‘ভাল্লাগে না জেনারেশন’
কেন আমাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না?
ফারাহ্ মাহমুদ১৮ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং
কেন আমাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না?
গ্র্যাজুয়েশনের পর চাকরি খুঁজছে মাঈশা। বন্ধুদের চাকরি হয়ে গেলেও তার কিছুই হচ্ছে না। সাধারণ কিছু করলে সে বন্ধুমহলে মুখ দেখাতে পারবে না। তাই অসাধারণ কিছু করতে চায়। কিন্তু অসাধারণ কিছু করা এত সহজ না, মাঈশা হতাশ হয়ে পড়ে। আজকাল তার কিছুই ভালো লাগে না।

মাঈশা বাংলাদেশের বিলাসপ্রিয় জেনারেশনের অংশ, যাদের জন্ম আশির দশকের শেষ থেকে নব্বইয়ের দশকজুড়ে। তাদের একটা বড় অংশ সুবিধাভোগী উচ্চমধ্যবিত্ত তরুণ সমাজ। তাদের ধারণা তারা একটা বিশেষ গল্পের প্রধান চরিত্র। তারা নিজেদের জীবন উপভোগ করছে ঠিকই, তবু তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তারা অসুখী। একটা মানুষের প্রাপ্তি তার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হলে, মানুষটা সুখী হয়। উল্টোটা হলে অসুখী হয়। মাঈশার প্রাপ্তি কেন তার প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না, সেটা জানার জন্য মাঈশার বাবা-মাকে জানতে হবে।

মাঈশার বাবা-মা জন্মেছেন পঞ্চাশ-ষাটের দশকে। তাদের বড় করেছেন মাঈশার দাদা-দাদু। মন্দা ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় জর্জরিত মাঈশার দাদা-দাদুর ভাবনা ছিল অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রিক। তারা চেয়েছিলেন তাদের ছেলেমেয়েদের লাইফস্টাইল তাদের চেয়ে উন্নত হোক। গ্র্যাজুয়েশনের পর মাঈশার বাবা-মা তাদের ক্যারিয়ারের দিকে মন দিল। তারা জানত, উন্নত জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হবে। এদিকে পৃথিবীর অর্থনীতি অভূতপূর্ব সমৃদ্ধির মুখ দেখল। প্রত্যাশার চেয়ে উন্নত জীবনে মাঈশার বাবা-মা তাকে বড় করল দারুণ আশাবাদ নিয়ে। তাদের জেনারেশনের প্রায় সব বাবা-মা বাচ্চাদের এভাবে বড় করেছেন যেন তারা যা চাইবে তাই পাবে। ফলে নিজেদের বিশেষ কেউ ভাবতে শুরু করে তারা। অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকায় ভবিষ্যত্ নিয়ে তারা অস্বাভাবিক বেশি আশাবাদী হয়ে ওঠে। যে-সে কাজ তারা করবে না, তাদের মূলমন্ত্র হলো, Follow your passion.

মাঈশা নিজেকে অসাধারণ মনে করে। তাই তার ধারণা, তার ক্যারিয়ার হবে সবার চেয়ে অন্যরকম। এই জেনারেশনের সবাই নিজেকে অসাধারণ মনে করে। সবাই অসাধারণ হলে, অসাধারণ কথাটার মানে কী থাকল! এই মুহূর্তে তাদের অনেকেই এই লেখাটা পড়তে পড়তে ভাবছে, ‘কিন্তু আমি সত্যিই অসাধারণ!’ সমস্যাটা এখানেই।

মাঈশার বাবা-মা জানত কঠোর পরিশ্রম করে ক্যারিয়ার গড়তে হবে। ‘অসাধারণ’ মাঈশার ধারণা যথাসময়ে একটা তুড়ি বাজালেই কাজ হয়ে যাবে! কিন্তু দারুণ একটা ক্যারিয়ার গড়তে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হয়। মাঈশা এই সত্য মেনে নিতে প্রস্তুত না। ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রফেসর পল হার্ভি বলেন, ‘এই জেনারেশনের এক্সপেক্টেশন বিভ্রান্তিকর। তারা নেতিবাচক মন্তব্য সহ্য করতে পারে না। প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতা না মিললে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। যোগ্যতার চেয়ে বেশি সম্মান ও পারিশ্রমিক আশা করে তারা, অথচ কঠোর পরিশ্রম করার কোনো ইচ্ছে নেই। হার্ভি মনে করেন, চাকরির ইন্টারভিউতে তাদের প্রশ্ন করা উচিত, ‘তুমি কি অন্যদের চেয়ে নিজেকে সুপিরিয়র মনে করো? কেন মনে করো?’ প্রথম প্রশ্নের উত্তরে ক্যান্ডিডেট হ্যাঁ-বোধক উত্তর দিলেও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে, বুঝতে হবে সে সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগছে।

বাস্তবে যোগ্যতার মাপকাঠি হলো মেধা ও পরিশ্রম। তাই উদ্ধত ও উচ্চাভিলাষী মাঈশার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি কখনোই মিলে না। প্রতি মুহূর্তে তার ইগো আহত করার জন্য আছে ফেসবুকের রঙিনতম দুনিয়া। সেখানে মানুষ তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করে। যারা স্ট্রাগল করছে তারা তাদের বাস্তবতা লুকিয়ে রাখে। আর সফল হলেই ঢোল বাজিয়ে প্রচার করে। ফেসবুকে বন্ধুদের সাফল্যের প্রচার দেখে মাঈশা হতাশ হয়ে পড়ে। তার আর কিছুই ভালো লাগে না।

 

‘মাঈশা’দের উদ্দেশে বলতে চাই

l উচ্চাকাঙ্ক্ষী থাকো। সফল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তুমি পাবে। তবে তার জন্যে তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

l নিজেকে অসাধারণ ভাবা বন্ধ করো। কারণ তুমি একজন অনভিজ্ঞ তরুণ। পৃথিবীকে এখনো কিছুই দিতে পারনি তুমি।

l নিজেকে ছাড়া সবাইকে অগ্রাহ্য করো। নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলে, অন্যের সাফল্য দেখে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই।

 

মূল ভাবনা :Why Generation Y Yuppies Are Unhappy by Tim Urban.  

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৯
আসর৩:৫৯
মাগরিব৫:৩৮
এশা৬:৫৪
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৩
পড়ুন