নতুন বাজারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম
পিআরআইর সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৫ মে, ২০১৭ ইং
নতুন বাজারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের নতুন বাজারে আগ্রহ কম। তিনি বলেন, চিলি, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, চায়না, জাপান আমাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিচ্ছে। শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিশ্বের যেখানে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা রয়েছে, সেখানেই যেতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে নগদ সহায়তা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল ঢাকায় পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘ট্রেড এন্ড এক্সচেঞ্জ রেট পলিসিজ ফর এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই-এর ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, বিজিএমইএ-এর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ. মনসুর। আলোচনায় বক্তারা রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য বাণিজ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং ডলারের দাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরো নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, রপ্তানি খাতের জন্য এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডলারের দাম। কিছুদিন আগে ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক সমস্যা হয়েছিলো। আমি গভর্নরকে কয়েকবার ফোন করে বলেছিলাম পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য। ডলারের দাম এমন পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে যাতে করে সব পক্ষই এ থেকে সুবিধা নিতে পারে। ডলারের দামের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল বলেন, আমাদের আমদানির ১৩ শতাংশ ভোগ্যপণ্য, ফলে ডলারের দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা থাকে। 

মূল উপস্থাপনায় ড. সাদিক আহমেদ উল্লেখ করেন, আমাদের রপ্তানি গর্মেন্টস খাতেই আটকে আছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ হয়নি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে তৈরিপোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ হারে, অন্যান্য খাতে বেড়েছে মাত্র ৮ শতাংশ হারে। রপ্তানির কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে; কিন্তু রপ্তানি বহুমুখীকরণ না হলে আমাদের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শিল্প সুরক্ষার জন্য সরকারের দেওয়া সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে থাকা উচিত নয়। রপ্তানিকারকদের মুদ্রা মানের পরিবর্তনের মধ্যমে সুবিধা দেওয়া যেতে পারে যেমনটি চীন করছে। তৈরি পোশাক খাতের মতো সকল রপ্তানি খাতের জন্য বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধার জন্য একটি আদর্শ নীতিমালা সকলের জন্য থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। রপ্তানি বাড়াতে ডলারের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজিএমইএ-এর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নগদ সহায়তা দেওয়ার ফলে যদি দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তবে অবশ্যই এটি দেওয়া উচিত। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি গড়ে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। কিন্তু নীট পণ্যে রপ্তানি এখন ঋণাত্মক হয়ে গেছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আমরা কারখানা সংস্কারের পরেও আমাদের দেশের ব্যবসা অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ শিল্পের উন্নয়নে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে চেয়েছিলো; কিন্তু সেটি কয়েক হাত ঘুরে সুদের হার ১০ শতাংশ হয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় এটি ৬ শতাংশে বেঁধে দেওয়ার কথা বলছে; কিন্তু এই ঋণ এখনো দেওয়া শুরু হয়নি। তিনি বলেন, বন্ডেড ওয়্যার হাউজের অপব্যবহারের পরে এ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। এনবিআর কেন এটি আগেই ধরতে পারছে না।

বিশ্ব ব্যাংকের লীড ইকনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবছর এডহক ভিত্তিতে কর কাঠামোর পরিবর্তন করা হচ্ছে। এটি ডুইং বিজনেস পরিবেশকে প্রভাবিত করে। এ প্রেক্ষিতে একজন ব্যবসায়ী বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরো সময় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পে বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে তবে প্রকৃত দেশীয় শিল্পের অগ্রগতি হয়নি। ট্যারিফ ও প্যারা ট্যারিফের ক্ষেত্রে সংস্কার করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৫ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
পড়ুন