বিজ্ঞান ও টেক | The Daily Ittefaq

উস্কানি গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক ইমোতে নজরদারি

উস্কানি গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক ইমোতে নজরদারি
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৭ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০৬:৫৮ মিঃ
উস্কানি গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক ইমোতে নজরদারি
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তা ভিন্ন খাতে নিতে কয়েক দিন ধরেই দেশে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ব্লগে বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্ট, লেখা, লাইভ ভিডিও এর মাধ্যমে উস্কানি ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই গুজব না বুঝে তা শেয়ার করছেন, এতে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি প্রতিহত করতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। 
 
এরই মধ্যে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সামাজিক যোগাযোগ মনিটরিং ইউনিট ছাড়াও একাধিক সংস্থা গুজব রটানোকারীদের শনাক্ত করছে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে গত দুইদিনে রাজধানীর রমনা থানায় ৪৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। উস্কানি ও গুজব ছড়ানো ২০০ ফেসবুক আইডি ও ৩০টি ওয়েব সাইটসহ সোসাল মিডিয়ার শতাধিক ইমো ও ভাইবার আইডি শনাক্ত করেছে পুলিশ। এগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে ৩ জনকে গুজব ছড়ানো ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
 
পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গুজব সৃষ্টি করতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে সংঘবদ্ধ কিছু গ্রুপ দেশি-বিদেশি অনেক ঘটনার পুরনো ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের উস্কে দিচ্ছে। কেউ কেউ গুজব প্রচার করে সহিংস হবার আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের গুজবের জেরে গত শনিবার জিগাতলাসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গুজবের জের ধরেই শনিবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা করে।
 
পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম ইত্তেফককে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ যে কোনো ধরনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সমর্থন করে। তবে কোনো গোষ্ঠী যদি আন্দোলনের নামে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে তা প্রতিহত করবেই এদেশের পুলিশ।
 
রমনা থানা সূত্রে জানা যায়, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্ট, লেখা, ভিডিও আপলোড করার জন্য রমনা মডেল থানায় ২ আগস্ট ২৯ ইউজারের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা হয়েছিল। একই অপরাধে ৫ আগস্ট  সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সোস্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের এএসআই অজয় কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে আরো ১৬ ইউজারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
 
এই ৪৫টি আইডি’র মধ্যে রয়েছে, জুম বাংলা নিউজ পোর্টাল, বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ, অ্যাক্সিডেন্ট নিউজ, বাংলামেইল৭১, বাঁশেরকেল্লা ৪টি, ফাইট ফর সারভাইভার্স রাইট, ফাঁকিবাজ লিংক, আন্দোলন নিউজ। এছাড়াও রানা মাসুম-১, নওরিন-০৭, দিপু খান বিএনপি, ইদ্রিস হোসেইন, এম আল আমিন-৯৯, বিপ্লবী কাজী, নাসিফ ওয়াহিদ ফায়জাল। ইউজারগুলো হলো- এমডি মাসুম, তারেক আজিজ, মনজেল মোর্শেদ সাব্বির, নাফিজ জামান, নুসরাত জাহান সোনিয়া, বিশ্ব তরুণ প্রজন্ম, এনসিপি-জাতীয়তাবাদী সাইবার দল, আকাইম্মা, জয়নাল আবেদীন, আর৯৯, অপূর্ব চৌধুরী, জালিমের কারাগার, লুমা সরকার।
 
ইত্তেফাক/কেআই 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২