ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন কত দূর?
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন কত দূর?
আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। প্রতিদিন এই শহরে জীবন ও জীবিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় হাজার হাজার মানুষ। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও আমাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে ঢাকা। এর ফলস্বরূপ ঢাকা পেয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরের স্বীকৃতি (জাতিসংঘের বিচারে)। এই  ক্ষেত্রে ঢাকা পিছনে ফেলেছে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইকে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের  প্রতিবেদনে বলা  হয়েছে, ঢাকা শহরের প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে ৪৪,৫০০ জন মানুষ। বিগত বছরগুলোতে ঢাকার জনসংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, নাগরিক সুবিধা সেভাবে বাড়েনি। তাই বসবাসের অযোগ্য নগরীর তালিকায় ঢাকা এখন ২ নম্বরে। ঢাকার ওপরে রয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক।

শুধুমাত্র সুপরিকল্পনার অভাবে ঢাকা আজ বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিপাতে ঢাকার রাস্তায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। এ ছাড়া বছরজুড়ে রাস্তা ফুটপাত সংস্কারের ফলে যে খোঁড়াখুঁড়ি চলে তা দুর্ভোগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। ঢাকনাবিহীন এক একটি ম্যানহোল যেন মৃত্যুকূপ। রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে আসে দুর্গন্ধ। আর ফুটপাতের দখলদারিত্ব যেন আছেই। ঢাকার আর একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো যানজট।

বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যানজটের কারণে প্রতিদিন ঢাকার ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। গত ১০ বছরে ঢাকায় যান চলাচলের গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে ৭ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে শুধু যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার জন্য বছরে ক্ষতি হয় ১২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা দেড় কোটি। ধারণা করা হচ্ছে ২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার জনসংখ্যা হবে ২  কোটি ৬০ লাখ। বর্তমান অবস্থা বজায় থাকলে তখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা ভাবতেও ভয় লাগে। কিন্তু কথায় আছে—আশায় বাঁচে চাষা। তাই আমরা ভয় না পেয়ে ভয়কে জয় করে বাঁচতে চাই। বর্তমান সরকার ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল নির্মাণ, ফ্লাইওভার নির্মাণ, রাস্তা নির্মাণ ইত্যাদি। পাশাপাশি ঢাকার দুই মেয়রও ঢাকাকে  বাসযোগ্য করে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু তারপরও কিছু সমস্যা থেকে যায়। এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। আমরা যদি রাস্তার আশেপাশে আবর্জনা না ফেলি তাহলে আর রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ জমে থাকবে না। আমরা যদি হাঁটার ক্ষেত্রে ফুটপাত, ফ্লাইওভার ব্যবহার করি, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলি তাহলে অনেকাংশে যানজট কমে যাবে। অন্যদিকে যে সমস্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা বা ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পায় তাদের উচিত হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ও যতটা সম্ভব জনদুর্ভোগ না বাড়িয়ে সেগুলো নির্মাণ করা।

ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। ঢাকাকে কেন্দ্র করে ঘুরে চলে আমাদের অর্থনীতির চাকা। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পিত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঢাকার কোনো বিকল্প নাই। ঢাকাকে একটি  স্বপ্নের শহর হিসাবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন