আসছে বাজেট ২০১৭-১৮
নতুন ভ্যাট আইনে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৫ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
নতুন ভ্যাট আইনে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের
কর ফাঁকিবাজদের নাম

প্রকাশের আহ্বান

নতুন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইন কার্যকর হলে গ্যাস-বিদ্যুত্সহ জ্বালানির দর বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখতে করণীয় ঠিক করার পাশাপাশি এ বিষয়ে আগাম ঘোষণা দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের ব্যানারে অর্থনীতিবিদরা এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে বিদ্যুত্-গ্যাসের দাম নিয়ে উদ্বেগ। বর্তমানে এসব সেবার ওপর হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট নেওয়ার বিধান রয়েছে। নতুন আইনে একবারেই ১৫ শতাংশ হবে। এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। এটি কার্যকর হলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরো বেড়ে যেতে পারে। এনবিআর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়টি সমন্বয় করতে পারে। এছাড়া এ বিষয়ে কী হতে যাচ্ছে তা পরিষ্কারভাবে আগেই ঘোষণা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আগাম ঘোষণা থাকলে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাতের মতো সেবায় ভ্যাট থাকা উচিত নয়। রেয়াত নেওয়াও কঠিন। এসব খাতের ওপর ভ্যাট তুলে দিতে পারলে ভালো। অথবা যত কম আরোপ করা যায়। তিনি নতুন ভ্যাট আইনের প্রশংসা করলেও আইনের কিছু বিষয়ে বিচ্যুতি থাকলে তাও স্বীকার করা উচিত বলে মত দেন। তিনি বলেন, ভ্যাট আইন যত সুন্দরই হোক যদি বাস্তবায়ন সঠিক না হয়, তাতে লাভ নেই। কীভাবে প্রয়োগ হচ্ছে সেটিই আসল কথা। 

আগামী জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনে সব ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুত্ সেবার ওপর ভোক্তা পর্যায়ে হ্রাসকৃত (ট্রাঙ্কেটেড রেট) ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বেশকিছু খাত হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট দিচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে এসব খাতের ওপর ভ্যাটের হার দাঁড়াবে ১৫ শতাংশ। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ফের দর বাড়ার আশঙ্কার কথা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অনেক যোগ্য ব্যবসায়ী ভ্যাট নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। ভ্যাট নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমার সন্দেহ এত আলোচনা কি আইনটিকে আরো যৌক্তিক করার জন্য নাকি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য। সত্ করদাতাদের উত্সাহিত করার পাশাপাশি ফাঁকিবাজদের নাম প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা কর দেন এবং যারা দেন না-তাদের নাম প্রকাশ করা উচিত। তাহলে সামাজিকভাবে লজ্জাবোধ তৈরি হবে। এ থেকে কর আদায়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগের দাবির ইস্যুতেও কথা বলেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, অতীতে বৈধ পথে আয় হয়েছে কিন্তু কর দেয়নি (অপ্রদর্শিত), এমন অর্থ যথাযথ কর দেওয়ার মাধ্যমে এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তাতে দোষের কিছু নেই। তবে কোনোভাবেই রেয়াতের সুযোগ দেওয়া যাবে না, যাতে সত্ করদাতারা নিরুত্সাহিত না হন। তবে বৈধ বা অবৈধ কিনা সেটি নির্ধারণের ভার থাকবে দুদকের ওপর। বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনলে এর ওপর ভ্যাট আরোপের বিরোধিতা করে বরং অগ্রিম আয়কর বসানো যেতে পারে বলে মত দেন তিনি। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ মামুন রশীদ আগামী জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে কারো কারো মনে সন্দেহ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান আগামী জুলাই থেকে নতুন আইনটি কার্যকরে কোনো দ্বিধা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য এনবিআরের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই-একটি বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসবেন।

প্রসঙ্গত, নতুন ভ্যাট আইন ২০১২ সালে সংসদে পাশ হয়। এর তিন বছর পর ২০১৫ থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার কারণে তা কার্যকর করা যায় নি। গত বছরও আইনটি কার্যকর করা যায় নি। তবে এবার কার্যকরের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এ সময় অন্যদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ পুলক সাহা, সুষ্মিতা বসু ছাড়াও ইআরজি’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন