পুঁজিবাজারের বিনিয়োগে প্রকৃত লভ্যাংশ কমছে
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমার পাশাপাশি শেয়ারের দাম বৃদ্ধিই কারণ

আহসান হাবীব রাসেল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড ইল্ড) বা শেয়ারের দামের তুলনায় পাওয়া লভ্যাংশ গেল দুই বছরে কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রকৃত লভ্যাংশ ছিল ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। পরের অর্থবছরে তা কমে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমে আসে। আর গেল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রকৃত লভ্যাংশ আরও কমে ৩ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার কারণেই মূলত প্রকৃত লভ্যাংশ কমে গেছে। এছাড়া কিছু কোম্পানির মুনাফাও কমে গেছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানির শেয়ারের দাম যদি লভ্যাংশের পরিমাণ বাড়ার চেয়ে বেশি হারে বাড়ে তাহলে প্রকৃত লভ্যাংশ কমে যেতে পারে। তাছাড়া কোম্পানির শেয়ারের দাম না বাড়লেও যদি কোম্পানির মুনাফা কমে যায় তাহলেও প্রকৃত লভ্যাংশ কমে। আমাদের শেয়ারবাজার গত এক বছর ধরে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো— পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের হার কমে গেছে। তাই প্রকৃত লভ্যাংশ কম পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ কমে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে ডিএসইর তথ্যেও। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত  কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের গড় আগের বছরের চেয়ে কমে গেছে। তবে শেয়ারের দাম বাড়ায় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ মূলধনী মুনাফা বেড়েছে।

লভ্যাংশ কমে যাওয়ার ব্যাপারে তালিকাভুক্ত একাধিক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গেল  জাতীয় নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে ওই সময় কোম্পানিগুলোর মুনাফা ব্যাপকভাবে কমে যায়। পরে কিছুটা বাড়লেও এখন আবার মুনাফা কিছুটা কমেছে। তবে এখন মুনাফা অনেক কমে যায়নি। বরং মুনাফা থেকে অনেকে রিজার্ভ রাখার ফলে লভ্যাংশ কম দিয়েছে অনেকে। তাই গড় লভ্যাংশ কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, অনেক কোম্পানি ভালো মুনাফা করলেও লভ্যাংশ না দিয়ে রিজার্ভ বাড়ানোর ফলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হচ্ছেন। তবে রিজার্ভ বাড়ানোর ফলে পরবর্তী বছরে যদি কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশ বাড়ে তা হলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হতেন না। কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানিই বছরের পর বছর ধরে মুনাফা করে তা থেকে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। রিজার্ভ বাড়িয়েও যেভাবে কোম্পানির গ্রোথ (মুনাফা বাড়া) হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। তাই কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদান ও রিজার্ভ বিষয়ে নীতিমালা থাকা দরকার।

এদিকে গত দুই বছর ধরে প্রকৃত লভ্যাংশ কমলেও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বেশি লাভজনক। কারণ এ দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশেল প্রকৃত লভ্যাংশ বেশি। ভারতের সেনসেক্সভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর বিএসই ১০০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শ্রীলংকার সিএসই অল শেয়ার ইনডেক্সের ক্ষেত্রে প্রকৃত লভ্যাংশ ৩ শতাংশ। থাইল্যান্ডের এসইটিভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রকৃত লভ্যাংশ ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

সম্পদ ব্যবস্থাপকরা বলছেন, যে বাজার যত বেশি মুনাফামুখী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও সে বাজারের দিকে তত বেশি থাকে। তবে বিনিয়োগকারীকে শুধু বাজারের প্রকৃত লভ্যাংশ না দেখে তারা কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশ বিবেচনা করে শেয়ার কিনতে হয়। সেই হিসেবে আমাদের পুঁজিবাজারের অনেক কোম্পানিই বেশ লাভজনক।

প্রসঙ্গত, বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো মূলত শেয়ারের গায়ের দরের (ফেসভ্যালু) ভিত্তিতে লভ্যাংশ  দেয়। কিন্তু শেয়ারক্রেতা সাধারণত গায়ের দরে শেয়ার কিনতে পারেন না। তাকে শেয়ার কিনতে হয় আরো বেশি দামে বাজারমূল্যে। তাই শেয়ারহোল্ডারকে তার প্রকৃত লভ্যাংশ বুঝতে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে  সে কত লভ্যাংশ পেল তা হিসেব করতে হয়।

অর্থবছর     প্রকৃত লভ্যাংশ

২০১১-১২  ৪.৩৫

২০১২-১৩  ৩.৬০

২০১৩-১৪  ৩.৮৩

২০১৪-১৫  ৪.৯৪

২০১৫-১৬  ৩.৭৯

২০১৬-১৭  ৩.৬১

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন