ঢাকা শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫
৩০ °সে

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সর্ববৃহৎ আয়োজন ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ: চেপ্টার ওয়ান' শুরু

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সর্ববৃহৎ আয়োজন ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ: চেপ্টার ওয়ান' শুরু
স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ: চেপ্টার ওয়ান। ছবিঃ বিজ্ঞপ্তি থেকে।

শুরু হল শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সর্ববৃহৎ আয়োজন ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ: চেপ্টার ওয়ান'। দেশ গঠনে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও স্টার্টআপকে স্বাগত জানাতে আইসিটি বিভাগের ‘ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ একাডেমি’ (আইডিয়া) প্রজেক্ট এবং দেশের সর্ববৃহৎ তারুণ্যের প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার উদ্যোগে চলছে এই কার্যক্রম। ৮ মার্চ আইসিটি টাওয়ারে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কর্মশালায় তার উদ্বোধন ঘোষণা করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

মাসব্যাপী চলা এই কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ ১ হাজারের বেশি স্টার্টআপ চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনেক আইডিয়া থাকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পার করার পর অধিকাংশ সময় তা আর বাস্তবায়ন হয় না। সে কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমাদের ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্ট আপ’ আয়োজন। প্রথম পর্বে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আয়োজন করা হলেও পর্যায়ক্রমে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

আইডিয়া প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক বলেন, যে সব স্টার্ট আপ এর প্রডাক্ট ভ্যালু আছে তাদের জন্য এক কোটি টাকা পর্যন্ত সিডি মানি দিয়ে বিনিয়োগ করবে স্টার্ট আপ বাংলাদেশ লিমিটেড। আমরা উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করতে এবং সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করতে কাজ করে যাচ্ছি।

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অঙ্গ সংগঠন ইয়াং বাংলা ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রজেক্টের সাথে সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়। এ সমঝোতা স্মারকের আলোকে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ প্রথম অধ্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার অন্যতম স্তম্ভ- একাডেমিক শিক্ষাকে সরকারী এবং বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম তৈরি এবং উদ্যোক্তা বান্ধব সংস্কৃতি তৈরি করা।

সেই আহ্বানের আলোকে আইসিটি বিভাগে আইডিয়া প্রজেক্টের যাত্রা শুরু। ইয়াং বাংলাকে সাথে নিয়ে আইডিয়া প্রজেক্টে দেশের আট বিভাগের ৪০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালাবে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ: চেপ্টার ওয়ান’-এর কার্যক্রম। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে প্রতিযোগিতায় আবেদন করতে পারবেন। সেখানে ইয়াং বাংলার ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরদের সহায়তায় পরিচালিত হবে প্রতিযোগিতা।

এখান থেকে গড়ে তিনটি দলকে বাছাই করা হবে। এভাবে ৪০ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাছাইকৃত ১২০ দল নিয়ে প্রথমবারের মত ‘জাতীয় স্টার্টআপ ক্যাম্প’ সাভারে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দর্শক ভোট এবং বিচারকদের ভোটে বাছাই করা হবে মূল প্রতিযোগিতার ৩০ স্টার্টআপ।

আইডিয়া প্রকল্পের বাছাই কমিটি এবং অন্যান্য বিচারকদের সাহায্যে ১০ স্টার্টআপ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই দলগুলো নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ ও পরামর্শসহ যাবতীয় সহায়তা পাবে আইডিয়া প্রজেক্ট থেকে। এর পাশাপাশি বাকি ২০টি দলকে গ্রুমিং এর নির্বাচন করা হবে। সেই সঙ্গে ৩০টি দলের জন্য ইয়াং বাংলার প্লাটফর্ম তো থাকছেই।

আইডিয়া প্রজেক্টের মূল কাজ দেশ গঠনে উদ্যোগী তরুণ-তরুণীদের সহায়তা করা। তাদের উদ্যোগগুলোর জন্য পরামর্শ সেবা, অর্থ সেবা, অফিস সেবার ব্যবস্থা সহ অন্যান্য যাবতীয় সহায়তা করা। কোন দুর্দান্ত স্টার্ট আপ যেন আর্থিক ও কারিগরী সহায়তার অভাবে যেন ঝড়ে না পড়ে তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে আইডিয়া প্রকল্প। বছরে কমপক্ষে দুবার করে ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে আইডিয়া প্রজেক্টের। এর পাশাপাশি ইয়াং বাংলার সহযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে একটি একাডেমী করবার পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছি প্রজেক্টের কার্যক্রম।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় সমন্বয় কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন- আইসিটি বিভাগের সচিব এনএম জিয়াউল আলম, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ, আইডিয়া প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর সৈয়দ মজিবুল হক এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব।

আইডিয়া প্রজেক্ট প্রসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম তৈরি এবং উদ্যোক্তা বান্ধব টেকসই সংস্কৃতি তৈরি করা প্রকল্পের লক্ষ্য।

আরও পড়ুনঃ এহসান হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি চান

এ লক্ষ্যে প্রকল্প থেকে যে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা; ২০০টি উদ্ভাবনী পণ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প হতে অনুদান ও স্টার্ট আপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা; স্টার্টআপদের মেন্টরিং, কো-ওয়ার্কিং স্পেস সুবিধাসহ অন্যান্য যাবতীয় সুবিধা প্রদান করা।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন