বুলু এবং তহুরা
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
বুলু এবং তহুরা
বুলুর বয়স চব্বিশ। সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি কলেজে ইতিহাসে পড়ালেখা করে। তার মনে খুব দুঃখ! কারণ তার সকল বন্ধুরই কয়েকজন করে গার্ল ফ্রেন্ড থাকলেও তার কপালে একটিও মেয়ে বন্ধু জোটেনি। একদিন তহুরা নামে এক ষোড়শী তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। সে তার প্রোফাইল পিকচারগুলো ঘেটে-ঘুটে দেখে খুব মুগ্ধ হয়। তাই আর কাল বিলম্ব না করে তহুরাকে ফ্রেন্ডলিস্টে অ্যাড করে নেয়। সেদিন থেকেই চলতে থাকে তাদের পরস্পরের পোস্টে কমেন্ট বিনিময় করা। একদিন বুলুর ছাত্রাবাসে ফিরতে একটু দেরি হয়েছিল। রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় মাথা রেখেই সে ফেসবুক অন করা মাত্রই তহুরার একটি ম্যাসেজ চলে আসে। hi, dear!how r u? বুলু খুব বিস্মিত এবং আনন্দিত হয়। কারণ তহুরার মতো এত সুন্দরী মেয়ে তার সঙ্গে চ্যাট করবে, সে যেন ভাবতেই পারছিল না। সে আর দেরি না করে তত্ক্ষণাত্ রিপ্লাই করে। সেদিন থেকে প্রায় সবদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো কখনো সারারাত কেটে যেত চ্যাট করে। যখনই সময় পেত তারা তখনই চ্যাটে নিমগ্ন থাকত অথবা ফোনে কথা বলত। অনেক সময় বুলু ভিডিও কল করে তহুরার সুন্দর, সুশ্রী চেহারা দেখতে চেয়েছে। কিন্তু তার নিজের চেহারা খারাপ বিধায় সে এই সাহসটুকু পায় না। পাছে যদি তার বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন তাদের এ সম্পর্ক চলতে থাকার পর হঠাত্ একদিন তহুরা বুলুকে একটি পার্কে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। বুলু অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করে। আবার ভয়ও পেতে থাকে। কারণ বুলুর নিজের চেহারা কালো কুচকুচে। তাকে তহুরা যদি পছন্দ না করে। এরূপ অনেক ভাবনা এসে তার মনের ভিতর দানা বাঁধতে থাকে। তারপর সে মনে সাহস সঞ্চার করে নিজেকে প্রশ্ন করে যে, চেহারাই তো আসল না। আসল হলো মানুষের মন। এতদিনের সম্পর্ক তহুরা কোনোক্রমেই ফেলে দিতে পারবে না। তাই সে নির্ধারিত দিনে নির্ধারিত পার্কে যে জায়গাটিতে দেখা করার কথা ছিল সেখানে সে উপস্থিত হয়। কিন্তু কী আশ্চর্য বিষয়! বুলু সেখানে তহুরাকে দেখতে পাচ্ছে না। এদিক ওদিক তাকিয়ে একটি গাছের পাশে দাঁড়িয়ে তহুরাকে ফোন করে সে হতভম্ব হয়ে যায়। কারণ তার দেওয়া ফোনের রিংটোন তার ঠিক পিছনে বেজে যাচ্ছে এবং সেই চিরচেনা তহুরার গলা। সে খুব খুশি হয়ে পিছন দিকে ফিরতেই তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। কোথায় সেই সুন্দরী তহুরা! এ তো ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা মহিলা! সে প্রথমে মনে করল মহিলাটি হয়তো তহুরার নানি। তাই সে সালাম দিয়ে ভাঙা ভাঙা গলায় বলল, আপনি কি তহু... (বলতে চাচ্ছিল, আপনি কি তহুরার নানি?)

শেষ না করতেই মহিলাটি উত্তর দিল, হ্যাঁ, আমিই তহুরা!

—কী!

অনিচ্ছা সত্ত্বেও শব্দটি বুলুর মুখ ফসকে বের হয়ে গেল।

—আপনিই তহুরা! তবে প্রোফাইলের ছবিগুলো?

—ওগুলো আমার কাঁচা বয়সের ছবি।

এ কথা শুনে তার মুখ দিয়ে আর কিছুই বের হচ্ছিল না। সে চরম অপমানিত হয়ে বেকুবের মতো হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তহুরা স্ব-উদ্যোগী হয়ে বুলুকে জিজ্ঞেস করল, বুলু ভাই, কিছু খাবে?

—কিচ্ছু না! আমার একটু তাড়া আছে। যেতে হবে। এই বলে সে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলো।

কিন্তু তহুরা বলে উঠল, কী বন্ধু! এত তাড়া কীসের? এসো গল্প করি!

বুলুর এহেন বেহাল অবস্থা সামাল দিতে তহুরা বুলুকে আবার বলল, বন্ধু,  আমাকে কিছু খাওয়াবে না?

অনিচ্ছা সত্ত্বেও বুলু বলে উঠল, কী খাবেন?

হা হা হা করে হেসে দিয়ে তহুরা বলে উঠলো, পান খাব!

—পান খাবেন?

—হ্যাঁ, পান খাব! খুব পানের নেশা পেয়েছে।

রাস্তার পাশের একটি খিলিপানের দোকান থেকে একটি পান এনে বুলু তহুরার হাতে গুঁজেয়ে দিয়ে বলল, আপনি পান খান! আমি একটু পানি খাব।

বলেই বুলু শোঁ করে স্থানটি ত্যাগ করল।

n  আবু সাইদ

শেরপুর, বগুড়া।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন