হায় লেন, ভিআইপি লেন
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
হায় লেন, ভিআইপি লেন

ইকবাল খন্দকার

 

ভিআইপি লেনের কথা শুনে সবাই যেখানে ভ্রূ কুঁচকাচ্ছে, সেখানে আমার এক ছোটভাই আছে বেশ খোশমেজাজে। ভাবটা এমন, যেন সে নিজেই ভিআইপি, আর লেনটা তার জন্যই হচ্ছে। অথচ সে ভিআইপি হবে দূরের কথা, বন্ধুুবান্ধবের কাছে হাত না পাতলে তার খাওয়ার টাকাও জোটে না। তো ভিআইপি লেনের কথা শুনে তাকে খোশমেজাজে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কীরে, মেজাজ এত ফুরফুরে যে? সমস্যাটা কোন জায়গায়?’

ছোট ভাই বলল, ‘ভিআইপি লেন হলে আমার নিজেরও একটা গতি হবে। মানে আমিও বিস্তর সুযোগসুবিধা ভোগ করতে পারব।’

আমি হালকা ধমক দিয়ে বললাম, ‘অ্যাই, তুই সুযোগসুবিধা ভোগ করতে পারবি মানে? লেন কি তোর জন্য বানানো হচ্ছে? তুই কি ভিআইপি?’

ছোটভাই বলল, ‘অবশ্যই আমি ভিআইপি। কারণ, আমার পুরো নাম ভূইয়া ইশতিয়াক প্রিতম। ভূইয়ার ‘ভি’, ইশতিয়াকের ‘আই’, আর বাকিটা মিলিয়ে নেন ভাই।’

 

আমার পরিচিত একটা ফকির আছে। আমার বাসার পাশের স্কুলের গেটে প্রায়ই ভিক্ষা করতে দেখি। একদিন কী মনে করে যেন কথা বলেছিলাম। এরপর থেকে মোটামুটি আলাপচারিতার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে তার সঙ্গে। তো গতকাল বাজারে যাওয়ার সময় তাকে দেখে ইচ্ছে করেই দাঁড়ালাম এবং বললাম, ‘ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন মানে রাস্তা হচ্ছে, আপনি জানেন নাকি?’

ফকির সাহেব বলল, ‘জানমু না ক্যান? না জানলে ব্যবস্থা নিছি ক্যামনে?’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘ব্যবস্থা নিয়েছেন মানে? আপনি ব্যবস্থা নেওয়ার কে? আপনি তো আর ট্রাফিকের কেউ না, তাই না?’

ফকির সাহেব বললেন, ‘ধুর মিয়া, সেই ধরনের কোনো ব্যবস্থা না। আমি একটু অন্য কিসিমের ব্যবস্থা নিছি। ছোট মাইয়ার জামাইটার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি।’

আমি তাজ্জব বনে গেলাম, ‘কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন মানে?’

ফকির সাহেব বললেন, ‘হইছে কী, ছোটমাইয়ার জামাইটা কোন জায়গায় খাড়ায়া ভিক্ষা করব, বুইঝা উঠতে পারতেছিলাম না। শ্বশুর হিসেবে তারে ভালো একটা জায়গা দেওয়া আমার দায়িত্ব না? যেই শুনলাম লেন হইতাছে, আমি মনে মনে চিন্তা কইরা দেখলাম অতি উত্তম একটা জায়গা। ব্যস, লগে লগে ব্রাঞ্চ খুইলা ফেললাম। লেনও চালু হইব, আমার নতুন ব্রাঞ্চও চালু হইব। আর আমার ছোটমাইয়ার জামাই এই ব্রাঞ্চের প্রোপ্রাইটর।’

 

আমার এক বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভিআইপিদের জন্য এই যে আলাদা লেন চালু হতে যাচ্ছে, এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?’

বড় ভাই বললেন, ‘মতামত আর কী। বড় ভুল হয়ে গেছে।’

বড় ভাইয়ের মুখে বড় ভুলের কথা শুনে মৃদু ধাক্কা খেয়ে বললাম, ‘আপনি তো লেন চালুর সঙ্গে জড়িত না। তাহলে ভুল-শুদ্ধের বিষয়টা আপনার উপরে আসবে কেন?’

বড় ভাই কিঞ্চিত্ রেগে গিয়ে বললেন, ‘কথা না বুঝে কথা বলিস কেন? আমি কী বলেছি বা বলতে চাচ্ছি, সেটা আগে বোঝার চেষ্টা কর, তারপর মন্তব্য কর।’

আমি বললাম, ‘যথা আজ্ঞা।’

বড় ভাই বললেন, ‘আসলে হয়েছে কী, ছোটবেলা যখন স্যাররা জিজ্ঞেস করতেন, বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও, তখন বলতাম, বড় হয়ে আমি ডাক্তার হবো, ইঞ্জিনিয়ার হবো।’

আমি বললাম, ‘এই ধরনের কথা তো আমরা সবাই বলেছি। এখানে ভুলের কী আছে?’

বড় ভাই বললেন, ‘ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কি আলাদা লেন আছে? তাহলে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে কি ভুল করিনি? আহারে, যদি তখন বুদ্ধি করে বলে ফেলতাম, বড় হয়ে আমি ভিআইপি হতে চাই!’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পড়ুন