‘সাক্রাইন’ আনন্দ
১৮ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং
‘সাক্রাইন’ আনন্দ
 

      ইশরাত বিনতে আফতাব

 

ঘুড়ি ও ফানুস ওড়ানো, মুখে কেরোসিন নিয়ে তা দিয়ে আগুনের হল্কা—এ রকম নানা আয়োজনের উত্সব হলো পৌষ সংক্রান্তি বা ‘সাক্রাইন’। পৌষের শেষ আর মাঘের শুরু। এ দুই মাসের সন্ধিক্ষণে উত্সবে মেতে ওঠে বাঙালি। যে উত্সবের সত্যিকারের রূপ দেখা যায় পুরান ঢাকায়। আর এই পৌষ সংক্রান্তি পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী দিন। দিনভর চলে এই আয়োজন। আকাশ ভরে ওঠে রংবেরঙের ঘুড়িতে। আর আঁধার নামতেই সেই আকাশ আলোকিত হয় ফানুস-আতশবাজির ঝলকানিতে। সাক্রাইন উত্সবের মূল আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো। সকাল থেকেই পুরান ঢাকার প্রায় সব বাড়ির ছাদে বিভিন্ন বয়সী মানুষ হাজির হয় নাটাই আর ঘুড়ি নিয়ে। প্রজাপতি, পঙ্খীরাজ, ঘর গুড্ডি, বাক্স গুড্ডি নানারকমের বাহারি ঘুড়ি রং ছড়ায় শ্বেত-শুভ্র আকাশে। সারাদিন চলে ঘুড়ি কাটাকাটির খেলা। আকাশ চলে যায় ঘুড়িয়ালদের দখলে। সন্ধ্যা নামতেই ঘুড়ি নামিয়ে তরুণরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে দুঃসাহসিক আগুনের খেলায়। প্রতিটি ছাদেই কিছু সময় পরপর অন্ধকার সরিয়ে জ্বলে ওঠে আগুন। ফায়ারওয়ার্কসের পাশাপাশি ওড়ানো হয় ফানুস। রাতের আঁধারে ঘুড়ির সুতার সঙ্গে আলোকিত ফানুস বেঁধে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় আকাশে যেন ধূমকেতুর গুচ্ছ জ্বলছে। এখানেই শেষ নয়, পুরান ঢাকার আকাশ রঙিন করে জ্বলে ওঠে হাজারো আতশবাজি। পৌষকে বিদায় দেওয়ার এ যেন অন্যরকম পৌষ সংক্রান্তি উত্সব।

জানা যায়, মোগল আমল থেকেই বাংলায় এই উত্সব পালিত হয়ে আসছে। ঢাকার নবাবরা এ উত্সবের প্রবর্তন করেন বলে জানা যায়। পৌষ আর মাঘের সন্ধিক্ষণে খাজনা আদায় শেষে নবাবরা ঘুড়ি ওড়ানোর উত্সব আর খানাপিনার আয়োজন করতেন। কালক্রমে এটি পরিণত হয় সাধারণ মানুষের উত্সবে। মকরসংক্রান্তি হলো সেই ক্ষণ যাকে ঘিরে এ উত্সব পালিত হয়। পুরান ঢাকায় সাক্রাইন পৌষের শেষ দিন পালিত হয়। তাই বাংলা একাডেমির পঞ্জিকা মতে ১৪ জানুয়ারি এ উত্সব পালন করার কথা। আর শাঁখারি বাজারের আদি হিন্দু পরিবারগুলো লোকনাথ পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ জানুয়ারি পৌষের শেষ দিন মেনে এ উত্সব পালন করে। তবে এবার পৌষ মাস ২৯ দিন হওয়ায় সব জায়গাতেই সাক্রাইন ১৪ জানুয়ারিতে পালিত হয়। সাক্রাইনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে চলে প্রস্তুতি। সুতোয় কাচ, রং দিয়ে ‘মাঞ্জা’ দেওয়া হয়। শাঁখারি বাজারের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন আকার-আকৃতির ঘুড়ি। অনেকে ব্যক্তিগত ভাবে বানিয়ে নেন ঢাউস ‘ল্যাঞ্জার’ ঘুড়ি। ঘুড়ির লেজকে পুরান ঢাকায় বলে ‘ল্যাঞ্জা’। সাক্রাইন উপলক্ষে উত্সবের আমেজ থাকে পুরান ঢাকার সর্বত্র। গেন্ডারিয়া, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, চকবাজার, লালবাগ, সূত্রাপুর মেতেছিল ঐতিহ্যবাহী এই উত্সবে। আকাশে উড়ছে ঘুড়ি আর বাতাসে দোলা জাগিয়েছে গান।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৯
আসর৩:৫৯
মাগরিব৫:৩৮
এশা৬:৫৪
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৩
পড়ুন