প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন?
২১ জুন, ২০১৭ ইং
মো. সেলিম রেজা

 

কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনের এক প্রকল্পের খবর পত্রিকায় পড়লাম। নতুন প্রকল্পটি হলো দেড় কোটি নতুন  ভোটারকে স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করা। এর আগের প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে নয় কোটি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড প্রদানের উদ্দেশ্যে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬০০ কোটি টাকা এবং সময় ধরা হয়েছিল ছয় বছর। আগামী ডিসেম্ব্বরেই এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন মাত্র ২৩ লাখ  ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দিতে পেরেছে। অর্থাত্ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫ ভাগ ভোটারের হাতেও স্মার্ট কার্ড তুলে  দেওয়া যায়নি। কিন্তু প্রকল্পের অর্ধেক টাকা অর্থাত্ প্রায় ৮০০ কোটি ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে।

আগামী ৫ মাসের মধ্যে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া শুধু অসম্ভব নয়, অবাস্তব বলা  যেতে পারে। কারণ নির্ধারিত সময়ের মাত্র ৬ মাস বাকি থাকতে কাজ শেষ হয়েছে ৫ শতাংশের কম। সেখানে বাকি ৬ মাসে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আবার নতুন দেড়  কোটি ভোটারের স্মার্ট কার্ড প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন  করা গেল না?

আরো একটি বড় প্রশ্ন—প্রকল্পের অর্ধেক টাকা ব্যয়ে কেন মাত্র ৫ শতাংশের চেয়ে কম কাজ সম্পন্ন হলো? এক্ষেত্রে  কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না সেটা তদন্তের বিষয়। আবার প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত হয়নি বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয়েছে বলেও শুনিনি। প্রত্যেকটি প্রকল্পের ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প প্রণয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক ধাপ থাকে এবং একটির পর আরেকটি ধাপ যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে প্রকল্প প্রায়ই বিলম্ব্বিত হয়।

সরকারের ২০১৭-১৮ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে ৮টি বিশেষ প্রকল্পে অনেক বড় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই  মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু, পদ্মা রেলওয়ে সংযোগ সেতু, পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, কর্ণফুলি টানেল ইত্যাদি। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপিতে অনেক অবদান রাখতে পারবে। কিন্তু প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত না হলে এগুলো থেকে ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৪০ ভাগ। প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী  দেড় বছরের মধ্যে বাকি ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া অসম্ভব না হলেও খুবই দুরূহ একটি কাজ।

ঢাকা মেট্রো রেল প্রকল্পের কথা শুনছি ২০১৩ সাল থেকে। এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালের মধ্যেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ মাত্র ১০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কর্ণফুলি টানেল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। প্রতি বছর মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ  দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ব্যয় সুসম্পন্ন করতে পারছে না। এর ফলে প্রকল্প ব্যয় ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে যাচ্ছে।

প্রকল্পের সময় দীর্ঘ হবার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার ও জনগণ। লাভবান হচ্ছে ঠিকাদার এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আমরা আশা করব আগামীতে প্রকল্পগুলো সময়মতো সম্পন্ন হবে। এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রণয়নে আরো বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে প্রকল্পের কাজের গতি যেমন বাড়বে তেমনি কমে যাবে দুর্নীতির হার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন