ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জে অংশ নেবে
মঙ্গলতরী রেভ্যুলেশন
১১ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
মঙ্গলতরী রেভ্যুলেশন

ছাইফুল ইসলাম মাছুম

 

 

 

 

আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘ব্র্যাকইউ মঙ্গলতরী’ দলটি। তারা তাদের রোভার ‘মঙ্গলতরী রেভ্যুলেশন' রোবটকে নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের মার্স সোসাইটি এ প্রতিযোগিতার আয়োজক। ৯৫টি দলের মধ্য থেকে এ প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৩৬টি দল, যারা ১০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। এরমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে।

মঙ্গলতরী একটি রোবট, যা মঙ্গলগ্রহে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। গ্রহটির সার্বিক পর্বেক্ষণ, চিত্রগ্রহণ ও প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান করবে এটি। তবে না, এই রোবটটিই মঙ্গলগ্রহে যাচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়। শিক্ষার্থীরা এটিকে প্রাথমিক পরিকল্পনার মডেল হিসেবে তৈরি করেছেন। রোবটির ওজন ৫০ কেজি। এতে নানারকম তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে ১ কিলোমিটার দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান ও প্রভাষক সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলতরী দলটি কাজ করছে, যার অপারেশনাল লিডার জহিরুল ইসলাম। ১৮ সদস্যের দলে বিভিন্ন গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন আলী আহসান, জাহিরুল ইসলাম, রাজিন বিন ইসা, শান্তয়ন রায়, সৈয়দ কামরুজ্জামান ও সোয়েব আহমদ। আরও রয়েছেন ইখওয়ান ইসলাম, মাহবুব শিফাত, ফাহিম মাহমুদ, রাগিব আনজুম, জারিফ জাফার, রওশিন তাসনিম, জাবার মাহাদ, ফারিহা সাজিদ, তারিন সুলতানা, নওশিন সায়রা, মাহজাবিন ইকবাল ও গাজী মুসা জাহান।

‘মার্স ডেজার্ট স্টেশন’-এর এই প্রতিযোগিতার নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলতরীকে চারটি ‘টাস্ক’-এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে, বেজ স্টেশনে বসেই একজন নভোচারী ক্যামেরার মাধ্যমে এটির রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল করতে পারবেন। অটোনোমাস ট্রাভার্সাল টাস্ক নামের আরেকটি টাস্ক হলো, বিভিন্ন দূরত্বে চিহ্নিত স্থানে টেনিস বল রাখা থাকবে, সেই জায়গাগুলো ক্রমান্বয়ে অতিক্রম করতে হবে। সায়েন্স টাস্ক হলো পরিবেশ ও ভূমিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা। এক্সট্রিম টাস্ক হলো, ৫ কেজি ওজনের কোনো একটি বস্তুকে উঠিয়ে প্রায় এক কিলোমিটারের পাথুরে পথ পাড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে হবে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোবট তৈরির পিছনে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রয়োজনীয় অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। তারপরও শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে দেশের শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স চর্চাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। ব্র্যাক-শিক্ষার্থীদের এধরনের কাজ এটিই প্রথম নয়। এর আগে নাসায় পাঠানো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চন্দ্রবটও প্রশংসা কুড়িয়েছে। গেলবছর মহাকাশে পাঠানো হয়েছে স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’। ‘মঙ্গলতরী রেভ্যুলেশন’-এর আগে মঙ্গলতরী নামের রোভারও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির রোবটিক্স ক্লাবের তৈরি রোভার ব্র্যাকইউ ডুবুরিও সিঙ্গাপুরে একটি প্রতিযোগিতায় সেরা-১৫-তে জায়গা করে নেওয়ার সাফল্য পেয়েছে। এভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত সাফল্য তো আছেই। এরই মধ্যে নতুন সুখবর দিল ‘মঙ্গলতরী রেভ্যুলেশন’।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১১ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২১
এশা৭:৩৬
সূর্যোদয় - ৫:৪০সূর্যাস্ত - ০৬:১৬
পড়ুন