আনন্দ-যাত্রা যেন শোক-যাত্রা না হয়
২১ জুন, ২০১৭ ইং
আনন্দ-যাত্রা যেন শোক-যাত্রা না হয়
শতাব্দী জুবায়ের

 

আকাশছোঁয়া আনন্দ নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। আর এই অনাবিল আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে শহর থেকে নগরবাসী ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। ছোটবেলায় বেড়ে ওঠা গ্রামের মিষ্টি মধুর শ্বাস নিতে কার না ভালো লাগে। তাই তো ঈদ উদযাপনের জন্য শেকড়ের টানে বাড়ি ফিরছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সড়ক, নৌ, রেল—এই তিন পথেই মানুষের যাতায়াত বেশি। লঞ্চ-স্টিমার, বাস, ট্রেনে ভোগান্তি হওয়া সত্ত্বেও সবাই চান প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে।

ঈদের সময় প্রতিদিন রাজধানী থেকে ঢাকার বাইরে যান প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। আর এই বাড়তি মানুষের জন্য অতিরিক্ত চাপ নিতে হয় যানবাহনকে। ব্যক্তিগত গাড়িতে অনেকেই যাতায়াত করেন। যার কারণে রাস্তায় যানজট আরো বেড়ে যায়।

বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগের একটি কারণ রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি। এর একটি রাস্তায় অকেজো হলেই ঘটবে সর্বনাশ। পাঁচ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকলে কয়েক হাজার মাইল যানজট সৃষ্টি হয়ে যাবে অল্পতেই। তাই ফিনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না। তাছাড়া রাস্তার বেহালদশা। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের  প্রত্যেকের উচিত লাখ লাখ মানুষের বাড়ি ফেরার ভোগান্তি লাঘবে যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

বাড়ি ফেরার জন্য বাস অথবা ট্রেনের টিকেট পাওয়া যেন রীতিমতো সোনার হরিণ হাতে পাওয়া। তবে চার- পাঁচগুণ বেশি টাকা দিলে ঠিকই টিকেট পাওয়া যায়। যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ, টিকেট কালোবাজারি চক্রের অযৌক্তিক বাড়তি টাকা আদায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে হতে হবে আরো তত্পর। প্রশাসনকেও হতে হবে দ্বায়িত্বশীল।

টিকেট কালোবাজারির ক্ষেত্রে ট্রেনে যে কর্মকর্তা আছেন তাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই কালোবাজারি করা সম্ভব না। কারণ টিকেট প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক। অন্যদের হাত দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই ট্রেনের কর্মকতাদের কর্তব্যনিষ্ঠা, একটু সততা, একটু ছাড় সাধারণ মানুষের ঈদ ভ্রমণটা করতে পারে আনন্দময় ও সুখের।

 নৌ, সড়ক ও রেল সংস্থা, সকল মালিক সমিতি, সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা সংস্থাসহ সকলের সর্তক পদক্ষেপ এবং জনকল্যাণমুখী উপযুক্ত সিদ্ধান্ত ও দিক নির্দেশনার মাধমে  সকল সমস্যা থেকে উত্তোরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলেই দুর্ভোগ কমবে। আর যাতায়াত শতভাগ নির্বিঘ্নে করার জন্য সরকার, পরিবহণ সেক্টর ও জনসাধারণকে সর্তক থাকতে হবে।

অতিরিক্ত লাভের আশায় পরিবহন মালিকেরা অতিরিক্ত যাত্রী বহন করেন। যার ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। মাঝে মাঝে ঘটে দুর্ঘটনা। একটু সচেতনতাই পারে এই দুর্ঘটনা এড়াতে।

ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের চাপ অনেক বেশি হবে—এটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে এ ফেরা যেন শেষ ফেরা না হয়। জমাট বাধা রক্ত আর স্বজনের চোখের নোনাজলে যেন ভিজে না যায় রাজপথ। মনে রাখতে হবে একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না বয়ে যেন না আনে। তাই ঈদে দেখে শুনে, চোখকান খোলা রেখে রাস্তা পারাপার, গাড়িভাড়া করুন। ঈদে ঘরে ফেরা হোক আনন্দময়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন