বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে
১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
রেজাউল হক কৌশিক

দেশের বানিজ্য ঘাটতি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিক  বাড়ছে না রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স। তাই বেড়েই চলছে দেশের পণ্য ও সেবায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮১ কোটি ডলার, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ২৪৫ শতাংশ। অপরদিকে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশি­ষ্টরা বলছেন, যে হারে আমদানি ব্যয় বাড়ছে সে হারে রপ্তানি আয় বাড়ছে না। তাই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। তবে আমদানির এ প্রভাব বিনিয়োগে পড়লে তা অর্থনীতির জন্য ভালো। কিন্তু এ অর্থপাচার হলে ফল অত্যন্ত খারাপ হবে। কারণ রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক কমে গেছে, ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট-বিওপি) ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা বিদ্যমান থাকা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভালো নয়।

অর্থনীতির গতিধারাতে সাধারনত: আমদানি ব্যয় বাড়লে রপ্তানি আয়ও বাড়ে। কারন বিদেশ থেকে যেসব কাঁচামাল আমদানি করা হয় তার একটি অংশ প্রক্রিয়াজাতকরনের মাধ্যমে রপ্তানি হয়। অতীতে এমন হয়ে আসলেও এবার ব্যাতিক্রম। আশংকা করা হচ্ছে আমদানির নামে ওভার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে ইপিজেডসহ রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৬৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৮৩৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ১৮১ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২৪৫ শতাংশ বেশি। ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরজুড়ে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। এতে বৈদেশিক দায় পরিশোধে সরকারকে বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে ৪৫ কোটি ১০ লাখ ডলার ঋণাত্মক হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৮১ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সেবা মূল্য ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি হিসাবে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে সেবাখাতে বিদেশিদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে ১৪৪ কোটি ডলার। আর বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে মাত্র ৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ হিসাবে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ঘাটতি ছিল ৫৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে মোট ৫১ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিট এফডিআই এসেছে ৩২ কোটি, যা আগের বছরে এসেছিল ২৯ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এদিকে আবার আমদানিজনিত চাপে দেশের ভেতরে বেড়েছে ডলারের চাহিদা। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের যোগান কমে গেছে। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ঘটছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় ২০ পয়সা। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার এখন ৮০ টাকা ৮০ পয়সা। জুন শেষে যা ছিল ৮০ টাকা ৬০ পয়সা। আর মার্চে ছিল ৭৯ টাকা ৬৮ পয়সা।

উল্লেখ্য, রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় যেটুকু বেশি, তার পার্থক্যই বাণিজ্য ঘাটতি। আর চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫৩
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
পড়ুন