মেরিন ড্রাইভ সত্যিই অপূর্ব
মাহবুবা আহসান২০ মে, ২০১৭ ইং
মেরিন ড্রাইভ সত্যিই অপূর্ব
সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন পরিব্রাজক ও পর্যটকদের এ দেশে আগমন তারই সাক্ষ্য বহন করে। সপ্তম শতাব্দীতে প্রখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডের মধ্যে এসে উচ্ছ্বসিত হয়ে উচ্চারণ করেছিলেন- “A sleeping beauty emerging from mists and water.” তিনি এই জনপদের সুপ্ত সৌন্দর্যটিকে কুয়াশা এবং পানির অন্তরাল থেকে ক্রমশ উন্মোচিত হতে দেখেছিলেন। প্রাকৃতিক লীলাভূমির দেশ-আমাদের এই বাংলাদেশ। এর অপরূপ সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। মনে ছড়িয়ে দেয় মনোহরী রং। কক্সবাজার বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের পাড় দিয়ে চলে যাওয়া ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সর্ববৃহত্ মেরিন ড্রাইভ সত্যিই অপূর্ব, মনোরম ও মনোমুগ্ধকর। একদিকে উত্তাল বাধাহীন সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউ-এর মন-মাতানো লীলাখেলা অন্যদিকে সুউচ্চ পাহাড়শ্রেণি মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া মেরিন ড্রাইভ প্রকৃতি প্রেমিককে সৌন্দর্যের সাগরে করে অবগাহন আর ভাসিয়ে নিয়ে যায় কোন সুদূরে কেউ তা জানে না। এটি ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। শুধু অনুভবে তৃপ্তি মেলে।

সবশেষে বলতে চাই—বাংলাদেশে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ঘোষণার মাধ্যমে ১৯৯১ সালে পর্যটনকে সর্বপ্রথম শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। পর্যটন শিল্পের প্রসারের ক্ষেত্রে বিদেশিদের পাশাপাশি ইদানীং দেশি পর্যটকদের মধ্যেও এর প্রতি বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুতরাং এ শিল্পের নানা সুযোগ-সুবিধার প্রতি সরকারকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া পর্যটনে বেসরকারি বিনিয়োগের গুরুত্বও অপরিসীম। মনে রাখতে হবে বর্তমান বিশ্বে বিশ্বায়নের প্রভাব অনিবার্য। বিশ্বায়নের প্রধান তাত্ত্বিক “রোনাল্ড রবার্টসন” একে অভিহিত করেছেন বিশ্বের সংকোচন এবং পরস্পর নির্ভরশীলতা বলে। বিশ্বায়নের উদ্দেশ্য একত্রীকরণ। বিশ্বায়নের ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সব রকমের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হয়।

বর্তমানে প্রযুক্তিগত বিশ্বায়ন তথ্যগত বিশ্বায়নকে আরো গতিশীল করেছে। যেমন- ইন্টারনেট, ই-মেইল, ই-কমার্সের বদৌলতে এখন ঘরে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব হচ্ছে। আবার প্রযুক্তিগত এবং তথ্যগত বিশ্বায়নের ফলে অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন ঘটছে খুব দ্রুত। বিশ্বব্যাংক, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিকে যেভাবে প্রভাবিত করছে তাতে কোনো একটি দেশের পক্ষে আর বিচ্ছিন্ন থাকা সম্ভব নয়। বিশ্বায়নের প্রভাব ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। বিশেষ করে অর্থনীতি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর প্রভাব সর্বাধিক। আমরা সকলে সচেতন হলেই গড়ে উঠবে এক জাতি, এক প্রাণ ও একতা।

তাই মনে রাখতে হবে—এই মেরিন ড্রাইভ আর এই সমুদ্র সৈকত কেবল আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশেই শেষ নয়। আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, গ্লোবাল ভাবমূর্তির উন্নয়ন; জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্থানান্তর; অবাধ বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদিও সম্ভব হবে একদিন। সেই দিন আর বেশি দূরে নয়—যেদিন বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর বুকে এক স্বর্গভূমি। ভবিষ্যতের এ প্রত্যাশায়...।

n লেখক :এসিস্টেন্ট জেনারেল ম্যানেজার, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন