আলোকপাত
প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা
আলী হোসেন শুভ২১ জুন, ২০১৭ ইং
অনেকদিন আগে শরত্চন্দ্রের একটা চিঠি পড়ে কেঁদেছিলাম। শরত্ বাবু টাকার অভাবে স্কুল ফাইনাল দিতে পারেননি বলে লিখেছেন চিঠিতে। চিঠিটা বর্ধমানের এক ভক্তকে লিখা। শরত্ বাবু কেন, সবাই নিজের প্রয়োজনে একসময় চিঠি লিখত। সময়ের ব্যবধানে এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে চিঠি আজকাল প্রায় হারিয়েই গেছে। মা-বাবার কাছে টাকা চেয়ে যেমন আজকাল আর চিঠি লিখতে হয় না, তেমনি মা-বাবাও সন্তানের জন্য টাকা পাঠিয়ে আর পত্র লিখে না। যাহোক, সময়ের ব্যবধানে সমাজ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক। শুধু পরিবর্তন নয়, প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার ফলে মানুষের জীবন উন্নয়নের বিশেষ ধাপে উন্নীত হয়েছে। মোবাইল, কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের কল্যাণে আমরা শুধু নিকটাত্মীয়দের খবরই জানতে পারি না বরং সারা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ছোট কিন্তু কার্যকর যন্ত্র মোবাইলের জন্য এদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সেই সঙ্গে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যবহার মানুষের জীবনকে আরো গতিময় করেছে। এখন আর দূরে থাকলেও অভিভাবকদের গাঢ় চিন্তায় নিমজ্জিত থাকতে হয় না। সহজলভ্য মোবাইলের বদৌলতে চিন্তা-ভাবনা অনেক কমেছে। সহজেই অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-শ্লোগান দিয়ে বর্তমান সরকার পুরো জাতিকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিল। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই এদেশের শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণের হাতে স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ শোভা পাবে। সবাই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে। সবাই পরিবর্তন চায়। উন্নয়নের অংশীদার হতে চায়। আর তাই প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়তে, সকল পেশাজীবী মানুষকে এগিয়ে নিতে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম তৈরি করতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এদেশের সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিটি অভিভাবকই চায় তার সন্তান প্রযুক্তির স্পর্শে বেড়ে উঠুক, এগিয়ে যাক, এগিয়ে নিক পিছিয়ে থাকা দেশটাকে। শুধু অভিভাবকগণ নয় সচেতন প্রতিটি মানুষের একই স্বপ্ন, একই প্রত্যাশা।

সাধারণ নিয়ম মতে, সব কিছুর ভালো দিকের বিপরীত একটা দিক থাকে। তেমনি আমাদের খুঁজে দেখা দরকার মোবাইল আর ইন্টারনেটের খারাপ দিকটা কী? বস্তুগত দিক থেকে মোবাইল আর ইন্টারনেটের কোনো খারাপ দিক নেই, যত খারাপ দিক পরিলক্ষিত হয় তার সবই ব্যবহারগত দিক থেকে। সফলতার পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অপব্যবহার পুরো জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে। ইদানীং পত্রিকার পাতা খুললেই নজরে পড়ে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও চিত্রের খবর। পরিণাম আত্মহত্যা। এসিড সন্ত্রাস, ইভটিজিং আর এখন মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ। উপকারী বস্তুটি আজ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা আক্রান্ত হচ্ছে। অপমান, অপবাদ, লজ্জা থেকে পরিত্রাণ পেতে কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছে।

অতএব, অভিভাবক হিসেবে সন্তানকে মোবাইল, ল্যাপটপ কিনে দিয়ে দায়িত্ব পালন করলেই চলবে না, তারা কী করছে সে সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন