বিআইআইএসএস-এর সেমিনার
পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি
g ইত্তেফাক রিপোর্ট১৭ মার্চ, ২০১৬ ইং
প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে পরিবেশের ক্ষতিসহ সব ধরনের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি জানান। ‘প্রাকৃতিক সম্পদ, জাতীয় আয় এবং বাংলাদেশের পরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএস-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. মাহফুজ কবির। তিনি বলেন, প্রথাগতভাবে আমরা জিডিপিতে পরিবেশগত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করি না। কিন্তু বিভিন্ন দেশেই পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। আমাদেরও বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক একেএম আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, এমপি। প্যানেল আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

ড. বদরুল ইমাম বলেছেন, বাংলাদেশে সব সময়ই পরিবেশ ইস্যুটি অবহেলিত। কিন্তু পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে সরকারের পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনে যে উত্স জ্বালানি দরকার (গ্যাস ও কয়লা) তার মজুদ অফুরন্ত নয়। আর গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনে যে পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হবে তা জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। এটি সরকারের বিবেচনা করা দরকার। বিশেষ করে কয়লা আহরণ করলে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত সমস্যা হবেই, তা জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রসঙ্গে এই ভূতত্ত্ববিদ বলেন, মাত্র ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য সুন্দরবনকে ধ্বংস করা ঠিক হবে না। তাই রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ফলে সুন্দরবনের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে তা হিসাব করা দরকার।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেশিরভাগ উত্পাদনের ক্ষেত্রেই পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি হয়। যেমন ইটভাটা বা চিংড়ি চাষে পরিবেশের ক্ষতি হবেই। কিন্তু পরিবেশের এ ক্ষতি বিবেচনা করতে গেলে সরকার কোনো উত্পাদন কাজেরই অনুমতি দিতে পারবে না। এ ক্ষতি জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে এর ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি যদি হঠাত্ করে ৩ শতাংশে নেমে আসে তখন কী হবে সে বিষয়টি ভাবা দরকার। তাই জিডিপিতে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে কী না তা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, সুন্দরবন রক্ষা করা যেমন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য সঠিক জীবনের ব্যবস্থা করা। আর আমাদের সরকার জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ দেয়া। তাই আমাদেরকে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। আর সব কাজেরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক থাকবে। তা বিবেচনা করেই আমাদেরকে এগুতে হবে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ মার্চ, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫০
যোহর১২:০৮
আসর৪:২৮
মাগরিব৬:১২
এশা৭:২৪
সূর্যোদয় - ৬:০৬সূর্যাস্ত - ০৬:০৭
পড়ুন