আইডিসি’র প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
প্রযুক্তি পণ্যে বিদেশি নির্ভরতা কমছে
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
প্রযুক্তি পণ্যে বিদেশি নির্ভরতা কমছে
অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশ এগিয়ে চলেছে। দেশের এই অগ্রগতিতে যে খাতগুলো অবদান রাখছে তার মধ্যে অন্যতম হলো তথ্যপ্রযুক্তি খাত। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেমন অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে ঠিক একইভাবে উত্পাদনশীল দেশের তালিকায়ও এদেশের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে উত্পাদন হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য এবং তা অনেক দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। বিশেষকরে প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ যে একটি সম্ভাবনাময় দেশ তা ইতোমধ্যে প্রমাণীত হয়েছে। অনেক গ্লোবাল কোম্পানি আমাদের দেশে তাদের উত্পাদন কার্য শুরু করেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও গবেষণা সংস্থা ‘আইডিসি’ বাংলাদেশের উত্পাদন ও বাজারের সম্ভাবনা নিয়ে ‘ড্রাইভিং এ ডিজিটাল বাংলাদেশ   থ্রু হাই-টেক মেনুফ্যাকচারিং’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আমাদের এবারের আয়োজন আইডিসি’র প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে। বিস্তারিত লিখেছেন  মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

 

প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমছে। এতে বেশ সফলতাও আসছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের তৈরি অনেক ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সম্মেলন কেন্দ্রে আইডিসির প্রকাশিত ‘ড্রাইভিং এ ডিজিটাল বাংলাদেশ থ্রু হাই-টেক মেনুফ্যাকচারিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনের উপর সাংবাদিকদের ব্রিফিং প্রদানকালে ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ কথা বলেন।

 

হাই-টেক পণ্য উত্পাদনে সম্ভাবনা

বাংলাদেশ অপেক্ষকৃত উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশে প্রচুর শ্রম উপযোগী জনগোষ্ঠী রয়েছে যা হাই-টেক ম্যানুফেকচারিংয়ে সহায়তা করবে। বিশেষ করে স্মার্টফোন উত্পাদনের দিক থেকে এখানে বছরে ৮ মিলিয়ন স্মার্টফোন উত্পাদনের স্বক্ষমতা রাখে যা মোট চাহিদার ২৩ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও গবেষণা সংস্থা আইডিসির এক প্রতিবেদনে, সরকারের নীতিগত সহায়তা, প্রতিযোগিতামূলক মজুরি কাঠামো এবং অভ্যন্তরীন বাজারে হার্ডওয়্যার পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বমানের হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি পণ্য উত্পাদনের কেন্দ্র হতে চলেছে। একই কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্যও অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।

 আইডিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর মতামত প্রকাশের জন্য সম্প্রতি বাংলদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ড্রাইভিং এ ডিজিটাল বাংলাদেশ থ্রু হাই-টেক মেনুফ্যাকচারিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনের উপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ব্রিফিংকালে বোস্টন কন্সালটিং গ্রুপ (বিসিজি) কুয়ালালামপুর অফিসের পার্টনার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিফ মুনির বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রণীত হাই-টেক পণ্য উত্পাদন সহায়ক নীতিমালার কারণে ২০১৭ সালে দেশটিতে ১১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিসিজির গ্লোবাল চেয়ারম্যান ড. হান্সপল বার্কনার, বাংলাদেশ বিনিয়োগগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম এবং আইসিটি বিভাগের সচিব জুয়েনা আজিজ উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের উত্পাদন খাতের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

 

প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

আইডিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে— বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করতে যেসকল বাধা রয়েছে এবং যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা জরুরি সেসম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার অবগত আছে। বর্তমানে দেশটিতে  ১.১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোবাইলের বাজার ও ১৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ল্যাপটপের বাজার রয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেদণে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ২০১৭ সালে মোট ৩৪ মিলিয়ন মোবাইল ফোন আমদানি করে। শ্রমের সহজলভ্যতা, প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো, অভ্যন্তরীন বাজারে হার্ডওয়্যার পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সহায়ক নীতিমালা থাকায় বাংলাদেশ হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি পণ্য উত্পাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। প্রতিদেনে প্রযুক্তি পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়াল্টন এবং স্যামসাং এর সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়। এ সফলতার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রণোদনামূলক নানা সহযোগিতা। এছাড়াও প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, অদূর ভবিষ্যতে উল্লিখিত বিষয়গুলো সম্মিলিতভাবে ক্রিয়াশীল থাকার কারণে বাংলাদেশ উচ্চ প্রযুক্তি পণ্য উত্পাদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় কেন্দ্র হয়ে উঠবে। সহায়ক নীতিমালায় প্রণয়ন এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ ও আইসিটি শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যবসায় সফলতার সুযোগ অনেক বেশি এবং বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানি যেমন ওয়াল্টন, সিম্ফনি, আমরা কোম্পানিস, স্যামসাং (ফেয়ার গ্রুপ) এবং ট্রানশান হোল্ডিংস ইতিমধ্যে যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা নির্মাণ করেছে।

 

বাংলাদেশের প্রযুক্তি বাজার দ্রুত বৃদ্ধির হার

একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশটির প্রযুক্তি পণ্যের বাজার ব্যপক সম্ভাবনাসহ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশন (আইডিসি) এর জড়িপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক প্রযুক্তি পণ্যে বাজারের আকার ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের বাজারের মধ্যে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজার ১.১৮ বিলিয়ন বেড়েছে। শুধুমাত্র ২০১৭ সালে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ইউনিট মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়েছে যা দেশের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির বাজারকে হাতছানি দিয়েছে। আইডিসির প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রযুক্তি পণ্য উত্পাদন ও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেব করে প্রযুক্তি পণ্যের নির্মাতা কোম্পানিগুলো এ দেশে পদচারণা শুরু করে দিয়েছে।

 

মোবাইল ও ল্যাপটপের বাজার বেড়েছে

আগের চেয়ে বাজার বেড়ে মোবাইল ফোনের বাজার দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ল্যাপটপের বাজার হয়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। প্রায় দেড়শো কোটি মার্কিন ডলারের এই বাজার ধরতে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে উত্পাদন ও সংযোজন কারখানা করছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন বা আইডিসি। আইডিসির হিসাব বলছে, শুধু গত বছরেই দেশে মোবাইল মোবাইল ফোন আমদানি হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লাখ। তাই বিশাল এই বাজারে বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে আইডিসি।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘দেশের বাজারে প্রথম কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের বিক্রির সময় বেশিরভাগ ক্লোন বা  ব্র্যান্ডবহীন ডেস্কটপ বিক্রি হত। বিদেশ থেকে নানা যন্ত্রাংশ  এনে বিক্রি করা হত। এখন এই চিত্র পাল্টে গেছে। আগে ফিচার ফোনের ব্যবহারকারী বেশি ছিল, কিন্তু এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। ফোরজির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সংখ্যা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এতে বেশ সফলতাও আসছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের তৈরি অনেক ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।’ বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ (বিসিজি) কুয়ালালামপুর অফিসের পার্টনার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিফ মুনির বলেন, ‘বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করতে যে সকল বাধা রয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা জরুরি সেসব সম্পর্কে বাংলাদেশের সরকার অবগত আছে।’

আইডিসি’র প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পাওয়া যাবে  http://lict.gov.bd/uploads/file/strategic/strategic_5b8e69a97550b.pdf এই লিংকে।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন