আমাদিগের ইলিশ
ইকবাল খন্দকার১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
আমাদিগের ইলিশ
কিছুদিন আগেও আমাদের নিজস্ব পণ্য হিসেবে স্বীকৃত ছিল একমাত্র জামদানি। কিন্তু এখন সেই তালিকায় ইলিশও যুক্ত হয়েছে। বিষয়টা আমাদের জন্য কতটা আনন্দের, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও ভাষায়ই প্রকাশ করতে হবে। কারণ, আর কোনো উপায়ে প্রকাশের সিস্টেম নেই। আমার এক বন্ধু ইলিশ সংক্রান্ত এই সুখবরটা শুনে বলল, ‘এখন থেকে আর বাজারে গিয়ে ঝাড়ি খেতে হবে না। খুব ভালো, খুবই ভালো!’

আমি বললাম, ‘আগে ঝাড়ি কেন খেতি, জানতে পারি?’

বন্ধু বলল, ‘জিনিস কেনার সময় আমি কমন একটা প্রশ্ন করি। জিনিসটা কি দেশি নাকি ইন্ডিয়ান। বিশেষ করে পেঁয়াজ কেনার সময়, ডাল কেনার সময় তো প্রশ্নটা অবশ্যই করি। এটা আমার একটা মুদ্রাদোষ হয়ে গিয়েছিল। ইলিশ কিনতে গিয়েও জিজ্ঞেস করে বসতাম, ভাই, ইলিশ কি দেশি, নাকি ইন্ডিয়ান? ব্যস, মাছওয়ালা যেত রেগে। বলত, এই মিয়া, ইলিশ আবার ইন্ডিয়ান হয় নাকি! একদিন তো এক মাছওয়ালা পিছন দিকে মুখ ফিরিয়ে আমাকে বলদই বলে ফেলল। যেহেতু এখন আমি জেনে গেছি ইলিশ বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ, এখন আর ভুল করেও জিজ্ঞেস করব না—দেশি না ইন্ডিয়ান। বিরাট বাঁচা বেঁচে গেছি। আহারে, টিভি পর্দাটা কেন যে আমাদের নিজস্ব সম্পদ হলো না! তাহলে মনে এই প্রশ্ন আসত না—সিরিয়ালটা কি দেশি নাকি ইন্ডিয়ান?’

আমার এক ছোটভাই বলল, ‘ইলিশ আমাদের দেশীয় পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে শুনে আবার সেই ছেলেবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে।’

আমি বললাম, ‘ছোটবেলায় তো অনেক সস্তায় ইলিশ পাওয়া যেত, তাই না?’

ছোটভাই বলল, ‘সস্তা আর দরের বিষয় না। বিষয় হলো, ছোটবেলায় আমরা কারেন্ট জাল দিয়ে বিল থেকে মাছ ধরতাম। এরপর কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ হয়ে গেল, আমাদের মাছধরাও বন্ধ হয়ে গেল।’

আমি বললাম, ‘সেটা বুঝতে পেরেছি। এখন বল এইসব বলে কী বোঝাতে চাচ্ছিস।’

ছোটভাই বলল, ‘না মানে, ছোটবেলার সেই কারেন্ট জালগুলো যদি আবার পেতাম, তাহলে বড় আর জাটকা বুঝি না, টাটকা ইলিশ খেতে পারতাম। যেহেতু আমাদের দেশি জিনিস, অতএব কারেন্ট জাল দিয়ে ধরলাম নাকি ঠেলা জাল দিয়ে ধরলাম, সেটা নিয়ে তো কারো নাক গলানোর কথা না। ঠিক কি না?’

আমার এক বড়ভাই সময়-সুযোগ পেলেই জ্ঞানের কথা বলার চেষ্টা করেন, নসিহত করার চেষ্টা করেন। তো ইলিশের খবরটা শোনার পর হঠাত্ করেই তার মুখ খুলে গেল, ‘বুঝলি, জীবনে সাহস করে অনেক কিছুই করতে হয়। যখন প্রথমবার করবি, তখন হয়তো অনেকেই হাসাহাসি করবে, নানাভাবে নিরুত্সাহিত করবে। কিন্তু একটা পর্যায়ে যখন ‘সাকসেস’ হয়ে যাবি, তখন দেখবি তোকে সবাই বাহবা দিচ্ছে। তুই হয়ে গেছিস স্টার। স্টার বুঝিস তো? তারকা, তারকা। তো কী করতে হবে, কে কী বলল, সেটার পরোয়া না করে নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে হবে, ব্যতিক্রম কিছু কাজ করতে হবে। একবার যদি তোর কোনো কাজ হিট হয়ে যায়, তোকে আর পায় কে!’

আমি বললাম, ‘আমার আসলে ব্যতিক্রম কোনো উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছে নেই। নিতে চাইলে আপনি নেন।’

বড়ভাই বললেন, ‘আরে আমি তো তোকে কোনো উদ্যোগ নিতে বলিনি। উদ্যোগ আমিই নেবো। তোর সঙ্গে জাস্ট আলাপ করলাম আর কি।’

আমি বললাম, ‘তা রিসেন্টলি কী উদ্যোগ নিতে চাচ্ছেন?’

বড়ভাই বললেন, ‘যেহেতু ইলিশ আমদের নিজস্ব সম্পদ হয়ে গেছে, অতএব উদ্যোগটা ইলিশ নিয়েই। দেখিস, যদি উদ্যোগটা সফল হয়, তাহলে সারাদেশে হইচই পড়ে যাবে। আর সফল তো হবেই। কেন হবে না। আমি একটা উদ্যোগ নেবো, আর সেটা সফল না হয়ে পারে?’

আমি খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘ভূমিকা তো অনেক হলো, এবার একটু শুনতে পারি উদ্যোগটা কী?’

বড়ভাই বললেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশে ডোবাটা আছে না? সেই ডোবাটা পরিষ্কার করে আমি সেখানে ইলিশ চাষ করব। ডোবার পানি লবণাক্ত করার জন্য আমি দুইমণ লবণও কিনে ফেলেছি। আয়োডিন লবণ।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন