দারিদ্র্য কমাতে অবদান রয়েছে বস্ত্র ও পোশাক খাতের
বস্ত্রখাতের প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে স্পীকার
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে পণ্যের মান উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন বাজার তৈরি করা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ডা. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে পোশাক খাতে প্রায় ৪৪ লাখ শ্রমিক কাজ করে এর মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। গত ১০ বছরে দেশের দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশের নামিয়ে এনেছে বর্তমান সররকার। এতে পোশাক খাতেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস শিল্পের আন্তজাতিক প্রদর্শনী ১৯তম টেক্সটেক, ১৪তম ঢাকা ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো এবং ৩৩তম ডাইক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো ২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির ও বিকেএমইএ সহসভাপতি ফজলে এহসান শামীম প্রমুখ।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পীকার ডা. শিরীন শারমিন বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এখাতে বিশ্বের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে এর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) এখাতের অবদান ১৫ শতাংশ। গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি করে এখাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের নীতিসহায়তা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখাতের উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে স্পিনিং, নিটিং, ওভেন, কাপড় এবং সাপ্লাই চেইনে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ ৬ হাজার কোটি ডলারের পন্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরমধ্যে পোশাক খাত থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার আসবে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে কোন ধরণের নীতি সহায়তা দিতে মন্ত্রণালয় প্রস্তুত বলে জানান তিনি। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, শুল্কমুক্ত ও কোটা সুবিধার ফলে ভারতেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরের ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩০ কোটি ডলারের। তাছাড়া ভারত বাংলাদেশের বস্ত্রখাতের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির সবচেয়ে বড় উত্স। ভারত তার ২৫ শতাংশ তুলা এবং সুতা রপ্তানি করে বাংলাদেশে। এছাড়াও গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি যন্ত্রপাতি আমদানি করেছে।  প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস্ গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মেহরুন এন ইসলাম জানান, ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ দিনব্যাপি  প্রদর্শনী চলবে। এতে থাকছে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের যন্ত্রপাতি, সুতা ও কাপড় উত্পাদক যন্ত্রপাতি, ডায়েস এবং বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্য। বিশ্বের ২৫টি দেশের ১২৫০টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন