টিচার যখন ফেবুফ্রেন্ড
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
টিচার যখন ফেবুফ্রেন্ড
সবে ফার্স্টইয়ারে উঠেছি। কত নতুন বন্ধু। জায়েদও এমন একজন। কিন্তু পরিচয় হতে বুঝলাম কত বড় ‘অগা’! ওর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই! এমন ব্যাকডেটেড পাবলিককে বন্ধু গ্রুপে রাখা ঠিক না, তবে ওর করুণ মুখ দেখে আমরা সিদ্ধান্ত বদলালাম। খুলেই দিলাম একটা অ্যাকাউন্ট। আর ওকে ফেসবুকের সব বিষয়ে শিক্ষিত করে তুলল গ্রুপ আইটি বিশেষজ্ঞ তুহিন। হ্যাকিং থেকে টিচারের ছবি এডিটিং করে গরুর মাথা নিপুণভাবে বসানো—সবকিছুতেই সে অদ্বিতীয়। নতুন অ্যাকাউন্ট পেয়ে জায়েদ সারাদিন ফেসবুকেই থাকে। এদিকে পরীক্ষা ঘনিয়ে এলো। রিটেনে কোনোমতে এদিক-ওদিক দেখে খাতা ভরালো কিন্তু ভাইবা আসতেই জায়েদের মাথা আউলা। কী করে, অবশেষে বই খুলে বসল। কাল বায়োলজি। বই সামনে, কিন্তু মন বসে না। ফেসবুকে ঢুকে ঝটপট কিছু লাইক-কমেন্ট করল। ভালোমতো না দেখেই তারছেঁড়া নাদিম থেকে শুরু করে জনৈক আবুল হোসেন, সামনে আসা সবগুলো সাজেশনেই রিকোয়েস্ট পাঠাল। তারপরে বায়োলজি পরীক্ষা নিয়ে পদ্যে একখানা স্ট্যাটাস দিয়ে ফেলল,

‘লাইফ ইজ বিউটিফুল, যদি না-থাকে বায়োলজি টিচার, একটা আস্ত ফুল।

বাট এনিওয়ে ড্যুড, নো ডাউট, আই অ্যাম কুল,

টিচারকে বোকা বানানোই আমার লাইফ গোল।’

এরপর খানিকটা চনমনে জায়েদ ফের বই নিয়ে বসল, কিন্তু অচিরেই ওর চক্ষু ঘুমে জড়িয়ে গেল।

পরদিন ভাইবা। সবাই হাসিমুখে পরীক্ষা দিয়ে বের হচ্ছি। নতুন এক স্যার এসেছেন। একটাও ক্লাস নেননি বলেই সবাইকে সোজা প্রশ্নে ছেড়ে দিচ্ছেন। জায়েদের বেলায় ব্যতিক্রম হলো। ভাইবারুমে ঢুকে আর বের হয় না। সবাই চিন্তিত—ফেসবুকবাজ তো কিছুই পারে না, প্রশ্নবাণে ভিমড়িই খেল নাকি?

একসময় বিধ্বস্ত জায়েদ বের হলো অবশ্য।

—কীরে, কী হয়েছে?

সবার সমবেত প্রশ্নে জায়েদ ডুকরে ওঠে, ‘হায়! আগে যদি জানতাম তাহলে আর রিকোয়েস্ট পাঠাই?’

—কাকে?

—কাকে আবার, আবুল হোসেনকে!

নতুন বায়োলজি টিচার!

মাথা নাড়ল জায়েদ। কালকেই অ্যাকসেপ্ট  করেছে আর আমার অনলি-ফ্রেন্ডস করা পরীক্ষার স্ট্যাটাসটাও পড়েছে।

n  রেজওয়ানা আলী

স্কুল রোড, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন