শেখ হাসিনার সরকার ও স্বাধীন বিচার বিভাগ
ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
শেখ হাসিনার সরকার ও স্বাধীন বিচার বিভাগ
রাজধানীর পুরান ঢাকায় পথচারী বিশ্বজিত্ দাস হত্যা মামলায় রাষ্ট্র-পক্ষের করা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের করা আপিলের রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। এই রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত।

একসময় আমাদের দেশে একটা সাধারণ ধারণা জন্ম নিয়েছিল যে, সরকারি দল বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। আসলে এ ধারণা তৈরি হওয়া অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের ঘটনা এদেশে ঘটেছে। আমি বড় বড় ঘটনা নিয়ে কিছু লিখবো না। শুধু আজ থেকে এক দশক আগের পরিস্থিতির দিকে আলোকপাত করব।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপর দল দুটির ক্যাডাররা নৃশংস অত্যাচার চালায়।

সদ্য ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি-জামায়াত চক্রের দুই ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর অত্যাচার করে। সারাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কুখ্যাত নজির স্থাপন করে। এক পূর্ণিমা রানীর ধর্ষণের ঘটনাই জাতির বিবেককে স্তব্ধ করে।

এসব ঘটনায় বিচার হওয়া তো দূরের কথা, কেউ মামলা পর্যন্ত করতে পারেনি। যাও-বা কিছু মামলা করা সম্ভব হয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের প্রভাবে সেগুলোরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। এমন হত্যাযজ্ঞ, অত্যাচারের পরেও কোনো বিচারের নজির স্থাপন করতে পারেননি তখনকার বিচার বিভাগ। কেননা তখন আইনের স্বাভাবিক গতিধারায় প্রবলভাবে হস্তক্ষেপ করত সরকার।

পক্ষান্তরে আজকে আমরা দেখলাম সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের কথিত কিছু বিপথগামী ছাত্রনেতা তাদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। দুইজনের ফাঁসির রায় হয়েছে।

সত্যি কথা বলতে কী, বিশ্বজিত্ হত্যার পর এদেশে কেউই বিশ্বাস করেনি যে হত্যাকারীদের বিচার হবে। কেননা সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বিচার আদালত করতে পারে এরকম বিশ্বাসই ছিল না মানুষের। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আইনের নিজস্ব গতিতে অপরাধীদের বিচার হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত বিচার করে শাস্তি দিয়েছেন।

আমরা বার বার বলি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাতার কদর করি না। আজ বাংলাদেশে কোনো অপরাধীরই ছাড় নেই। যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হন না কেন অপরাধের শাস্তি পেতেই হচ্ছে। কেননা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সব সময়ই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তিনি যখনই ক্ষমতায় এসেছেন তখনই এদেশের বিচার বিভাগে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়েছে।

সবাই বলে, কোনো অপরাধীর দায় কোনো সংগঠন নিতে পারে না। তবে সে কথা তখনই সত্য হয় যখন এই অপরাধীদের শাস্তির দাবি করে খোদ সংগঠনই। আমরা দেখেছি বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার আসামিদের শাস্তির জন্য ছাত্রলীগই বেশি সোচ্চার ছিল।

এ মামলার অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন। আমরা বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারের আমলে দেখতাম সরকারি দলের কোনো আসামি হলে সরকার পক্ষের আইনজীবী নীরবতা পালন করতেন। কিন্তু বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার আসামিদের শাস্তির জন্য সরকার পক্ষ সোচ্চার ছিল। এতে সরকারি দল আওয়ামী লীগও প্রমাণ করেছে এদেশে নির্যাতিত মানুষের শেষ ঠিকানা আওয়ামী লীগ সরকার। 

নিহত বিশ্বজিতের পরিবারকে তাদের সন্তান আর ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না, তবে ন্যায়বিচারই হয়ত বিশ্বজিতের পরিবারকে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেবে। অপরাধের সঠিক বিচার এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে। আইনের শাসন নিশ্চিত করে সামাজিক শৃঙ্খলা। আমাদের সৌভাগ্য যে একজন শেখ হাসিনা আমাদের আছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন, সে চর্চা বাংলাদেশে যেন চিরকাল বজায় থাকে। তবেই, বাস্তবায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।

n লেখক:সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন