আলোকপাত
হিজড়াদের বিষয়ে কয়েকটি কথা
কামরুল হাছান মাসুক১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
আমরা মানুষ হিসেবে সবসময়ই মানবিক। মানবিকতাকে আমরা পছন্দ করি। মানবিকতা যখন সন্ত্রাসের পর্যায়ে চলে যায় তখন তা আর সহ্য করতে ইচ্ছে করে না। হিজড়ারা বাংলাদেশের জনগণের একটা অংশ। এই অংশকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। করিও না। কিন্তু হিজড়ারা এখন কোথাও কোথাও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির মতো আচরণ করছে। বাসে, ট্রেনে বা জনবহুল রাস্তায় প্রায়শ এ ধরনের  জোর-জবরদস্তির ঘটনা চোখে পড়ে যায়। চাঁদা বা প্রার্থিত অর্থ না দিলে বিভিন্নভাবে অপমানিত করার চেষ্টা করে তারা। দান মানুষ মন থেকে দেয়। দানের জিনিসটাকেই কেউ যখন জোর করে নিতে চায় সেটা আর দান থাকে না। চাঁদাবাজির পর্যায়ে চলে যায়। বাস, ট্রেন ছাড়াও নির্জন পার্ক বা জনবহুল কোনো জায়গায় হিজড়ারা উপস্থিত হয়ে যেকোনো ব্যক্তিকে যেকোনো সময় হেয় করতে পারে। উপরিউক্ত ঘটনাগুলোর শিকার আমরা কম বেশি সবাই।

আজকাল বিয়ে বাড়িতে হিজড়াদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। যেকোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তারা অর্থ দাবি করে। টাকা না দিলে অপমান করার পাশাপাশি কারো কারো গায়ে হাত তুলতে উদ্যত হয়। তাদের এই অত্যাচার থেকে গরিব মানুষও রেহাই পায় না। অথচ কিছু করার থাকে না। দরিদ্র মানুষগুলোর ছেলে-মেয়েদের বিয়েতে এমনিতেই তেমন কোনো আনন্দ থাকে না। কারণ তাদের আনন্দের পিছনে খরচ করার মতো অর্থ তাদের থাকে না। এই অবস্থায় যদি তাদের উপর হিজড়ারা এ রকম চড়াও হয় তাহলে মানবিকতাটা কোথায় থাকে। এ ছাড়া গ্রামে-গঞ্জে ছেলে-মেয়ে অর্থাত্ সন্তান জন্ম হলেই হিজড়ারা গিয়ে উপস্থিত হয়। অর্থ দাবি করে। অর্থ না দিলে বাচ্চাদের কোলে নিয়ে ভয় দেখায়। ওদের এ রকম আচরণের বহিঃপ্রকাশ দিন দিন বাড়ছেই। প্রায় সবারই ধারণা হয়ে গেছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না। এমনকি আইন-আদালতের মাধ্যমেও ওদের নিরস্ত করা যাবে না। এ রকম পরিস্থিতিতে ওদের প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিষয়টা বাড়ছেই। দিন দিন যদি এই প্রবণতা বাড়তে থাকে তাহলে তারা কাজকর্ম বাদ দিয়ে এটাকেই জীবিকানির্বাহের একটা হাতিয়ার বানিয়ে ফেলবে। যা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। মানুষ একটা পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হবে। তাই সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্ব পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে এ ধরনের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বুঝাতেও হবে তাদেরকে। এভাবে চাঁদাবাজি করে নয়। কাজ করে জীবিকানির্বাহ করা সম্মানের। যদি কেউ কাজ করতে না পারে তাহলে মানুষের কাছে মানবিক সাহায্য চাইতে পারে। জোর করে বাধ্য করে কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না। কোনো বিয়ে বাড়িতেও যাওয়া যাবে না। কারো সন্তান জন্ম হলে ঐ বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা যাবে না।

প্রশাসন এসব ব্যাপারে কঠোর হলে আমাদের সবার জন্যই উপকার হবে বলে আমি মনে করি। তা না হলে দেখা যাবে মাঝে-মাঝে হিজড়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর  ঘটনাও ঘটতে পারে। এ রকম ঘটনা কোথাও কোথাও ইতিমধ্যে ঘটেছে বলেও শোনা যায়। এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা যদি আগেভাগেই সচেতন হই তাহলে আমাদের জন্য উপকারই হবে বলে আমার বিশ্বাস। আশা করি এই দিকে কর্তৃপক্ষ পূর্ণ দৃষ্টি দেবেন। বিষয়টা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধানের চেষ্টা করলে সবার জন্যই তা হবে মঙ্গলজনক। 

n লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন