বাতেন স্যার যেভাবে আমার বন্ধু হলেন
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
বাতেন স্যার যেভাবে আমার বন্ধু হলেন
বাতেন স্যার কলেজের সবচেয়ে রাগী মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। শুধু ছাত্ররাই নয়, কলেজের অধিকাংশ শিক্ষকই বাতেন স্যারের তোপের মুখে পড়তে চান না; যথাসম্ভব সমঝে চলেন। এমনও কানাঘুষা শোনা যায়, কলেজের প্রিন্সিপালও নাকি বাতেন স্যারের কথার তালে রীতিমতো উঠবস করেন। মোটা ফ্রেমের চশমার ফাঁক দিয়ে বাতেন স্যার যখন সোজা কারো চোখের উপর দৃষ্টি ফেলেন, তখন তার পিলে না চমকে পারে না। একবার কলেজের সবচেয়ে দুষ্ট ছাত্র হিসেবে খ্যাত পরিমল বাতেন স্যারের চলার পথে কলার খোসা ফেলে রাখে। সাইকেল চালিয়ে আসার পথে স্যার সুড়ুত্ করে রাস্তায় পড়ে যান। কীভাবে যেন পরিমলের ব্যাপারটা বাতেন স্যারের কানে পৌঁছে যায়। পরদিন ক্লাসে এসে স্যার পরিমলকে দাঁড় করিয়ে চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম পরিমলের শক্ত জিন্সপ্যান্ট ভেদ করে চুঁইয়ে চুঁইয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

সেই বাতেন স্যার যখন আমাকে তার নিজের বাসায় ডেকে পাঠালেন ভয়ে আমার অন্তরাত্মা তখন খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়। না জানি স্যারের সঙ্গে কখন কোন বেয়াদবি হয়ে গিয়েছে! মনে মনে দোয়া-দুরূদ পড়তে পড়তে স্যারের বাড়ি গিয়ে হাজির হলাম। স্যার বেশ খাতির করে বসতে দিলেন। নিজেও বেশ আয়েশী ভঙ্গি নিয়ে আমার পাশে এসে বসলেন। আমার বুকের ভিতর ততক্ষণে ঢিবঢিব করা শুরু হয়ে গিয়েছে। স্যারের হাতে নতুন কেনা একটি স্মার্ট ফোন দেখতে পেলাম। গলা খাঁকারি দিয়ে স্যারই প্রথমে কথা বলা আরম্ভ করলেন, শুনলাম মোবাইল ফোন দিয়ে ফেসবুক না কি একটা খোলা যাচ্ছে। আর তা দিয়ে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ছবি-টবিও নাকি দেখা যায়!

স্যারের কথা শুনে পুরো থ হয়ে গেলাম। বাতেন স্যার আমার কাছে ফেসবুক সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে! আমি স্যারের মুখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম তিনি আসলে সিরিয়াস কি না। নাকি তার মনের মধ্যে অন্য কোনো মতলব ঘোরাফেরা করছে। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর ভয়ে ভয়ে বলেই ফেললাম, হ্যাঁ স্যার, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পৃথিবীতে ফেসবুক এখন এক জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম।

আমার কথা শুনে স্যার বেশ খুশি হলেন বোঝা গেল। তার সেই রাগী রাগী মুখখানা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

—তুমি কি পারবে আমাকে একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে?

—হ্যাঁ পারব।

ছোট্ট করে জবাব দিলাম।

—তাহলে এক্ষুণি একটা খুলো দাও।

স্যারের কণ্ঠে বেশ আবদারের সুর।

আমি অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বাতেন স্যারের নামে একটা নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে ফেললাম। এ কাজে আমার দক্ষতা বন্ধুমহলে বেশ আলোচিত। অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ শেষ হলে স্যারকে বললাম, ‘এবার আপনাকে কয়েকজন বন্ধু বানাতে হবে। তাহলে আপনি তাদের লেখা পড়তে পারবেন ও ছবি দেখতে পারবেন।’

বাতেন স্যার এবার বেশ মুশকিলে পড়লেন। তিনি এখন বন্ধু পাবেন কোথায়? মোজাম্মেল নামে তার একজন বন্ধু ছিলেন বটে কিন্তু তিনি তো গত বছরই গত হয়েছেন!

স্যারের এই সংকটকালে উদ্ধারের জন্য আমিই এগিয়ে এলাম।

যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমাকেই প্রথমে বন্ধু বানাতে পারেন।

প্রস্তাবটা স্যারের কাছে খুব একটা যুতসই বলে মনে হলো না। তারপরও যেহেতু করার কিছু নেই, সেহেতু তিনি আমার প্রস্তাবে সম্মত হলেন। আমি হয়ে গেলাম বাতেন স্যারের ফেসবুকে প্রথম বন্ধু।

বাতেন স্যার এবার ফেসবুক নিয়ে মেতে গেলেন। আমি সময় নিয়ে বেশকিছু কায়দা-কানুন শিখিয়ে দিলাম। বাকিটা স্যার একাই পারবেন।

n  আরাফাত শাহীন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন