শিগগির কার্যকর হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস
বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে সেমিনারে অর্থমন্ত্রী
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৯ মার্চ, ২০১৭ ইং
শিগগির কার্যকর হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, অন্তত ১৫/১৬ বছর ধরে উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের কথা বলছি। এখনো এটি কার্যকরভাবে শুরু করা যায়নি। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিডা (বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) এটা নিয়ে কাজ করছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকর করতে সেবা দেওয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিডা তাদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সময় জানতে চেয়েছে। কীভাবে দ্রুততম সময়ে উদ্যোক্তাদেরকে এ সেবা দেওয়া যাবে সে ব্যাপারে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগির উদ্যোক্তাদেরকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট আয়োজিত ‘বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন: নীতিগত সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রপ্তানি আয় তৈরি পোশাক খাতের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আমরা রপ্তানি পণ্যে বহুমুখীকরণ করার চেষ্টা করছি। বর্তমানে ওষুধ খাত ভালো করছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিও ভালো হচ্ছে। তাছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য বিভিন্ন খাতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যাক্তাদেরকে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়, এটা আমরা জানি। এজন্য সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। এছাড়া যমুনা নদীর পাশে উদ্যোক্তাদের জন্য জমির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের যানজট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে রাস্তা রয়েছে তার মধ্যেই যানজট কমানো সম্ভব যদি শৃঙ্খলা আনা যায়। মন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য আমাদেরকে লজিস্টিকস সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তাই লজিস্টিকস সূচকে কীভাবে উন্নতি করা যায় সে পথ ধরার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। দেশীয় বিনিয়োগও কম হচ্ছে। তাই ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে আমরা কাজ করছি। স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সেবামূলক অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। মধ্যম মেয়াদে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা হবে। আর দীর্ঘমেয়াদে সুনির্দিষ্ট খাতে বিভিন্ন দেশকে বিনিয়োগে নিয়ে আসতে চাই। বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশে কিছু নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে গেছে। আমরা এ ধারণা বদলে দিতে চাই।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকার ২০৪০ এর দশকের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার যে পরিকল্পনা করেছে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ দরকার। এক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ পর্যাপ্ত পরিমাণে হচ্ছে। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির তুলনায় স্থবির হয়ে আছে। আর বেসরকারি বিনিয়োগ না বাড়লে বর্ধিত চাহিদার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে না। তাই বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আহসান মনসুর বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের এফডিআই প্রাপ্তি খুব কম। এর বড় কারণ হলো—বিনিয়োগের পরিবেশ যথাযথ নয়। তাই দ্রুত কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিস গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তাদেরকে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। গুণগত মানসম্পন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত যেন কোনো ধরনের কর না বসায় সে ব্যাপারে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, উদ্যোক্তাদেরকে সহায়তা দেওয়ার জন্য বিডাকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে হবে। বিডা’র কর্মকর্তাদের মধ্যেও দক্ষতা বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের জন্য দেশে জমির সংকট রয়েছে। শ্রমিকদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। এ বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরো বলেন, শুধু এফডিআই আসলেই চলবে না, কোন খাতে আসছে তা বিবেচনা করা দরকার। যেসব খাতে আমাদের উদ্যোক্তারা ভালো করছে সেসব খাতের চেয়ে যেসব খাতে আমরা ভালো করতে পারছি না সেসব খাতে এফডিআই আনতে হবে।

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, সরকার যে কোনো প্রণোদনা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু তৈরি পোশাক খাতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অন্য খাতগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের ইমেজ বাড়ানোর জন্য বিশ্বখ্যাত যেসব ব্র্যান্ড বাংলাদেশে রয়েছে তাদেরকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। আমেরিকা ও ইউরোপের বাইরে আরো কিছু দেশ থেকে এফডিআই আনার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সবশেষে ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজকে সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি। সেমিনারে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট নিহাদ কবির, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) নির্বাহী সদস্য এমদাদুল হক, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল চৌধুরী এবং মোনেম গ্রুপের ডিএমডি মঈনুদ্দীন মোনেমসহ আরো অনেকে। বক্তারা বলেন, করের আওতা বাড়িয়ে করদাতাদের ওপর চাপ কমানো দরকার। বাংলাদেশে কর্পোরেট কর অনেক বেশি, এটা কমাতে হবে। বন্ড মার্কেট উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি বন্দরের ব্যবস্থাপনা দ্রততর করতে হবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৯ মার্চ, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪৮
যোহর১২:০৭
আসর৪:২৮
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৫
সূর্যোদয় - ৬:০৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন