বিজ্ঞান ও টেক | The Daily Ittefaq

হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে উজ্জ্বল সম্ভাবনা
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রানজিস্টর আবিষ্কারক টিমের বিজ্ঞানী ড. ইব্রাহীম খলিল
মুন্না রায়হান১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং ০০:২২ মিঃ
হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

‘এখন বেশির ভাগ মানুষ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এরপর কী? গাড়ি, ফ্রিজ, ইত্যাদি নেটওয়ার্কের মধ্যে আসবে। এখন মেশিন ও মানুষের মধ্যে কমিউনিকেশন হচ্ছে। এরপর মেশিন টু মেশিন কমিউনিকেশন হবে। সামনা সামনি দুটি গাড়ি চলে এলো। চালক নেই। তখন কিন্তু তাদের মানুষের মতো চিন্তা করতে হবে। আসল কথা সব কিছুকে নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা। এজন্য প্রচুর ডাটা লাগবে। সেসব ডাটা আবার হতে হবে অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য। এসব ডেভেলপ করার ওপরই আমরা কাজ করছি’ - একদমে কথাগুলো বললেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তরুণ সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ার ড. ইব্রাহীম খলিল। জার্মান স্যাটেলাইটের ডিজাইনিং টিমের তরুণ এই বিজ্ঞানী প্রবাসে বসে স্বপ্ন বুনছেন দেশের জন্য কিছু করার। তিনি বলেন, আমি যা শিখেছি তা দিয়ে দেশে অবদান রাখতে চাই। দেশে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এরিয়াতে কাজ করতে চাই। এতে দেশের ছেলে-মেয়েরাও কাজের সুযোগ পাবে। দেশেই এক্সপার্ট তৈরি হবে। বাইরের কোম্পানিগুলো দেশে বিনিয়োগ করতে উত্সাহিত হবে।

একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শেষে বাংলাদেশে ছুটি কাটাতে আসা তরুণ এ বিজ্ঞানী বলেন, দেশে আইটি সেক্টর ডেভেলপ করছে। কিন্তু এখনো আমাদের এ সেক্টরের বেশির ভাগ কাজ সার্ভিসএ সীমাবদ্ধ। তার মানে আমরা অন্য কারো প্রোডাক্ট ব্যবহার করছি। কিন্তু অরো ভালো হয় যদি আমরা এ পণ্য নিজেরাই তৈরি করতে পারি। তাহলে আমরা দ্রুত সবার আগে পৌঁঁছাতে পারব। ওয়্যারলেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিন্যাসে আমরা কাজ করতে পারি। হার্ডওয়্যার সফটওয়্যারে আমরা যেন স্বয়ংস্বপূর্ণ হতে পারি। এজন্য আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।

ড. ইব্রাহীম খলিল জার্মানির ইউনিভার্সিটি অফ ক্যাসল থেকে ওয়ারলেস কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।  তিনি  প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে ইউনিভার্সিটি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে রীতিমতো সবাইকে অবাক করে দেন। তিনি বাংলাদেশের আইইউটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর স্কলারশিপ নিয়ে জার্মান যান। পড়াশুনা শেষে সাইন্টিস্ট হিসেবে জার্মানির একটি সনামধন্য রিসার্চ ইনস্টিটিউটে গ্যালিয়াম নাইট্রাইড নিয়ে একটি টিমের সঙ্গে গবেষণা করেন। এই টিম উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অতি ক্ষুদ্র ট্রানজিস্টর তৈরি করে। এটা যেকোন ধরনের তারবিহীন কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক আবিষ্কার। জার্মান সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এ রিসার্চ হয়। সামরিক কাজে এর ব্যবহার থাকায় এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রযুক্তি। সফল গ্যালিয়াম নাইট্রাইড গবেষণা টিমের এই বিজ্ঞানী বিভিন্ন কনফারেন্সে তাদের তৈরি ট্রেনজিস্টর প্রযুক্তি নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে আসছেন। ২০০৯ সালে টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি অফ বার্লিন থেকে তিনি এই গবেষণার জন্য পিএইচডি অর্জন করেন। এরপর সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরিজীবন শুরু তার। সহজভাবে বলতে গেলে মোবাইল ফোন এর বেইস-স্টেশন এর চিপ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ২০১৫ সালে তিনি জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। এখানে এনক্সপি কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি ‘ফাইভ জি’ নিয়ে কাজ করছেন। উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক ‘ফাইভ জি’তে উন্নীত করবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ড্রাইভারবিহীন গাড়িতে বসে অফিসে গেলেন। তারপর সেই গাড়ি বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাড়িতে চলে এলো। আবার দেখা গেলো ফ্রিজ নিজে থেকেই বাজারের লিস্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় জিনিস অনলাইনে অর্ডার করে দিচ্ছে। হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট তৈরি করে ফেললো আপনার পছন্দের খাবার, এমন অনেক বিষয়ই আছে যা মানুষের জীবনকে সহজ করে দিবে। এসব নিয়ে প্রচুর কোম্পানি কাজ করছে। আমাদের দেশ এখন থেকে এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পরিকল্পনা না করলে আরো পিছিয়ে পড়বে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪