এমসিসিআইয়ের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা
রাজস্ব ঘাটতি ও এডিপি বাস্তবায়নের দুর্বলতা বড় দুশ্চিন্তার কারণ
জ্বালানি সংকট সব খাতকেই প্রভাবিত করছে, উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই
ইত্তেফাক রিপোর্ট১২ মে, ২০১৬ ইং
দেশের রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি এবং এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী) বাস্তবায়নে দুর্বলতা বর্তমানে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ বলে মনে করছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, আগামীতে দেশের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের যোগান দেয়াই হবে চ্যালেঞ্জ। কারণ প্রতি বছর শ্রমবাজারে বিশ লাখ নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু সেই হারে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি বিনিয়োগ প্রসারে রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সংকট দূরীকরণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কারণ অবকাঠামো ঘাটতি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট অর্থনীতির সব খাতকেই প্রভাবিত করছে।

এমসিসিআইয়ের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সার্বিক দিক থেকে এ ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনীতির সূচকগুলো ইতিবাচক রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সুফলও পেয়েছে দেশের অর্থনীতি। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) খাতভিত্তিক অবদানের ক্ষেত্রে কৃষি খাত খুব ভালো অবদান রেখেছে, তবে এ খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সরকারের সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। সেবা ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতও ভালো করছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় সব খাতেরই অগ্রগতি কম। এর মূল কারণ হলো— অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। সরকার বিদ্যুত্ সমস্যা সমাধানে স্বল্পকালীন যেসব পরিকল্পনা নিয়েছিল তা বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই বিদ্যুত্ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে।

এমসিসিআইয়ের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সরকারের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ অর্থ বছরে প্রাক্কলিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ। যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের অবদান থাকবে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী আগের বছরের তুলনায় এ বছর জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের অবদান ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত অন্তত ৩০ শতাংশ হতে হবে।  কিন্তু পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বছরশেষে প্রকৃত অনুপাত হতে পারে ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৪
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৫
এশা৭:৫৫
সূর্যোদয় - ৫:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:৩০
পড়ুন