ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশ কিছু কোম্পানির পরিচালক পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার না রাখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এছাড়া যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণ ৩০ শতাংশের কম তাদেরকেও বিষয়টি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির ৬২৯তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসইসির এ ধরনের উদ্যোগ বাজারের জন্য ইতিবাচক। কারণ কোম্পানির পরিচালকরা যদি বেশি শেয়ার ধারণ করেন তখন কোম্পানির উন্নয়নে তাদের তাগিদও বেশি থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্তির পর বেশিরভাগ শেয়ার সাধারণ শেয়ারহোল্ডাদের হাতে ছেড়ে দেন। মালিকানা কমে যাওয়ায় পরিচালকরাও কোম্পানির অগ্রগতির ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। এসব কোম্পানির বেশিরভাগই লোকসানী হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাই বিএসইসি ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

বিএসইসি জানিয়েছে, কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া অন্য পরিচালকদের জন্য সব সময় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কিছু কোম্পানির পরিচালক ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করেই পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনফোর্সমেন্ট বিভাগে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসি আরও জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্পন্সর ও পরিচালকদের সব সময় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যারা করেনি তাদেরকে দ্রুত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কমিশন সভায় বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ উত্তোলনে অনুমোদন পেয়েছে আমান কটন ফাইবার্স লিমিটেড। কোম্পানিটি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ইলেক্ট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ করছে। কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়েছে ৪০ টাকা। সেই দামের ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা (৩৬ টাকা দরে) শেয়ার কিনতে পারবেন। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কারখানায় আধুনিক মেশিনারি স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় করা হবে ৪৯ কোটি ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। আর ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে ঋণ পরিশোধে। ওয়ার্কিং মূলধন হিসাবে ব্যয় করা হবে ১০ কোটি টাকা। আর আইপিওতে ব্যয় হবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

কমিশন সভায় এসইএমএল এফবিএলএসএল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে বিএসইসি। মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তার অংশ ১০  কোটি টাকা। প্রাক-আইপিও’র মাধ্যমে ৩৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৫ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা আইপিওর ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে উত্তোলন করা হবে। ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা এফবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক স্ট্রাটেজিক ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ট্রাস্টি বাংলাদেশ  জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং কাস্টডিয়ান ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন