কোথায় গেল সেই উদারতা
২১ জুন, ২০১৭ ইং
পলাশ বিশ্বাস

 

ভারতীয় উপমহাদেশ এককালে ধর্মীয় উদারতার জন্য খ্যাত হয়েছিল। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তিরও কমতি ছিল না। তার উদাহরণ পাওয়া যায় মধ্যযুগের রচিত গ্রন্থের মাধ্যমে। যেমন—১. কৃত্তিবাস ‘রামায়ণ’ অনুবাদ করেন তত্কালীন শাসক  জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহের অনুপ্রেরণা, পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তায়। ২. মুসলমান দরবেশদের আধাত্মিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন লক্ষণ সেনের সভাকবি হলাযুধ মিশ্র তাঁর ‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থে। ৩. মালাধর বসু ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ লেখেন রুকনউদ্দিন বারবক শাহের  অনুপ্রেরণা, পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তায়। ৪.  মধ্যযুগের মুসলিম কবি শেখ কবির রচনা করেন বৈষ্ণব পদ। ৫. বিজয় গুপ্ত ‘পদ্ম পুরাণ’ লেখেন আলাউদ্দিন হুসেন শাহের অনুপ্রেরণা, পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তায়। ৬. বিদ্যাপতি ‘বৈষ্ণবপদ’ রচনা করেন নাসিরউদ্দিন নসরত শাহের অনুপ্রেরণা, পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তায়। ৭. আলাওল ‘পদ্মাবতী’ রচনা করেন কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুপ্রেরণা, পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তায়। ৮. ‘কালিকামঙ্গল’ কাব্য লেখেন চট্টগ্রামের সাবিরিদ খান।

উল্লেখ্য,  কোরআন শরিফ প্রথম বাংলায়  অনুবাদ করেন ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন। কথা হলো—মধ্যযুগের মানুষ কত উদার ছিল! একবিংশ শতাব্দীর মানুষের মধ্যে কি এই উদারতা আছে? যদি না থাকে তাহলে আমাদের মানবিক চিন্তাভাবনাগুলো কি পিছিয়ে যাচ্ছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন