শ্রীলঙ্কায় তামিলদের মন থেকে যুদ্ধের ক্ষত এখনো মুছেনি
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের একটি শহর কিলিনচ্চি, যেটি এক সময় তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের সদর দপ্তর ছিল। দশ বছর আগে যুদ্ধের সময় এই শহরটি ছিল বিধ্বস্ত, ধ্বংসস্তূপে ভরা একটি নগরী। কিন্তু আজ এখন সেটি ব্যস্ত এক শহর, প্রধান সড়কজুড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ, নানা ধরনের দোকানে ভরপুর। বাহ্যিকভাবে তামিল বিদ্রোহীদের সাবেক এই ঘাঁটির অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সেই যুদ্ধের ক্ষত এখনো রয়ে গেছে তামিলদের মনে।

শহরের এক প্রান্তে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে বিক্ষোভ করছে কান্দাস্বামী পুন্নমা। তারা সরকারের কাছে তাদের ছেলেমেয়ের সন্ধান চাইছেন, যারা সেই যুদ্ধে পরাজয়ের পর সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। সেদিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলছেন, ‘যুদ্ধের শেষ মুহূর্তগুলোর পর যখন আমরা বিদ্রোহী এলাকা থেকে বেরিয়ে এলাম, আমরা কাঁটাতারের একটি বেড়ার মুখে পড়লাম। তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংযোগ আছে, এমন সবাইকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিল সেনাবাহিনী এবং সবাইকে সাধারণ ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিলো। তখন আমার ছেলে, পুত্রবধূ এবং তাদের দুই সন্তান নিজেদের সমর্পণ করলো। সেনা সদস্যরা তাদের একটি বাসে করে নিয়ে গেল। আমরা সবাই কাঁদতে কাঁদতে তাদের চলে যাওয়া দেখলাম। সেই শেষবার তাদের আমরা দেখলাম।’

তিন দশকের সেই লড়াইয়ে প্রায় বিশ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, যাদের বেশির ভাগই তামিল। যুদ্ধ হয়তো শেষ হয়েছে, তবে মানবিক বিপর্যয়ের ছাপ এখনো রয়ে গেছে। যুদ্ধের পর পুনর্গঠনে অনেক কিছুই করা হয়েছে এসব এলাকায়। কিন্তু সত্যিই কি তামিল এলাকায় শান্তি এসেছে? সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভের বিশ্লেষক পাকিসতি সারাভানামুত্তু এমনটা মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না শান্তি এখনো এসেছে। আসলে এখন যুদ্ধ পরবর্তী একটি পরিস্থিতিতে আছি। আমাদের এখন সংঘাত পরবর্তী ব্যবস্থাগুলোয় যাওয়া দরকার, যার মাধ্যমে সংঘাতের মূল কারণগুলো আর না থাকে বা তৈরি না হয়।’ তিনি বলেন, ‘সাবেক সরকার হয়তো মনে করেছিল, সামরিক বিজয়ই এই সংঘর্ষের সমাধান। কিন্তু সহিংসতার মূল কারণগুলো সমাধানে অনেক প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তার কিছু হয়তো বাস্তবায়ন হয়ছে, কিন্তু বেশির ভাগই প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।’ খবর বিবিসি বাংলার।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন