বিজ্ঞান ও টেক | The Daily Ittefaq

জয় হোক সুস্থতার : রাসেল টি আহমেদ

জয় হোক সুস্থতার : রাসেল টি আহমেদ
অনলাইন ডেস্ক২৮ মার্চ, ২০১৮ ইং ১৫:২৯ মিঃ
জয় হোক সুস্থতার : রাসেল টি আহমেদ
 
আমাদের প্রাণের সংগঠন বেসিস। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের অগ্রযাত্রায় সরকারের অন্যতম গুরুত্ববহ ও যোগ্য অংশীদার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন। মাত্র ১৮ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বেসিস আজ প্রায় ১২০০ আইটি এবং আইটিইএস প্রতিষ্ঠানের সংগঠন। বেসিসের নেতৃত্ব নির্বাচন আজ দেশব্যাপী আলোচিত।
 
সাধারণ সদস্যদের ভালোবাসায় পরপর তিনটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে বোর্ডে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। টানা ছয় বছর বেসিসকে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি আমার সৌভাগ্য হয়েছে প্রাক্তন শ্রদ্ধেয় নেতা থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করার। বেসিসকে ভালোবাসা আর বেসিসের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই এই লেখা।
 
১৯৯৭ সাল থেকে অদ্যাবধি বেসিসের সাধারণ সদস্যরা নেতৃত্ব নির্বাচনে ভুল করেননি বলেই বেসিস আজকের এই শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব, তাদের কার্যক্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমেই আজ সব মহলে বেসিস প্রশংসিত। আর তাইতো অনেকেই বেসিসের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে আগ্রহী হয়েছেন বা হচ্ছেন। তারই প্রতিফলন এবারের বেসিস নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণ। এই অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাই। মহাসমারোহে প্রার্থীদের প্রচারনা দেখে আমরা সবাই আপ্লুত। তথাপি কিছু পীড়াদায়ক বিষয় দৃষ্টিকটুভাবে লক্ষণীয়।
 
বেসিসের নির্বাচন মানেই ছিল উৎসবমুখরতা আর সুস্থ প্রতিযোগিতা। নিকট অতীতে যা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাদা ছোড়া আর ব্যক্তিগত আক্রমনের মাধ্যমে অসুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রশ্ন হচ্ছে, এই কাদা কি কেবল একজন বা দুজন প্রার্থীর গায়ে লাগছে? নাকি প্রাণপ্রিয় এই সংগঠনটির প্রাক্তন নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সকল সদস্য তথা পুরো সংগঠনটির গায়েই লাগছে? কিছু ভুঁইফোড় অনলাইন মাধ্যমে ব্যক্তিকে আক্রমণ, উড়োচিঠি, সাদা কাপড়... এসব কি আমাদের বেসিসের মানসিকতা? কখনওই না। নির্বাচন একটি খেলা, এখানে কেউ জিতবে কেউ হারবে। খেলায় জেতার জন্য প্রফেশনাল কৌশল থাকবে, ফুটবলের মতো ফাউলও থাকতে পারে। তবে সেই ফাউল করতে ফুটবলে নিশ্চই বেসবলের ব্যাট বা লাঠি নিয়ে আক্রমণ করা হয়না। ব্যক্তি স্বার্থ যখন সমষ্টিগত বা সাংগঠনিক স্বার্থ থেকে বড় হয়ে যায়, তখনই এরকম অসুস্থ পরিবেশ বা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সুযোগে যোগ্যতা নয়, সুযোগসন্ধানী চাটুকারিতা হয়ে উঠে নেতৃত্বের মাপকাঠি। কেউ কেউ তখন নিজ স্বার্থে অসুস্থ চর্চা করেন অথবা অসুস্থ চর্চাকে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে উৎসাহ দেন। সংগঠন হয় প্রশ্নবিদ্ধ, সদস্যরা বঞ্চিত হয় যোগ্য নেতৃত্ব থেকে। বেসিসে সুস্থ ধারারই জয় হয়েছে সবসময়। তাই, আমাদের ভালোবাসার বেসিস আজ দেশব্যাপী সমাদৃত।
 
এবারের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেসিসকে কলুষিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছেও বেশ বাজে দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছে। অসুস্থতা আর নোংরামির পৃষ্ঠপোষকগন কখনওই বেসিসের মিত্র হতে পারেনা। তাই, এই অসুস্থতাকে বারবার মাথাচাড়া দেয়ার সুযোগ না দিয়ে নির্বাচনে সদস্যদের মূল্যবান রায়ের মাধ্যমে চিরতরে নির্মূল করাই যথাযথ জবাব হতে পারে। নির্বাচন হোক উত্সবমুখর, প্রতিদ্বন্ধিতা হোক যোগ্যতার।  লেখক : জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, বেসিস
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬