বিজ্ঞান ও টেক | The Daily Ittefaq

জাতীয় শিশু-কিশোরদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সম্পন্ন

জাতীয় শিশু-কিশোরদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সম্পন্ন
অনলাইন ডেস্ক১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১৬:০৫ মিঃ
জাতীয় শিশু-কিশোরদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সম্পন্ন
শিশু-কিশোরদের জন্য আবারো শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী শিশু-কিশোরদের জন্য ‘জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৮’। এ উপলক্ষে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত ১৮০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবকে কেন্দ্র করে ট্রেনিং এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে ইয়াং বাংলা।
 
এরই অংশ হিসেবে বিগত দুইদিন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং ইয়ং বাংলা , সিআরআই আয়োজিত জাতীয় শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণে (TOT) বাছাইকৃত স্কুলগুলোর আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক ও ইয়াং বাংলার একজন সমন্বয়ককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
 
কর্মশালার দ্বিতীয়দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। তিনি এই কর্মশালায় বলেন, ‘সরকার আগামি দুই বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে।’
 
তিনি বাচ্চাদের স্ক্র্যাচের মাধ্যমে প্রোগ্রামিং শিখানোর জন্য ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেন স্কুলের আইসিটি শিক্ষক এবং ল্যাব কোঅর্ডিনেটর এবং স্কুলের বাচ্চারা যাতে ভাল ভাবে প্রোগ্রামিং করতে পারে সেই ব্যাপার এ জোরালো ভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।
 
 
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আরো বলেন ২০০৮ সালে ৮ লক্ষ লোক ইন্টারনেট ব্যাবহার করেছিল , আর এখন ২০১৮ সালে ১০ বছরের ব্যবধান এ ৮.৫ কোটি ব্যাবহার কারিতে উপনীত হয়েছে।
 
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ২০০৯ সালে ৪ কোটি ৪৬ লক্ষ লোক মোবাইলে যুক্ত হয়েছিল।২০১৮ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫ কোটি এ উপনীত হয়েছে। ৭২ সালে মাথা পিছু আয় ছিল ৭০ ডলার, ২০০৮ সালে ছিল ৮৫০ কোটি ডলার, এখন ২০১৮ সালে মাথা পিছু আয় বেড়ে ১৭০০ কোটি ডলার হয়েছে। বিগত ১০ বছরে শিক্ষার হার আগে ২০% ছিল এখন সেটা শতকরা ৭২% হয়েছে।
 
প্রশিক্ষণ কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ইয়াং বাংলার সেক্রেটারিয়েট সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর সহকারী সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ জানান, এখন প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে এলাকা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।
 
তিনি বলেন, বাছাইকৃত ১৮০টি ল্যাবের প্রশিক্ষক হিসেবে ঐ সকল বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও ইয়াং বাংলার একজনকে বাছাই করা হচ্ছে। প্রশিক্ষক হিসেবে আগামী দুইদিন তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
 
তিনি আরো জানান, দুইদিন ব্যাপী এই কর্মশালার প্রথম দিনে পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ এর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে আইসিটি শিক্ষক এবং ল্যাব কোঅর্ডিনেটরদের। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সাঈদ সিদ্দিক । TOT ট্রেনিং শেষে এই সকল ল্যাব কোঅর্ডিনেটর এবং আইসিটি শিক্ষকগণ নিজ নিজ জেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বাছাই করবেন। এই কাজে ইয়াং বাংলার সকল জেলা কোঅর্ডিনেটরবৃন্দ জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নিজ নিজ জেলার দায়িত্ব পালন করবেন।
 
 
শিক্ষার্থী বাছাই শেষে প্রতিটি ল্যাবে তিনদিন করে পাইথন এবং তিনদিন করে স্ক্র্যাচ এর প্রশিক্ষণ শেষে দুটি পৃথক দিনে পাইথন এবং স্ক্র্যাচ ভিত্তিক অনলাইন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি জেলা হতে পাইথন ভিত্তিক একটি করে বিজয়ীদল এবং স্ক্র্যাচ ভিত্তিক একটি করে বিজয়ীদলের নাম ঘোষণা করা হবে। পরবর্তীতে এই জেলা ভিত্তিক বিজয়ীদের নিয়ে ঢাকায় দুইদিন ব্যাপী পাইথন ভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্প এবং দুইদিন ব্যাপী স্ক্র্যাচ ভিত্তিক জাতীয় ক্যাম্প আয়োজন করা হবে।
 
ক্যাম্পগুলোর প্রথম দিনে প্রশিক্ষণ এবং দ্বিতীয় দিনে জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এই জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রাপ্ত প্রোজেক্টগুলোর মধ্য থেকে সেরা প্রোজেক্টগুলোকে সমাপনী এবং পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রেজেন্ট করার সুযোগ প্রদান করা হবে।
 
জাতীয় শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৮ সারাদেশে ১৮০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী আয়োজিত হচ্ছে। সাধারণত প্রতি বছর হাইস্কুল প্রোগ্রামিং কন্টেস্টে C/C++ ভিত্তিক কিছু কুইজ এবং কিছু প্রবলেম সলভ করার জন্য দেয়া হয়ে থাকে।মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার এর উদ্যোগে এবছর প্রথমবারের মত আমরা শিশুদের (৩য়- ৫ম শ্রেণীর) জন্য স্ক্র্যাচ এবং কিশোরদের (ষষ্ঠ-১০ম শ্রেণির) জন্য পাইথন রাখা হয়েছে।
 
 
স্ক্র্যাচ একটি ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং অনলাইন কমিউনিটি যা মূলত শিশুদের জন্য। স্ক্র্যাচ ব্যবহার করে, ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব ইন্টারেক্টিভ গল্প, গেমস এবং অ্যানিমেশন তৈরি করে একে অপরের সাথে শেয়ার করতে পারে। স্ক্র্যাচ শিশুদের সৃজনশীল চিন্তা শিখতে সাহায্য করে, কারণ নিয়মানুগভাবে এবং একসাথে কাজ করাই ২১ শতকের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল দক্ষতা।
 
পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ডিজাইন করা হয়েছে ছোট, মাঝারি, বড় প্রোজেক্ট অতি অল্প সময়ে খুব ভালভাবে করার জন্য। এটা একটা ডাইনামিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। বর্তমান বিশ্বে অতন্ত্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
 
এখানে সকল জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও ডিজিটাল ল্যাবের কো-অর্ডিনেটররা এসেছেন যাতে করে তারা ট্রেনিং নিয়ে ফিরে গিয়ে নিজ নিজ ল্যাবে তিনদিন ধরে দুইধাপে শিশু কিশোরদের হাতে কলমে শিখাবে। এই শিক্ষার ভিত্তিতে একটা সিলেকশন প্রতিযোগিতা হবে। এরপর প্রতি জেলা থেকে একটা করে বিজয়ীদের নিয়ে পরবর্তীতে দুইদিনের জাতীয় ক্যাম্প হবে যেখানে প্রথমদিন শিক্ষার্থীদের আর উন্নত ট্রেনিং দেওয়া হবে এবং পরেরদিন জাতীয় প্রতিযোগিতা হবে। বিজয়ীদের ইদের পর পুরস্কৃত করা হবে।এই সরকারের উদ্দেশ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে দেশে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। স্কুলে আই.সি.টি সাবজেক্ট যোগ করা হয়েছে যেন শিশু বয়স থেকেই তারা শিখতে পারে।
 
ইত্তেফাক/রেজা
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০