি করছে যে সে গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন ও সেজন্য সে সংগ্রাম করে চলছে। কিন্তু একই সাথে সে সাম্প্রদায়িকতাকেও ধারণ করে চলেছে। তার ‘জাতীয়তাবোধের’ মধ্যে ধর্ম পছন্দ গন্ধ বেশ স্পষ্ট, স্বঘোষিত ও প্রকাশ্য। বিএনপি কেবল সাম্প্রদায়িকতাকে আশ্রয় দিচ্ছে ও লালন করছে তাই নয়, স্বাধীনতা-বিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গি ফ্যাসিস্ট শক্তির সাথেও সে গাঁটছড়া বেঁধেছে। তাছাড়া, ঘোরতর মার্কিনপন্থি হওয়ায় বিএনপির ‘জাতীয়তাবাদ’ মোটেও জাতীয় মুক্তির ধারায় সমৃদ্ধ জাতীয়তাবাদ নয়।

সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগের গর্ভ থেকে আওয়ামী লীগের জন্ম। সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়েছিলো। কিন্তু সেই আদর্শিক দিক পরিবর্তনকে সুদৃঢ় করার আন্তরিক ও পর্যাপ্ত প্রয়াস সে কখনোই নেয়নি। বিভিন্ন সময়ের প্রায়োগিক প্রয়োজনে সে এক্ষেত্রে নানা ধরনের  শর্টকাটের ও আপোস করে চলার পথ গ্রহণ করেছে। এক-আধ সময় কিছুটা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় ও তাত্পর্যপূর্ণ অবস্থান নিলেও (যার গুরুত্ব কখনোই কমিয়ে দেখা একেবারেই ঠিক হবে না) অনেক সময়ই সে ক্ষমতার রাজনীতির প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির চাপের মুখে কৌশলী সহাবস্থানের পথ গ্রহণ করেছে। নির্বাচনে ‘ইসলামী ভোট’ হাত করার কৌশলের কথা বলে এ পথ গ্রহণের যৌক্তিকতা হাজির করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতাকে দৃঢ়তা, একাগ্রতা ও মৌলিকভাবে মোকাবেলা করার বদলে সেক্ষেত্রে কৌশল করে পথ চলার রাজনৈতিক ভ্রান্তি আওয়ামী লীগের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলেছে। বৃহত্তর সমাজের মধ্যে তার প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া সাম্রাজ্যবাদের প্রতি নমনীয়, আপোষমুখী ও কখনো-কখনো আত্মসমর্পণ-কারী নীতি নিয়ে চলার কারণে তার জাতীয়তাবাদও দৃঢ় জাতীয় মুক্তির ধারায় বিকশিত হচ্ছে না।

দৃঢ় অসাম্প্রদায়িক শক্তিরূপে বামপন্থি প্রগতিবাদীরা এসব পদস্খলনকে সামাল দিতে পারতো। এ কর্তব্য পালনে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাদের শক্তি সীমাবদ্ধতার কারণে সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করে দাঁড়ানোটা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের সাম্প্রদায়িকরণ ও সাম্রাজ্যবাদ—পদলেহনের প্রবণতা সে সব কারণে বেড়েছে।

নাগরিক সত্তার অসাম্প্রদায়িক পরিচয়বোধ গণতান্ত্রিক সমাজের একটি আবশ্যক উপাদান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কাছে ধর্ম-বর্ণ-জাতি-বিত্ত পরিচয় নির্বিশেষে সবাই হলো একই ‘নাগরিক’ পরিচয়ে মূর্তমান। হিন্দু হোক বা মুসলমান হোক, আমির হোক বা ফকির হোক, পুরুষ হোক বা নারী হোক, বাঙালি হোক বা আদিবাসী হোক—রাষ্ট্রের সামনে সকলেরই প্রাথমিক পরিচয় হলো এই যে, তারা সবাই রাষ্ট্রের সমমর্যাদাসম্পন্ন ‘নাগরিক’। এই যদি হয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থার দার্শনিক ভিত্তি তাহলে সেখানে সাম্প্রদায়িক বিবেচনা কখনোই প্রধান হতে পারে না। কিন্তু ব্যক্তির বা সমষ্টির সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে প্রধান রূপে গণ্য করেই পরিচালিত হয় সাম্প্রদায়িকতার ধারা। সে কারণে গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতা হলো পরস্পরের বৈরী মতবাদ ও ব্যবস্থা। সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করার পথ ধরেই কেবল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে। সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে অথবা সাম্প্রদায়িকতা নির্মূলের লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রামকে পেন্ডিং রেখে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া যায় না। যারা সাম্প্রদায়িকতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও লালন করে অথবা সাম্প্রদায়িকতাকে কৌশলগত ছাড় দিয়ে চলে, গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে তারা হয় ‘ভুয়া’ নয়তো ‘ভেজাল’।

এদিকে গণতান্ত্রিক হওয়ার বিষয়টিও একেবারে সহজ নয়। গণতন্ত্র একটি বহুমাত্রিক বিষয়। তার যেমন রয়েছে অর্থনৈতিক মাত্রা তেমন রয়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক, প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত নানা মাত্রা ও উপাদান। আমাদের দেশে এখন বাজার অর্থনীতি প্রচলিত। বাজার অর্থনীতি জন্ম দিয়েছে বাজার রাজনীতির। দেশে চলছে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরতা। তা থেকে জন্ম নিয়েছে সাম্রাজ্যবাদের তোয়াজ ও তাঁবেদারী করার রাজনীতি। দেশে চলছে লুটপাটের অর্থনীতি। তা থেকে জন্ম নিয়েছে লুটপাটের রাজনীতি। গণতন্ত্রের সাথে এসবের রয়েছে সরাসরি সংঘাত। প্রচলিত অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থায় গণতন্ত্র দৃঢ়মূল করা সম্ভব নয়। যেটুকু সম্ভব তা লেবাসী গণতন্ত্রের বেশি কিছু নয়। কিন্তু সেটুকুও বা আজ রয়েছে কই? দেশের বড় একটি বিপদ এক্ষেত্রেই। এ বিপদ বার বার দেশকে আঘাত করেছে। আজও সে বিপদ বিদ্যমান রয়েছে।

ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া বিএনপির মাঝে এখনো রয়েছে মিলিটারি কায়দা-কানুন ও মেজাজের অস্তিত্ব। স্বৈরাচারী এরশাদী শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি তার জন্মগত বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত হতে পারেনি। আওয়ামী লীগের জন্ম ও ইতিহাস ভিন্ন ধারার। তবে রাষ্ট্র ক্ষমতার ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়ার কারণে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার কর্তব্যটি তার কাছে অপ্রধান ও ক্ষেত্রবিশেষে পরিত্যাজ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার অভাব রয়েছে। উভয় দলই ‘ব্যক্তি পূজা’, ‘সুপ্রিমো’-সংস্কৃতি ইত্যাদিতে কম-বেশি আচ্ছন্ন হয়ে আছে। সামন্তবাদী জমিদারী রেওয়াজের সাথে আধুনিক কর্পোরেট ব্যবস্থার সিইও ভিত্তিক ‘হায়ার এ্যান্ড ফায়ার’-এর সংস্কৃতি যুক্ত হয়ে দল দু’টি কার্যত ‘ব্যক্তি মর্জিতে’ চালিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও তারা একই পন্থা অনুসরণ করছে। ফলে গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

গণতন্ত্রের পথে দেশের অগ্রযাত্রা আজ কঠিন সংকটে পড়েছে। ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘মৌসুমি’ দুর্যোগ আবার হানা দিয়েছে। এবার পেট্রোল বোমার ভয়াবহতা যুক্ত হয়েছে। এই দুর্যোগ জনজীবনের ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও বেশ বিপজ্জনক। তার কারণ প্রতিবারের ন্যায় এর সাথে এবারও ক্ষমতার দ্বন্দ্বকেন্দ্রিক ‘কী ধরনের সরকার ও ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন হবে’ সেই ইস্যুটির সাথে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচারের ইস্যুটিও যুক্ত রয়েছে। প্রথমটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিষয়, কিন্তু দ্বিতীয়টি হলো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। জামায়াত-শিবির-হেফাজত প্রভৃতি শক্তি দ্বিতীয় ইস্যুটি নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী তত্পরতায় লিপ্ত। গণতান্ত্রিক বিবেচনা দাবি করে যে, প্রথম বিষয়টি মীমাংসা হবে আলাপ-আলোচনা-সমঝোতা ও জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছার অভিব্যক্তি রূপে। আর দ্বিতীয় বিষয়টিকে হতে হবে সব গণতান্ত্রিক-দেশপ্রেমিক শক্তির একজোট হয়ে মোকাবেলা করার বিষয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের ক্ষেত্রে জামায়াত-শিবির-হেফাজত প্রভৃতি শক্তি হওয়া উচিত সাধারণ মূল টার্গেট। কিন্তু সেরূপ না হয়ে আদর্শের বিষয়ের চেয়ে ক্ষমতার ইস্যুর বিবেচনাটি প্রধান বলে গণ্য হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রধান টার্গেট হয়ে থাকছে জামায়াত-শিবির-হেফাজতের পরিবর্তে বিএনপি, এবং বিএনপির প্রধান টার্গেট আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একপক্ষ গণতন্ত্রের ধুয়া তুলে জামায়াত-শিবির-হেফাজতকে মাথায় তুলেছে, আর অপরপক্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার কথা বলে গণতন্ত্রের চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ক্ষুণ্ন করছে। এই দু’দলের ভ্রান্তি ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সুযোগে জামায়াত-শিবির-হেফাজত প্রভৃতি শক্তি আজ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বস্তুত একধরনের যুদ্ধ তত্পরতা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও বিচারাধীন তাদের নেতাদের মুক্ত করতে চাচ্ছে, বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত চেতনা ও ধারা থেকে সম্পূর্ণ-পথচ্যুত করে এদেশে পাকিস্তানি জামানার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিএনপিকে বাদ দিয়ে ‘একতরফা’ নির্বাচন অনুষ্ঠানকে অনেকে একটি ‘কাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা ছিলো বলে মনে করে থাকেন। এরূপ মনে করার পেছনে যুক্তিরূপে বলা হয়ে থাকে যে, সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদ নিশ্চিত ছিলো না। বিএনপির জয়লাভের সম্ভাবনা ছিলো। বিএনপি জয়লাভ করলে তার কাঁধে ভর করে জামায়াত-শিবির-হেফাজত ক্ষমতায় চলে আসতো। ক্ষমতায় আসলে তারা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দিতো। দেশকে সাম্প্রদায়িকতার ধারায় নিয়ে যেতো। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতো ইত্যাদি।

একথা সত্য যে, এসব আশংকা উড়িয়ে দেয়ার মতো ছিলো না। একথাও সত্য যে, এই বিপদ মোকাবেলা করা প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দেশদ্রোহী অপশক্তিকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে ‘একতরফা’ নির্বাচন আশীর্বাদ না অভিশাপ? যারা একে আশীর্বাদ বলছে তাদের যুক্তি হলো সকলের অংশগ্রহণের নির্বাচন হলে তাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখা যেতো না ও দেশ স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতো। এরূপ অবস্থা ঠেকানোর জন্য নির্বাচন নিয়ে অনৈতিক নানা কলাকৌশল ও ছল-চাতুরির আশ্রয় নেয়া ছাড়া উপায় ছিলো না। অর্থাত্ ‘সাম্প্রদায়িক বিপদ’ মোকাবেলা করার প্রয়োজনে ‘গণতন্ত্রকে’ কালিমালিপ্ত করাটা প্রয়োজন এবং সে কারণে সঠিক ছিলো। কিন্তু ইতিহাস এই শিক্ষা দেয় যে, অসত্ পথে কোনো সত্ লক্ষ্য হাসিল করা যায় না। ‘সাম্প্রদায়িক বিপদ’ মোকাবেলার জন্য ‘গণতন্ত্রকে’ কালিমালিপ্ত করে গৃহীত পদক্ষেপ সেই বিপদকে সাময়িকভাবে দমিত করতে পারলেও তা যে অন্যভাবে এই বিপদের শক্তিকে বাড়িয়ে তোলার সুযোগ করে দিবে তা প্রায় অনিবার্য। ‘আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে’—একথা বলে তারা তাদের সপক্ষে গণসহানুভূতি আরো বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। ফলে, ‘গণতন্ত্রকে’ কালিমালিপ্ত করে গ্রহণ করা ছল-চাতুরির পদক্ষেপ ‘সাম্প্রদায়িক বিপদকে’ মোকাবেলার বদলে তাকে নতুন শক্তির রসদ সরবরাহ করে। একথা মনে রাখতে হবে যে, জনসমর্থনবিহীন ছল-চাতুরি ও দমন-পীড়ন নির্ভরতায় ‘সাম্প্রদায়িক বিপদ’ মোকাবেলা করা যাবে না। লুটপাট, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গসহ যে হাজারটি অপকর্ম চলছে তার উত্স দূর করতে না পারলে জনসমর্থন অর্জন করা যায় না। এক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করে নেয়া অনৈতিক রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণের ভ্রান্তি দেশের ভবিষ্যেক আরো বিপদাপন্ন করে তুলবে। তাই নিম্নোক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ দু’টো কথাই স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করে পথ চলতে হবে। সাম্প্রদায়িকতাকে বহাল রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যেমন অসম্ভব, তেমনি গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করে সাম্প্রদায়িক বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়াও সম্ভব নয়।

 লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি


এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৬ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫১
যোহর১২:০৮
আসর৪:২৮
মাগরিব৬:১১
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৬:০৭সূর্যাস্ত - ০৬:০৬
পড়ুন