গণপরিবহনে নারী যাত্রীদের বিড়ম্বনা
২১ জুন, ২০১৭ ইং
বুলবুল মাসউদ

 

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা হলো শাহবাগের বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে আছি। গাজীপুরগামী বাস লাপাত্তা। মুষলধারে বৃষ্টি ঝরা কমে গিয়ে তখনো টিপটিপ বৃষ্টি ঝরছে। সেদিন ১৭ জুন বিকেল ৫টা। জ্যাম তো লেগেই আছে। এক সেকেন্ড এগিয়ে পাঁচ মিনিট স্টার্ট বন্ধ করে রেখে রেখে বিআরটিসি শাহবাগে এল। যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। কেবল গাজীপুর নয় অন্যান্য স্থানেরও বাস পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। একটি বাস পেলে তাতে সব যাত্রী হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। নারী আর শিশুদের অবস্থা তো বলাবাহুল্য। বিন্দুমাত্র সহানুভূতিশীল হয়ে যদি অন্তত নারী যাত্রীদের নিত তবে এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হতো না। যাই হোক। বিআরটিসি পেয়ে দৌড়ে গেলাম। বাদুরঝোলা প্যাসেঞ্জার জায়গা না থাকার অজুহাতে আমাকে নেবে না বলল। বাসের হেলপার দেখা যাচ্ছে না। পায়েধরা অনুরোধ আর একঝুলি বাক-বিতণ্ডার পর আমার পা রাখার জায়গা হলো। কিন্তু বাস যেখানে ছিল সেখানেই রইল। বিরক্ত হয়ে অনেক প্যাসেঞ্জার নেমে যাচ্ছে। আধঘণ্টায় দু’হাত এগিয়েছে। বাসে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে আজ আর কোনো নারী নেই। পুরুষ প্যাসেঞ্জার দাঁড়াতে পারছে না নারী প্যাসেঞ্জার আবার কেন—এমনটাই সবার মনোভাব। কোনো নারী প্যাসেঞ্জার উঠতে চেষ্টা করলে তাকে গেট থেকেই সিট নাই বলে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাপারটা খুবই পীড়াদায়ক অন্তত কোনো সুনাগরিকের জন্য।

একঘণ্টার ব্যবধানে বাংলামটর এল। সেখানেও অসংখ্য লোকের ভিড়। এসব লোকের অর্ধেক নারী ও শিশু। সবাই বাসে ওঠার জন্য মরিয়া কিন্তু বাসের পুরুষ প্যাসেঞ্জার তাদের স্বজাতি নিতে রাজি কিন্তু নারী নিতে নারাজ। যেন নারীরা দাঁড়িয়ে যেতে পারে না। এতক্ষণে আমি বাদুরঝোলা থেকে খানিক প্রমোশন পেয়ে ভিতরে ঢুকে পড়লাম। বাংলামটর থেকে একটু সামনে এগুতেই দশ-বারোজন নারী প্যাসেঞ্জার  জোরাজুরি করে উঠতে চাইলে বাস স্টাফ আর অধিকাংশ পুরুষ প্যাসেঞ্জার বাধা দিল। কিন্তু চার-পাঁচজন নারী  অনেক কষ্ট করে একজন তরুণের সহযোগিতায় উঠেছে বটে কিন্তু তাদের নির্ধারিত সিট তো বেদখল। যারা দখল করেছে তারা বয়সে অধিকাংশই যুবক ও মধ্যবয়স্ক। যে ছেলেটি মহিলাদের উঠতে সাহায্য করল সেই প্রথম দখলদারিদের জায়গা ছেড়ে দিতে বলল। কিন্তু তারা উঠতে নারাজ। অনেক দূরে যাবে কেন উঠবে। ইফতারির সময় হয়ে এসেছে। পুরুষেরাই দাঁড়াতে পারে না আবার নারীরা কেন উঠছে? আমি এবার সহ্য করতে না পেরে এক যুবককে ধমকিয়ে উঠিয়ে মধ্যবয়স্ক এক নারীকে বসতে দিলাম। সেই ছেলেটি আমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে থাকল। আমি আর সেই ছেলে মিলে আরো দু’জনকে বসতে দিতে পেরেছিলাম বটে কিন্তু যুবকদের সঙ্গে অনেক বাক-বিতণ্ডার পরে। একটি বাসে প্যাসেঞ্জার হিসেবে শতকরা এক শতাংশ প্রতিবাদ করল। এই এক শতাংশকে আমি নগণ্য বলব নাকি মাত্র বলব ঠিক বুঝতে পারছি না। বাকিরা প্রতিবাদ তো করল না বরং নীরব দর্শক। আমার মনে হয় বাসে সর্বনিম্ন হলেও দু শ প্যাসেঞ্জার ছিল। বিআরটিসির বড় বাস বলে কথা। বাসের হেলপার বা কন্ডাকটরও নীরব থাকল। 

ইফতারি যে নারীদেরও করতে হয় তা পুরুষেরা ভুলে যায় রাস্তায় নামলে। মেয়েরা এখনো শক্ত হয়ে কথা বলতে পারে না। দৃঢ়চিত্তে অধিকার আদায়ের কথা উচ্চারণ করতে পারে না। শুধু নারীবাদি আন্দোলন আর প্রেস ব্রিফিং করে জনশ্রুতি বাড়ানো যায় কিন্তু ক্ষতি পোষানো যায় না। এই জাতিগত হীনম্মন্যতার ক্ষতি পোষাতে হলে নারীদের আলাদা প্যাসেঞ্জার ভাবা যাবে না।

ঢাকা 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন