উদ্যোক্তা
নারী উদ্যোক্তা সমাবেশ ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং

মাহবুবা আহসান

নারীমুক্তি, নারীর স্বাধীনতা, নারীদের সমান অধিকার, আত্মমর্যাদার লড়াইকে সামনে এগিয়ে নেবার শপথ নিয়েই সারা বিশ্বের নারী-পুরুষ এ দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংকার এসএমই নারী উদ্যোক্তা সমাবেশ ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা-২০১৮’ উপলক্ষে পুস্তিকা প্রকাশ ও মেলার আয়োজন করেছিল। দেশে নারী উদ্যোক্তাদের উত্সাহ ও সাহস যোগাতেই তাদের নিয়ে মেলার আয়োজন করছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যা ৮ হতে ১০ মার্চ, ২০১৮ পর্যন্ত ছিল। মেলার আয়োজন করা হয়েছিল শিশু একাডেমী চত্বরে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে ঘিরে মূলত মেলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টি ব্যাংক এবং বাকি ১৭টি হচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা-বাণিজ্য করা খুবই কঠিন কাজ। নারীদের জন্য তা আরো বেশি কঠিন। ফলে এসব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে যেসব নারী উদ্যোগী হয়েছেন তাদের উত্সাহ দিতে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী। এছাড়া আরো ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পৃথিবীর প্রায় সাড়ে ছয়’শ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেক নারী। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, পৃথিবীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে পুরুষের চেয়ে নারীর ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। বস্তুত নারী-পুরুষের সম্মিলনেই সমাজ তথা দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সম্ভব। তাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন—‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’। কৃষি কাজের সভ্যতার প্রথম বীজ বপন করেছিল নারী। বীজ বুনে যে ফসল উত্পাদন করা সম্ভব তা নারীরাই প্রথম আবিষ্কার করে। পুরুষরা নিয়েছিল সহায়ক শক্তির ভূমিকা। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাকশিল্পের অবদান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান উপায় হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প তথা পোশাক শিল্প। পোশাক শিল্প থেকে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে প্রায় ৬০%। আর পোশাক শিল্পের প্রধান চালিকাশক্তি নারী। বাংলাদেশের গার্মেন্টসগুলোতে শতকরা প্রায় ৮৫% নারী শ্রমিক। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক।

মেলার যে উপকারিতা আছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। মেলার প্রভাবে দেশে কৃষি শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পের প্রসার এবং প্রচার ঘটে। শুধু এটাই নয় শিল্পপতিদের যথেষ্ট আয় হয়, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্মপ্রেরণা, উত্সাহ ও উদ্দীপনা জাগে। সেইসঙ্গে দেশীয় শিল্পজাত দ্রব্যের প্রতি সর্বসাধারণের আগ্রহ ও কৌতূহল বাড়ে। মেলা আমাদের কৃষ্টিকে সবার সামনে তুলে ধরার এক অভিনব আয়োজন। মেলায় প্রদর্শিত শিল্পসামগ্রী দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি শিল্পের দিক দিয়ে আমরা যে অনেকখানি এগিয়ে আছি তা প্রমাণ করে। তাই শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশব্যাপী এ মেলার আয়োজন করলে দেশবাসী সবাই জানতে পারবে, আমাদের কৃষ্টি উপকৃত হবে। শিল্প সামগ্রী দর্শনে সর্বোপরি মানুষের মাঝে কাজ করার স্পৃহা ফিরে আসবে। তাই কবির ভাষায় বলতে চাই— ‘সেদিন উপস্থিত হয়েছে আজি/চুড়ি পড়া ছেড়ে নারী ধরেছে হাতুড়ি/পুরুষ নারীতে মিলে /শিল্পের বীজ বুনেছে সভ্যতার দেহে।’

n লেখক :ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৮
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন