মহব্বত সাহেবের বই পড়া
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
মহব্বত সাহেবের বই পড়া
মহব্বত সাহেব চাকরি করেন। সারা জীবনেও একটা বই পড়ার ইচ্ছা জাগেনি তার। তিনি খুব সিরিয়াস মানুষ। এসব বই পড়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। বেশ বিরক্তি নিয়ে অফিসে বসে আছেন তিনি। কেউ একজন দরজা টোকা দিচ্ছে। মহব্বত সাহেব তাকে ভিতরে আসতে বললেন। অফিসের পিয়ন হেকমত এক গাদা বই নিয়ে হাজির।

—হেকমত, এত বই কেন আনছ?

—স্যার, আমি পিয়ন হলেও পোলাপানকে বই পড়তে বলি। এগুলো পোলাপানের জন্য আনছি।

বই দেখে মহব্বত সাহেবের মনটা ভরে গেল। একটা বই হাতে নিলেন। প্রচ্ছদ খুব সুন্দর। হেকমতকে বইটা রেখে যেতে বললেন। হেকমত বই টেবিলের উপর রেখে চলে গেলেন। মহব্বত সাহেব বইটা আস্তে আস্তে খুলতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর তার রুম থেকে হাসির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। সবাই একটু অবাক হলো। ঘটনা কী?

—স্যার, স্যার কী হলো? এরকম হাসছেন কেন?

—হো হো... ও... হাসছি... হা হা...হাসির একটা বই পড়ছি। হো হো...খিক খিক।

—হেকমত তুমি আমাকে আরো কয়েকটা বই দিয়ে যেও। প্রতিদিন বইমেলা থেকে আমার জন্য নতুন বই নিয়ে আসবে।

—ঠিক আছে, স্যার।

 

২.

বই পড়তে মহব্বত সাহেবের বেশ ভালো লাগছে। দিনরাত শুধু বই পড়ছেন। ইজি চেয়ারটায় শরীর এলিয়ে দিয়ে বই পড়ছেন। চোখ দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে। চোখের পানি স্ত্রীর চোখ এড়িয়ে যেতে পারেনি।

—ঘটনা কী? কাঁদছ কেন?

—একটা দুঃখের বই পড়ছি।

—বই নাকি অন্য ঘটনা? নাকি কোনো মেয়ের সঙ্গে আবার...

স্ত্রীর কথা শেষ হওয়ার আগেই স্ত্রীকে ধরে কাঁদতে শুরু করল। হাত থেকে বইটা পড়ে গেল। বই দেখে স্ত্রীর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। বইয়ের নাম ‘অতীত প্রেমের স্মৃতি’।

—এসব পড়ো, দাঁড়াও হতচ্ছাড়া...!

 

৩.

আজ মহব্বত সাহেব কবিতার বই পড়ছেন।

হেকমত এসে বলল, স্যার, নাস্তা করতে হবে একটু ছুটি দেন।

—দিলাম ছুটি,

খাও রুটি।

আরেকজন এসে বলল, স্যার একজন আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়।

—তুমি এখন যাও,

তাকে তুমি পাঠাও।

মহব্বত সাহেবের আচরণে সবাই বেশ বিরক্ত। কী উল্টাপাল্টা ছন্দ মিলিয়ে তিনি কথা বলছেন। স্ত্রীর ফোন এসেছে, বাসায় কখন ফিরবে?

—আমি আজ ফিরব না,

 তোমায় ছাড়া বাঁচব না।

—পাগল হয়েছে নাকি? এসব কী বলছ?

—যদি হই আমি পাগল,

তবে তুমি একটা ছাগল।

—আচ্ছা বাসায় আসো, তোমার খাবার বন্ধ।

—আমার বাসায় আমি যাব,

যা ইচ্ছা তা খাব।

এভাবেই নানা নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন মহব্বত সাহেব। মেলায় নতুন নতুন বই আসছে। মহব্বত সাহেবও নতুন নতুন ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন।

n  তারেকুর রহমান

মিরপুর, ঢাকা।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৭
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পড়ুন