অভাগা প্রেম এবং ভ্যাঁ দিবস!
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
অভাগা প্রেম এবং ভ্যাঁ দিবস!
রুবেল কান্তি নাথ

 

‘কাইন্দো না, কাইন্দো না, লক্ষ্মী আমার। তুমি কানলে আমারও রামছাগলের লাহান ভ্যাঁ-ভ্যাঁ করে কানতে ইচ্ছা করে।’

‘কানমু না তো হাসমু? তোমার লাহান নালায়েক প্রেমিক যে আমার কপালে লেখা আছিল, সেইডা কি আমি আগে জানতাম! জানলে...’

‘ধুর, বাদ দাও তো এসব ফাও প্যাঁচাল। আসল কথা বয়ান করো, কুইক। আমার আবার টয়লেট চাপছে।’

যখন তখন যে আমার টয়লেট চাপে, মোটকথা, আমার যে ‘টয়লেটফোবিয়া’ রোগ আছে—সেটা বেশ ভালো করেই জানে আমার চৌদ্দ নম্বর প্রেমিকা জমিলা খাতুন। যদিও জানে না যে, সে আমার চৌদ্দ নম্বর প্রেমিকা। একথা জানলে আমার চার আঙুলের কপালে যে কী ছিল, সেটা এতক্ষণে বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন আপনারা।

‘আমি কোনো কথা কইতে গেলেই তোমার টয়লেট চাপে? হায় রে, বিধি! কী ‘টয়লেটম্যান’ই না আমার কপালে জুটাইলা তুমি!’ ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কাঁদতে কাঁদতে জমিলা বিলাপ ছাড়ল।

এই মুহূর্তে এই বিলাপকারিণীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিধাতাকে মনে মনে স্মরণ করতে থাকলাম। আমতা আমতা করে জমিলার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললাম, ‘সোনামণি, তুমি আসল কথা না কইয়া এইভাবে কানলে হইব? আসল কথা কও না ক্যান?’

‘আসল কথা হইল আমার বাপজান তোমার লগেই আমার বিবাহ ধার্য করছেন আগামী ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে। সেই দুঃখেই আমি কান্দি।’

আমি আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে খেঁকশিয়ালের মতো দাঁত কেলিয়ে হুক্কা-হুয়া রব তুললাম, ‘এইডা তো বহুত খুশির খবর, জমিলা। তয় তুমি কানতাছ কেন? মানুষ নাকি বেশি খুশিতেও কান্দে। তুমিও খুব খুশিতে কানতাছ নাকি?’

‘ধুর, গর্দভের হাড্ডি! তোমার লগে বিবাহ ঠিক হওনের দুঃখেই আমি কানতাছি।’

‘জমিলা, তুমি এইসব কী কইতাছ? তোমার তো খুশি হওনের কথা?’

‘কীভাবে খুশি হমু? আমি কি তোমারে ভালোবাসি? আমি ভালোবাসি আবুলরে। তোমার লগে তো আমি শুধু পিরিত করছি। পিরিত করলে কি তারে বিবাহ করতে অয়? আর তোমার মতন নালায়েকরে কি আমি বিবাহ করতে পারি!’

‘ও জমিলা, এইসব কী শুনাইলা তুমি! পিরিত করো আমার লগে আর ভালোবাসো আবুইল্লারে?’

‘আরে, আমি তো ভালোবাসছি তোমার পকেটের মানিব্যাগরে। তোমারে তো ভালোবাসি নাই। আবুলের তোমার লাহান মোটা মানিব্যাগ নাই, তাই আমি তারেই সাচ্চা ভালোবাসছি। বাপজান তো তোমার মানিব্যাগের জোর দেইখাই কইতাছে, তোমার লগে আমার বিবাহ দিবো। এহন আমি কী করি!’

‘ওরে মাবুদ, কী শুনাইতাছ জমিলা তুমি আমারে। শেষ পর্যন্ত ভ্যা দিবসের প্রাক্কালে আইসা আমার চৌদ্দ নাম্বার প্রেমটাও ফাঁইস্যা যাইব?’

‘কী কইলা তুমি? আমি তোমার চৌদ্দ নাম্বার প্রেমিকা? ও আল্লারে, তুমি আমারে এই জালিয়াত প্রেমিকের খপ্পড়ে কিসের লাইগা ফালাইলারে! আমি কী পাপ করছি রে, খোদা!’ বিলাপ ছেড়ে আবারো কাঁদতে লাগল জমিলা।

হায়! হায়! আমি তো আবেগের ঠেলায় আসল কথা বলে ফেলেছি! শেষ পর্যন্ত চৌদ্দ নম্বর প্রেমটাকেও মাঠে মেরে ফেললাম!

এই অভাগা আমাকে দিয়ে এই জীবনে প্রেমট্রেম হবে কি না বুঝতে পারছি না। তবু চেষ্টা করতে তো দোষ নেই। কবি বলেছেন, ‘একবার না পারিলে দেখো শতবার।’

আমিও কবির কথা অনুসারে চৌদ্দ নম্বর প্রেমটাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ছুটছি পনের নম্বর প্রেমের কবুতরটাকে ধরতে!

আপনাদের কাছে দোয়াপ্রার্থী।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পড়ুন