বিদেশি জাহাজকে মাছ ধরার অনুমতি বিপজ্জনক
মো. মজিবুল হক মনির১৩ মার্চ, ২০১৭ ইং
বিদেশি জাহাজকে মাছ ধরার অনুমতি বিপজ্জনক
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরের জন্য সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার করে একসঙ্গে কাজ করতে ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। জার্কাতায় অ্যাসোসিয়েশন সামিটে অংশ নিয়ে এই সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অপার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারত এবং ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১১০০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অধিকার লাভ করে। এই এলাকার সম্পদ আহরণ বা সদ্ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশের তালিকায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের সময় এখন। বিশাল এই সমুদ্র একটি সম্ভাবনা, কিন্তু যথাযথভাবে এর সংরক্ষণ না করা হলে তা আমাদের জন্য হুমকির কারণও হতে পারে। এই এলাকায় নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে মজবুত করতে হবে আগে। কিন্তু সম্প্রতি অনুমোদিত খসড়া সামুদ্রিক মত্স্য আইন ২০১৬-তে আবারও বাংলাদেশের সমুদ্র জলসীমায় বিদেশি জাহাজকে মত্স্য আহরণের সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৮৩ সালে তত্কালীন সরকার প্রণীত সামুদ্রিক মত্স্য অধ্যাদেশে বিদেশি জাহাজ বা নৌযানকে বাংলাদেশের জলসীমায় মত্স্য আহরণের লাইসেন্স প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়। ৯০-এর পর গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে এই সুযোগ রহিত করার দাবি ছিল সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। বর্তমান সরকারের কাছে এই দাবি এখন আরো প্রাসঙ্গিক।

বঙ্গোপসাগরে কী পরিমাণ সম্পদ আছে প্রায় ১৮ বছর ধরে এর কোনো জরিপই নেই। গত ডিসেম্বর থেকে এমভি মীন সন্ধানী নামের একটি জাহাজ জরিপ শুরু করেছে, যার ফল পেতে সময় লাগবে আরো তিন বছরের মতো। তাই সমুদ্র সম্পদের উপর জরিপ না চালিয়েই বড় বড় মাছ ধরার জাহাজের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে যা যৌক্তিক নয়। বর্তমানে মাছ ধরার বড় ট্রলার আছে ২২৫ টির মতো, যান্ত্রিক নৌযান আছে প্রায় ৬৮ হাজার। স্বাধীনতার পর ট্রলারের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। কতটুকু সম্পদ আছে তার বৈজ্ঞানিক জরিপ ছাড়া মাছ ধরার ট্রলারের সংখ্যা বাড়ছে, জেলেদের সংখ্যা বাড়ছে, মাছের সংখ্যাও কমছে, যদি বিদেশি জাহাজের দৌরাত্ম্যও বাড়ে তাহলে দেশের জেলেদের সংকট আরো তীব্র হওয়াই স্বাভাবিক।  সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদে বলা আছে যে, কোনো দেশের মত্স্য সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকলে, সে তার জলসীমায় বিদেশি জাহাজকে মাছ ধরার অনুমোদন দিতে পারে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মত্স্য সম্পদ দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, তা ছাড়া এই সম্পদ উদ্বৃত্ত সম্পদ কিনা তারও কোনো বিজ্ঞানসম্মত জরিপ নেই, তাই  বিদেশি জাহাজকে নিজের এলাকায় মাছ ধরার অনুমোদন প্রদানে বাংলাদেশ আইনত বাধ্য নয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে যারা সমুদ্রে মাছ ধরেন তাদের প্রায় ৮৭ ভাগই বিভিন্ন সনাতনী পদ্ধতিতে মাছ ধরে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা হয়ত মাছ ধরতে পারবেন না, কারণ বড় বড় ব্যবসায়ী, ট্রলার মালিক, বিদেশি জাহাজ আধুনিক নানা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাছ ধরে নিয়ে যাবে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এই দেশের প্রান্তিক জেলেরা।

তাছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সম্পদে অনেকেরই নজর রয়েছে। তাই মাছ  ধরার লাইসেন্স নিয়ে যেসব যান এই দেশে ঢুকছে সেগুলোর উপর কড়া নজরদারি না করলে সেটা পুরো দেশের জন্যই বড় নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। বিদেশি জাহাজ বাংলাদেশের এলাকায় খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান করতে পারে, সম্পদ চুরি করতে পারে, এমনকি নানা সামরিক উদ্দেশ্যও চরিতার্থ করতে পারে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তাই দেশের জলসীমায় বিদেশি মাছ ধরার নৌকাকে মাছ ধরার অনুমোদনের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখাই হবে যুক্তিযুক্ত।

n লেখক :বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ মার্চ, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন