ফাঁদ আমরা নিজেরাই তৈরি করছি
মাকসুদ আলম মিলন১৯ জুন, ২০১৭ ইং
প্র কৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ করলে প্রকৃতিও আমাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবে, এটাই কি স্বাভাবিক নয়? প্রকৃতির ওপর আমরা যে পুরোপুরি নির্ভরশীল তা বলাই বাহুল্য। প্রকৃতি এবং পারিপার্শ্বিকতা আমাদের জীবন প্রবাহের দিকনির্দেশনা, কায়দা-কানুন ঠিক করে। আর আমরা আমাদের সুবিধা মতো করে সাজিয়ে, গুছিয়ে নিই। সঙ্গে ঠিক করি কোনটা গ্রহণযোগ্য কোনটা অগ্রহণযোগ্য।

পাহাড় ধসের ঘটনা নতুন কিছু নয়। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় আলোচনা হচ্ছে, সমালোচনা হচ্ছে। আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার কারণ খুঁজতে একটা বিষয়ই বার বার সামনে আসে তা হচ্ছে আইন ভাঙার মহড়া। যদি লক্ষ করি তাহলে দেখা যায়, গত ১০ বছরে চট্টগ্রামে এপর্যন্ত প্রায় ২০০ লোকের মৃত্যু ঘটেছে। চট্টগ্রাম শহরে সর্বপ্রথম পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে ১৯৯৯ সালের ১৩ আগস্ট। ওইদিন সিআরবি পাহাড়ের একাংশের সীমানা প্রাচীরসহ পাহাড় ধসে মারা যান ১০ জন। ২০০০ সালের ২৪ জুন চবি ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকাসহ নগরীতে পাহাড় ধসে নিহত হন ১৩ জন। ২০০৭ সালের ১১ জুন নগরীর সাত স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণ হারান ১২৭ জন।

২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট মতিঝর্ণায় পাহাড় ধসে মারা যান ১১ জন। ২০১১ সালের ১ জুলাই বাটালী হিলের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭, ২০১২ সালের ২৬ জুন নগরীর ৪ স্থানে পাহাড় ধসে ১৮, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি খুলশী থানার ইস্পাহানী গোলপাহাড় সি গেট এলাকায় সাহারা খাতুন নামে এক গৃহবধূ, ২৮ জুলাই ভোর ৫টার দিকে লালখান বাজারের টাংকির পাহাড় ধসে মা ও মেয়ে, ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই ঈদুল ফিতরের রাতে দুটি স্থানে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ৫ শিশুসহ ৬ জন, ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই ও ২১ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ পাহাড় ধসে মোট ৮ জনের প্রাণহানি ঘটে।

পাহাড় ধস প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো— পাহাড়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নীতিমালা প্রণয়ন, নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ, বালি উত্তোলন নিষিদ্ধকরণ, পাহাড়ের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নির্মাণের অনুমতি না দেওয়া ও ৫ কিলোমিটারের মধ্যে হাউজিং প্রকল্প না করা ইত্যাদি। কিন্তু গত ১০ বছরেও এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যায়নি।

বিপদের ফাঁদ কিন্তু আমরা নিজেরাই তৈরি করছি। আর সেই ফাঁদে আটকা পড়ে ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত হচ্ছে। আইনের শিথিল প্রয়োগ এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। আইন প্রয়োগ করে যদি আগে থেকেই অনিয়মগুলো দমিয়ে রাখা যায়, তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে নিঃসন্দেহে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৯ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন