চামড়া, প্রকৌশল ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
আলাউদ্দিন চৌধুরী

রপ্তানি খাতে তৈরী পোশাকের উপর অতি নির্ভরশীলতা কমাতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, হালকা প্রকৌশল ও প্লাস্টিক খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জব’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এখাতগুলোর রপ্তানি বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সে সমস্যাগুলো রয়েছে তা দুর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গত বুধবার ৯৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বাণিজ্যমন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের রপ্তানি বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আমাদের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে সব সমস্যা রয়েছে তা দূরীকরণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাস। এ লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি বহুমুখীকরণকে কৌশল হিসেবে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের রপ্তানি মূলত তৈরী পোশাক নির্ভর। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট রপ্তানির ৯৩ ভাগ এসেছে ছয়টি পণ্য থেকে। এর মধ্যে তৈরী পোশাক শিল্প থেকে এসেছে ৮২ ভাগ। রপ্তানি পণ্যের ৫৪ দশমিক ৫৪ ভাগ গিয়েছে ইউরোপের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গিয়েছে প্রায় ২২ ভাগ। আমাদের রপ্তানি বাজার সীমিত পণ্য এবং সীমিত বাজার এলাকায় সীমাবদ্ধ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের রপ্তানি বাজারকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে উল্লেখিত তিনটি সেক্টরের জন্য রিসাইক্লিং সুবিধা স্থাপন, বিশেষ সাধারণ প্রযুক্তি সেন্টার স্থাপন করা হবে। সেইসাথে কোল্ড স্টোরেজ এবং প্রযুক্তি সেন্টার ও শিল্প ক্লাস্টারের মাধ্যমে যাতায়াত অবকাঠামো সুবিধা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি ঢাকা বিভাগের সাভার, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান, গাজিপুর সদর এবং চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে।

দীর্ঘকাল ধরেই বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত সামগ্রী আভ্যন্তরীণ বাজার এবং রপ্তানির জন্য উত্পাদন করে আসছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির করে যে আয় হয়, তার চেয়ে চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানি করে কয়েকগুণ রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। তৈরী পোশাক শিল্পের পর চামড়া ও চামড়া জাত পণ্য এবং পাদুকা হতে পারে বড় সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক বাজার। তবে চামড়া শিল্প বিকাশে প্রধান অন্তরায় দক্ষ জনশক্তি। কিছু বিদেশী সংস্থা শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য মাঝে মধ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এ শিল্পে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন