ডিজিটাল সাজেশনস
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ডিজিটাল সাজেশনস
শামসুল হক শামস্

রাজা ঘোষণা করেছেন, তার রাজ্যের যে লোক তাকে আশ্চর্যজনক গল্প শোনাতে পারবে তাকে হাজার মোহর পুরস্কার দিবেন। রাজ্যের যত পণ্ডিত, বিদ্বান লোক ছিল, সবাই রাজাকে আশ্চর্যজনক গল্প শোনাল; অথচ রাজা আশ্চর্যান্বিত হলেন না। শর্ত পূরণ না হওয়ায় কেউ হাজার মোহর পুরস্কারও পেল না।

সবশেষে এক বোকা লোক রাজদরবারে হাজির হলেন। রাজাকে বললেন, ‘হুজুর, আমি তো বোকাসোকা মানুষ। আপনাকে গল্প শুনিয়ে পুরস্কার আমার ভাগ্যে জুটবে না। তয় আমি রাজদরবারে আসার পথে একটা ঘটনা দেখে এলাম। আপনি অভয় দিলে বলতে পারি।’

রাজা বললেন, ‘তার আগে বলো তোমার শার্টের বোতাম খোলা কেন?’

লোকটি বলল, ‘বেয়াদবি মাফ করবেন হুজুর। আমি যে পথ দিয়ে এলাম সেই পথের ধারে একটা বিয়েবাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে গোটা চল্লিশেক মেয়ে মানুষ ছিল। পরিবেশটা এতই নীরব যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমার শার্টের বোতামটা খুলে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। বোতাম মাটিতে পড়ার শব্দে আশপাশের কয়েকজন দৌড়ে পালাল। কিন্তু মেয়ে মানুষগুলোর কারোর মুখে কোন রা ছিল না। সবাই চুপচাপ বসে আছে।’

রাজা বলল, ‘থাম থাম। চল্লিশজন মেয়ে মানুষ একসঙ্গে অথচ কেউ কথা বলছে না! এ কেমন ঘটনা! তুমি নিশ্চয় মিথ্যে বলছ।’

মন্ত্রী উঠে বললেন, ‘গোস্তাকি মাফ করবেন জাঁহাপনা। এই বোকা লোকটির গল্প শুনে আপনি আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন। এই পুরস্কার বোকা লোকটির প্রাপ্য।’

রাজা বললেন, ‘ঠিক বলেছ মন্ত্রী, তাই হবে।’

 

গতকাল বিকালে ছাদে ভাবিদের আড্ডা হচ্ছিল। ভাবিদের আড্ডা মানে কথার খই ফোটা। এমন আড্ডা প্রায় প্রতিদিনই হয়। দৃষ্টিপাত কিংবা কর্ণপাত করি না। কিন্তু গতকালের বিষয়টা ছিল বেশ মজাদার। তাই পূর্বের গল্পের বোকা লোকটির মতো আমি আড্ডায় কান পেতেছিলাম। মলি ভাবি জুঁই ভাবিকে বলছে, ‘আচ্ছা ভাবি, শুনলাম আজকের পরীক্ষায় আপনার ছেলে ফুল মার্কস আন্সার করে এসেছে?’

জুঁই ভাবি বলল, ‘জি, ঠিকই শুনেছেন ভাবি।’

‘কিন্তু আপনার ছেলে পড়ে কখন?’

‘কেন? ছেলে আমার সবসময় পড়ার উপরেই থাকে।’

‘কিন্তু আমি তো দেখি সারাক্ষণ মোবাইল টিপাটিপি করে বলে আপনি বকাঝকা করেন।’

‘হুম, তা ঠিক। আমি তো আগে তার পড়ার রহস্য বুঝতে পারিনি, তাই বকাঝকা করতাম। এখন থেকে আর করব না।’

‘সে কী, পড়ার আবার রহস্য আছে নাকি?’

‘আছে ভাবি, আছে। এই, যেমন ধরেন সে মোবাইলেই পড়ে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে।’

‘সে কি ভাবি, মোবাইলে কী পড়ে?’

‘ভাবি যে কোন যুগে পড়ে আছেন! আজকাল মোবাইলেই তো আসলে বই পড়া হয়।’

‘একটু খুলে বলেন তো ভাবি, শুনি।’

জুঁই ভাবি বলতে লাগলেন, ‘আসল বই বলতে ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল বই। নাম তার ফেসবুক। আমরা ছোটবেলায় যেমন পরীক্ষা পাসের জন্য বিভিন্ন সাজেশনস বই কিনতাম। এখন সেটা ফেসবুকেই পাওয়া যায়। শতভাগ কমন। অক্ষরের ফন্ট, এমনকি কাগজের কালারসহ কমন পড়ার নিশ্চয়তা। আপনিই বলেন ভাবি, এমন সাজেশনস পেলে সারাবছর কষ্ট করার দরকার আছে কি? ভাবছি এখন থেকে ছেলেকে প্যাকেজ নয়, প্যাকেট ভরে দরকার হলে বস্তা ভরে এমবি কিনে দেব। ডিজিটাল সাজেশনস বলে কথা।’

মলি ভাবি চুপ মেরে গেলেন। আর আমিও হ্যাং। তাড়াতাড়িতে সিঁড়িতে ঠ্যাং চালালাম। গল্পটা সেই রাজাকে শুনিয়ে আশ্চর্যান্বিত করতে পারতাম। কিন্তু আপনারা আশ্চর্যান্বিত হবেন না, তাই না?

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পড়ুন