সার্ভিস চার্জ কমানোর দাবি
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৫ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
সার্ভিস চার্জ কমানোর দাবি
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নিয়ে বিআইডিএসের আলোচনা সভা

 মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ৮১ শতাংশ বিকাশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এটা কেন? খাতটিতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করতে পারছে না।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) চার্জ কমানোর দাবি জানিয়েছে খাত সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা। একইসঙ্গে নন ব্যাংক কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স না দেওয়ার অনুরোধও জানান তারা। এ সময় এমএফএস সার্ভিস চার্জ না কমানোর পক্ষে অহেতুক নানা ঠুনকো যুক্তি তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আলোচকরা এ দাবি করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যত করণীয় শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. মনজুর হোসাইন। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ, বিকাশের কর্ণধার কামাল কাদির, বিডি জবসের ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের উচ্চ সার্ভিস চার্জের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিআইডিএস। এ প্রসঙ্গে বিকাশের কর্ণধার কামাল কাদির বলেন, লাখ টাকার লেনদেন হলে ব্যাংকে যাওয়া উচিত্। কারণ বিকাশ ছোট লেনদেনের জন্য। তার মতে, ছোট লেনদেনকারীরা কখনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করেছেন বড় লেনদেনকারীরা। তাই তাদের ব্যাংকে লেনদেন করাই ভালো। বিকাশের জন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকাশের কার্যক্রম শিখেছি পথে-ঘাটে হেঁটে এবং চায়ের দোকানে বসে। একই সঙ্গে মিশেছি প্রান্তিক মানুষের সাথেও। তিনি বলেন, কিছু জটিলতার কারণে সার্ভিস চার্জ বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যৌক্তিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসি। কিন্তু এখনও কোনো সমাধানে আসতে পারেনি। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ যথেষ্ট এগিয়েছে। তবে খাতটিতে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ।

বিডি জবসের প্রধান ফাহিম মাশরুর বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ কমাতে হবে। আইন কানুন আরও সহজ করতে হবে। তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে সমাধান অন্যভাবে করতে হবে। তবে লেনদেন সীমা কমানো ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের বাইরে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স দেয়া ঠিক হবে না।

বিআইডিএসের গবেষণাপত্রে বলা হয়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ৮১ শতাংশ বিকাশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এটা কেন? খাতটিতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করতে পারছে না। এতে কোনো একক বা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরোক্ষ বাধা থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পক্ষে মত দেয় সংস্থাটি। এর আগে একই অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে বক্তারা বলেন, দেশের সর্বত্র সব মানুষের কাছে সেবা পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকিং খাত। বিশেষ করে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় কার্যক্রম পুরোপরি সাফল্য পায়নি। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ কমিয়ে সেবাটিকে আরও সহজ করার পরামর্শ দেন তারা।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:২২
পড়ুন