রাখাইনে সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছে মিয়ানমার
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
নতুন করে অভিযান ও কিছু এলাকায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত

রয়টার্স ও আল জাজিরা

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে নতুন করে অভিযান চালাতে মোতায়েনকৃত সেনার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে, সেখানকার কিছু এলাকায় কারফিউ জারিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। আল জাজিরা বলেছে, গত বছর অক্টোবরের অভিযানের সময়ও ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শব্দটি ব্যবহার করেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার এবং বাড়তি সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনে এই অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে।

রাখাইনের দুই সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, গত সপ্তাহে মংডু শহরের কাছের পাহাড়ে সাত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর মৃতদেহ পাওয়ার পর নিরাপত্তা কঠোর করতে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনা পাঠানো হয়েছে। এদের একজন জানান, সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বুথিডং এবং মংডুসহ কয়েকটি শহরে প্রায় ৫০০ সেনা পাঠিয়েছে। অপরদিকে রাখাইন রাজ্যের পুলিশ প্রধান কর্নেল সেইন লুইন রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদেরকে নিরাপত্তা অভিযান বাড়াতে হবে। কারণ, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিদ্রোহীদের হাতে কয়েকজন মুসলিম এবং বৌদ্ধ নিহত হয়েছে।’ তবে সেনা অভিযানের ব্যাপারে সামরিক মুখপাত্র কিংবা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত বছর অক্টোবরে নয় সীমান্ত পুলিশ নিহতের ঘটনায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী পুলিশ রাখাইনে অভিযান চালিয়েছিল। মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত চলা সেই সেনা অভিযানে শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে। জানুয়ারিতে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের পর জাতিসংঘ প্রতিনিধি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ আনেন। তবে মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য হলো রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা সন্ত্রাসী তত্পরতায় যুক্ত রয়েছে।

অক্টোবরের সেই সেনা অভিযানে রোহিঙ্গারা হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হন এবং তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা নিপীড়নের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। প্রসঙ্গত, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গাদের সেই দেশের নাগরিক হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়নি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন