আরশিনগর
বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক মুসলিম সমাজ
বাহার উদ্দিন১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক মুসলিম সমাজ
কবি মহম্মদ ইকবাল লিখেছিলেন, হাজার হাজার বছর জুড়ে নার্গিস তার জ্যোতিহীনতা (বেনুরি) নিয়ে রোদন করতে থাকে, কিন্তু কখনো কখনো হঠাত্ একজন ইকবালের জন্মে ছড়িয়ে পড়ে আলো। রবীন্দ্রনাথ নিজের প্রতিভার উন্মোচন নিয়ে কখনও এই ভাষায় বলেননি। কিন্তু তার বাইরের আমির আবরণে যে ‘আমি’ ঢাকা থাকত তাকে নানাভাবে গল্পে, কবিতায়, নাটকে, বিশেষ করে গানে আমাদের শুনিয়ে গেছেন। ব্যক্তিপ্রতিভা সব সময় আলাদা আর আত্মসচেতন, ঐতিহ্য ছ্ুঁয়ে তার বিস্তার ঘটে, এই বিস্তৃতির পথেই সে সময় আর ভবিষ্যতের দিশারী হয়ে ওঠে। সমাজও তাকে নিয়ে ভাবতে থাকে। আবার বরেণ্য ব্যক্তি যদি হন কোনো নিকটতম বন্ধু বা আত্মার অকৃত্রিম আত্মীয় তাহলে তাকে নিয়ে তার জীবদ্দশায় লিখতে বা বলতে প্রবল সংশয় আর অস্বস্তি ঘেরাও করে। ভয় হয় স্তাবকতার অভিযোগ উঠতে পারে। তবু এক স্বাভাবিক প্রশ্ন—কেউ যদি সমাজের মঙ্গলবোধ নিয়ে ভাবতে থাকেন, কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার ইহজাগতিক কাজকর্ম, আর দায়বদ্ধতাকে কি আমরা কেবল সংশয় আর অস্বস্তির আড়ালে ঢেকে রাখব?

আমাদের ধারণা, এই ধরনের নিষ্ঠাবান আর মঙ্গলবোধের প্রবক্তাদের নিয়ে নিরন্তর বলা আর ভাবা প্রয়োজন। এতে সমাজ উত্সাহিত হয়, খুঁজে পায় দিশা। প্রতিভার জীবদ্দশায় তাকে নিয়ে, তার কাজ নিয়ে বিশ্লেষণ সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম দাবি। এই দাবিকে মনে রেখেই, আজ এমন একজনকে নিয়ে কথা বলতে চাইছি, যিনি তার অজান্তে শুধু কাজ, নিষ্ঠা আর নৈতিকতার দৌলতে বিভক্ত পশ্চিমবঙ্গে, বাংলার বাইরে, উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম ভারতে প্রশ্নহীন শিক্ষাব্রতী হিসেবে সুপরিচিত। বাংলাদেশ তাকে কতটা চেনে, কতটা তার খবর রাখে, আমরা জানি না। যারা দেশবিভাগের পরের অখ্ল বাংলার অর্থনীতি আর সামাজিক সংস্কৃতি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে আগ্রহী, তারা অবশ্যই এই ব্যক্তিপ্রতিভাকে তার দায়বদ্ধতাকে খতিয়ে দেখবেন, আশা করছি। বলতে দ্বিধা নেই, এই শতাব্দীর শুরুতে আমিও তার ব্যাপারে বিশেষ ওয়াকিবহাল ছিলাম না। শুধু জানতাম, তিনি বহুমুখী ব্যবসার একজন সফল কারিগর।

২০০১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। হালকা শীতের বিকেল। মধ্য কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের ওপারে একটি মাঠে আজকাল পত্রিকার উদ্যোগে ফুটবল ম্যাচ হচ্ছিল। খেলায় আমার তেমন আগ্রহ নেই। তবু যেহেতু অফিসের ব্যাপার, যেতে হলো। মাঠের একপাশে সামিয়ানার নীচে অপ্রশস্ত মঞ্চ। হাজির ক্রীড়াজতের বহু গণ্যমান্য। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ আর ভাষণ পর্ব। একে একে অনেকেই সংক্ষেপে বললেন। সঞ্চালক অশোক দাশগুপ্ত (আজকাল সম্পাদক) তার পাশেই উপবিষ্ট একজনকে দেখিয়ে বললেন, এবার বলবেন বাংলার সবচেয়ে বড়ো উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী। এরিয়ান ক্লাবের সভাপতি। সবচেয়ে বড়ো ব্যবসায়ী কথাটা কানে বাজল। মনে হল অবিশ্বাস্য। অতিরঞ্জন। কিন্তু অশোকবাবু বাড়িয়ে বলার লোক নন। স্বল্পভাষী। যা বলেন দৃঢ়চিত্তে। বাস্তবকে খতিয়ে দেখে। খেলার অনুষ্ঠান শেষে অফিসে ফিরে এলাম। ব্যস্ত সন্ধ্যা । হঠাত্ সম্পাদকের কক্ষে ডাক পড়ল। বললেন, ইনি মোস্তাক হোসেন। ওর বাড়ি মুরশিদাবাদের ঔরাঙ্গবাদে। ওঁদের এলাকা একবার ঘুরে আসুন। এটাই মোস্তাক হোসেন-এর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। প্রথম আলাপ। দিন কয়েক পর তার সঙ্গে আবার দেখা। বললেন, পীড়িত অবরুদ্ধ বাঙালি মুসলিমদের নিয়ে ভাবতে হবে। বললাম, শুনেছি হাওড়ার খলাতপুরে আল আমীন মিশন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বললেন, তুমি যাবে? তাহলে আগামী রবিবার যেতে পার, আমার সঙ্গে। কলকাতা থেকে তিনঘণ্টার পথ। স্কুলটি বেসরকারি, মুনাফাবর্জিত। হাজির হয়ে দেখি, বিশাল চত্বরে বিশাল বিল্ডিং। হাজির কয়েক হাজার অভিভাবক আর ছাত্র-ছাত্রী। ওখানে গিয়েই বুঝতে পারি, বিভাগোত্তর বাংলায়, গ্রামাঞ্চলকে ঘিরে মুসলিম মধ্যবিত্তের অদ্ভুত বিকাশ ঘটছে। স্কুলের রেজাল্টের উজ্জ্বলতায়, শৃঙ্খলায় আমি মুগ্ধ। ফিরে এসে ‘বিদ্যার অভিনব সূর্যোদয়’ নামে একটি লেখা লিখতে ভাবাবেগ আমাকে বাধ্য করল। লেখাটি পড়ে অনেকেই বিস্মিত। বললেন, প্রান্তিক মুসলিম সমাজে নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তখন খানিকটা অসুস্থ। চলাফেরা করতে পারেন না। কানে শোনেন না। চিঠি লিখে জানালেন, বাহার তোমার লেখায় আল আমীন বিদ্যালয়ের খবর পড়ে আমি অভিভূত। পা-টা যদি সচল থাকত, এক্ষুণি ছুটে যেতাম। তুমি ওদের বলো, আমার লাইব্রেরির সব বই ওদের স্কুল গ্রন্থাগারে দান করতে চাই। মৃণাল সেন ফোনে জানালেন, আমি এ স্কুলকে আমার সংসদ তহবিল থেকে এক কোটি টাকা দিতে চাই। কথা রেখেছিলেন বিশ্ববরেণ্য চিত্র পরিচালক।

মোস্তাক হোসেন, এই বিদ্যাঙ্গনের আল আমীন মিশনের নিছক পৃষ্ঠপোষক নন। সব অর্থে তার দিশারী। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যারা পীড়িত, অনগ্রসর, বিত্ত আর চিত্তের দৈন্যে দিশাহারা, তাদের সবার একান্ত ভরসা। তার বহুমুখী ব্যবসার আয় কত, ব্যয় কত, এটা আমাদের লেখার বিষয় নয়। বাণিজ্য আর শিল্পের হাত ছুঁয়ে অর্থ অনেকেরই সঞ্চিত হয়। কিস্তু আয়ের উদ্বৃত্ত অংশকে কীভাবে জনকল্যাণে শিক্ষাখাতে ব্যয় করেন, সেটাই প্রশ্ন। মোস্তাক প্রধানত কৃষক পরিবারের সন্তান। এককালে, তাদের বিস্তর জমিজমা ছিল, পদ্মার ভাঙনে আর দেশভাগে মুরশিদাবাদের যে বিপর্যয় শুরু হয়েছিল, তা থেকে তার পরিবারও রেহাই পায়নি। বাবা গিয়াসুদ্দিন বিশ্বাস বিশেষ লেখাপড়া করেননি। পরিবারের অমতকে অতিক্রম করে ব্যবসা শুরু করলেন। সম্ভবত ’৫২ সালে।  মূল পুঁজি স্ত্রীর গয়না বিক্রির ১০.৫০ পয়সা। হাড়ভাঙা পরিশ্রম। নিজেই উত্পাদক। নিজেই পণ্য বিক্রেতা। ব্যবসার ব্র্যান্ড-এর নাম কী হবে, জানা নেই। হুগলির আরামবাগের বড়ো সড়কে কাঠের বোঝা নামিয়ে বসে আছেন। পণ্য বোঝাই একটি লরি ছুটে যাচ্ছে, জাতীয় পতাকার নিচে নম্বর ৫০১। দেখেই তিনি চমকিত। ভাবলেন, আমার পণ্যের ব্র্যান্ড নাম হবে পতাকা ৫০১। এখান থেকেই নব উদ্যমে তার ব্যবসার আরম্ভ। প্রধানত বাংলায়, খানিকটা বাংলার বাইরে। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্টার্ড অ্যাকাউটেনসির মেধাবী ছাত্র মোস্তাক হোসেনের মেহনতে এই ব্যবসা, অন্যান্য বাণিজ্য দিগ্বিজয়ী হয়ে উঠল। তাদের বাজার তৈরি হলো উত্তর ও পশ্চিম ভারতে, বিদেশেও।

কারও ব্যবসার টার্নওভার নিয়ে কথা বলা শোভনীয় নয়। তথ্য জানানোর খাতিরে শুধু এইটুকু বলা প্রয়োজন, পতাকা আর তাদের অনুসারীদের ব্যবসা গড়ে না উঠলে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম, মালদা, ঝাড়খণ্ড, বিভক্ত দিনাজপুরের শিক্ষাহীন, দরিদ্র শ্রমিকদের বহির্মুখী গতি হয়তো আরও বাড়ত। সম্প্রতি একটি খসড়া সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গে পতাকা গোষ্ঠীর পিএফ ভুক্ত কর্মী অন্তত দু’লক্ষ। তার মানে, প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদি পাঁচজন হন, তাহলে দশলক্ষ মানুষের অন্ন জোগানোর দায়িত্ব তাদের কাঁধে। কয়েকবছর আগে, একটি বৃহত্ সংবাদপত্রে খবর বেরিয়ে ছিল যে, আইটিসি দৈনিক যা উত্পাদন করে, সে তুলনায় পতাকার কুটির শিল্পের ভেষজ দ্রব্য নির্মাণ দশগুণ বেশি। সম্প্রতি এই হার সম্ভবত আরও বেড়েছে। তার চেয়ে বড়ো বিষয় তাদের সমাজ ও শিক্ষা চিন্তা। এখানে প্রকৃত অর্থেই একটি বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি মুসলমানরা হাত-পা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তারা দলে দলে দেশ ছাড়েননি, কিন্তু দেশের ভেতরেই পরবাসী হয়ে বসবাস করতে লাগলেন। তাদের নিজেদের ভিন্ন পরিধির বাসিন্দা ভাবতে থাকলেন। শিক্ষিত আর অশিক্ষিত উভয় অংশকে গ্রাস করল বিচ্ছিন্নতা, বৃহত্তর সমাজের আলোকিত অংশ—আবু সয়ীদ আইয়ুব, সৈয়দ মুজতবা আলী, আবু মহম্মদ হবিবুল্লাহ, কাজী আব্দুল ওদুদ, হুমায়ুন কবীর, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ—এ রকম আরও বহু প্রতিভাকে যথাযোগ্য সম্মান দেখাল বটে, কিন্তু মুসলিম সমাজের সঙ্গে তাদের যে দূরত্ব তৈরি হলো, সে মর্মান্তিকতার আজও অবসান নেই। মৃত্যুর পর তারা প্রায় বিস্মৃত। দেশভাগের জন্য পূর্ববাংলা, বাংলাদেশ যেভাবে উপকৃত হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা ততটাই ক্ষতিগ্রস্ত। শিক্ষায় তারা পিছিয়ে। অর্থনীতিতে অনগ্রসর। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রায় শূন্য। রাজনীতিতেও জনসংখ্যার অনুপাতে সরব নয় উপস্থিতি আর প্রতিনিধিত্ব। এই ট্র্যাজেডির শেষ কোথায় কে জানে? এই প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতি আর সমন্বয়ের বহুত্ববাদকে স্পর্শ করে শিক্ষাখাতে, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হূদয়ের ক্ষত ছুঁয়ে গত শতাব্দীর ৯০ দশকের শুরুতে মোস্তাক উপলব্ধি করলেন—দারিদ্র্য মানুষকে কুরে কুরে খায়। তার আত্মবিকাশের পথকে আটকে দেয়। তাকে শিক্ষাহীনতার বেড়াজালে অবরুদ্ধ করে রাখে। অতএব অশিক্ষা আর দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে সমাজকে লড়তে হবে। কেবল বাণী দিয়ে, ভাষণ ছড়িয়ে নয়, ময়দানে নেমে, রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, ছুটতে ছুটতে গড়ে তুললেন একাধিক মুনাফাহীন বিদ্যাঙ্গন। যেখানে তাঁর আয়ের উদ্বৃত্ত অংশ খরচ হয়। যেখান থেকে প্রতিবছর শ শ ছাত্র উজ্জ্বল রেজাল্ট নিয়ে উচ্চতর শিক্ষালয়ে কারিগরি মহাবিদ্যালয়ে প্রবেশ করছে। আমরা প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছি, গত শতাব্দীর আশির দশকের গোড়ার দিকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যালে প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার সুযোগ পেত দুই থেকে তিন শতাংশ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৫ শতাংশের অধিক। ব্যক্তিপ্রতিভা আর তার সামাজিক চিন্তা কত সুদূরপ্রসারী, সমন্বয়বাদী, স্বপ্নময় হতে পারে, মুরশিদাবাদের ঔরঙ্গাবাদের

সমাজমনস্ক মোস্তাক হোসেন তার নিকটতম দৃষ্টান্ত। কেবল স্কুলের পর স্কুল প্রতিষ্ঠা করে থেমে থাকে না তার হূদয়বৃত্তি— প্রকৃত শিক্ষা কাকে বলে, ইসলাম বহুমাত্রিক শিক্ষা নিয়ে, দারিদ্র্য নিরসন নিয়ে কী ভেবেছে, কীভাবে ভাবতে বলেছে এসবেরও একাধিক সুচিন্তিত অভিব্যক্তি ছড়িয়ে আছে তার চিন্তা ও লেখায়। দ্বিতীয় ধর্মীয় দান খয়রাতের অর্থ (জাকাত, ফিতরা) কোন কোন ন্যায়নিষ্ঠ কৌশলে আধুনিক শিক্ষাখাতে খরচ করা দরকার, তারও অনুকরণযোগ্য নজিরের তিনি এক আধুনিকতম স্থপতি। যেমন বিদ্যাসাগরকে নিয়ে, বর্ধমানের মহারাজা মহতাব চন্দ্রের অবদান নিয়ে, হাজি মহম্মদ মহসিনকে নিয়ে, বেগম রোকেয়াকে নিয়ে, আলিগড় আন্দোলনের স্যার সৈয়দ আর দিল্লির জামিয়া মিল্লার হেকিম আজমল খানের শিক্ষা ও সমাজ চিন্তা নিয়ে ইতিহাস ভেবেছে, ভাবছে ঠিক তেমনই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বিভক্ত বাংলার সংশয়হীন বিবেক মোস্তাক হোসেনের সূচিত শিক্ষা আন্দোলনকে ঘিরে ভাবীকাল ভাববে, ভাবতে বাধ্য হবে। কেননা সমাজ বদলাচ্ছে। বদলাবে। দীনহীন পরিবেশে ক্রমশ প্রবেশ করছে আলো। কেননা বাংলার প্রান্তিক, কৃষিভিত্তিক সমাজ নিজের যুগোপযোগী নির্মাণ দাবি করছে।

n লেখক: ভারতীয় সাংবাদিক,

সম্পাদক, আরম্ভ পত্রিকা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন