খেলাধুলা | The Daily Ittefaq

কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নেই এইচপিতে

কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নেই এইচপিতে
জান-ই-আলম১৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০৩:৩১ মিঃ
কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নেই এইচপিতে

প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারদের স্কিলে উন্নতি আনা, তাদেরকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করার কারখানা বলা যেতে পারে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট। গেল চার বছর ধরে নিয়মিত চার মাসব্যাপী এইচপি ক্যাম্প আয়োজন করে আসছে বিসিবি। কোটি টাকার প্রোগ্রাম এইচপিতে চার বছরে ৬৪ জন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রত্যাশিত সাফল্যের দেখা মিলছে না। অনেকেই বারবার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু দৃশ্যমান উন্নতি নেই।

 

জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, এইচপির ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যদের চেয়ে ভালো পারফর্ম করছেন। তিন ফরম্যাটেই বিভিন্ন পজিশনের জন্য জাতীয় দলের বিকল্প ক্রিকেটার তৈরির পরিকল্পনাতেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সম্ভাবনাময় তরুণদের।

 

এইচপিতে ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া সম্পর্কে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘ওদেরকে আমাদের উন্নতির মধ্যে রাখতে হবে। এবং যে সমস্ত খেলোয়াড় এইচপিতে আছে, দেখবেন ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্স অন্যান্য খেলোয়াড় থেকে অনেক ভালো। এটাই তো সফলতা। আপনি একটা খেলোয়াড়কে কতটুকু উন্নতি করতে পারছেন, কতটুকু পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে পারছেন এটা হলো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।’

 

তিন ফরম্যাটের জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করা হচ্ছে জানিয়ে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘আমরা এখানে কিছু খেলোয়াড়কে প্রস্তুত করছি চারদিনের ম্যাচ, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য। আমরা হয়ত নির্দিষ্ট করে নাম বলি না তাদের।’

 

একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টানা চারবার এইচপির বিশেষায়িত ট্রেনিং প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন সাদমান ইসলাম অনিক। বাঁহাতি এই ওপেনার অবশ্য এখন ‘এ’ দলেও নেই। সাদমানকে লংগার ভার্সনের জন্যই প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানালেন প্রধান নির্বাচক।

 

তিনি বলেছেন, ‘আমরা ওকে (সাদমান) বিশেষভাবে চারদিনের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করে রাখছি। এই প্ল্যানটা করেই আমরা আগাচ্ছি। সাদমানকে ওই হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

 

তিনবার করে এইচপিতে সুযোগ পেয়েছেন সাত ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে প্রত্যাশিত উন্নতি দেখা যায়নি তাসামুল হক, মেহেদী মারুফ, ইরফান শুক্কুর, মেহেদী হাসান ও এবাদত হোসেনের মাঝে। ১৩ ক্রিকেটার দুইবার করে ডাক পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বিসিবির কোনো পর্যায়েই আর বিবেচনায় নেই সাকলাইন সজীব, নিহাদুজ্জামান, দেওয়ান সাব্বির, তানভীর হায়দার, আলাউদ্দিন বাবু, নুর আলম সাদ্দামরা।

 

একবার সুযোগ পাওয়ার পরই বাদের খাতায় পড়ে গেছেন রনি তালুকদার, মাহমুদুল হাসান লিমন, জাবিদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, নুরু হোসেন মুন্না, আশিকুজ্জামান, মেহেদী হাসান রানা, শুভাশীষ রায়, ইমতিয়াজ হোসেন তান্না, আজমীর আহমেদ, হোসেন আলী, আবুল হাসান রাজু, জুবায়ের হোসেন লিখনরা।

 

আবার এইচপি থেকে বর্তমানে আয়ারল্যান্ড সফরের ‘এ’ দলে সুযোগ পেয়েছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। সেখানেই তাদের উন্নতি দেখার সুযোগ হচ্ছে বলে জানান প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘এইচপির অনেক খেলোয়াড় ‘এ’ দলের হয়ে খেলছে। এখানেই আমরা অনুশীলনের পর উন্নতির প্রক্রিয়াটা দেখি যে, কতটুকু উন্নতি করছে।’

 

আবার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না যেতে পারলে নাকি এইচপি থেকে বাদও দেওয়া হবে অনেক ক্রিকেটারকে। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘আমরা কিন্তু গতবছরও এইচপিতে তিন মাস পর মূল্যায়ন করেছি। কিছু খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে দিছি, যে উন্নতির ধাপে উঠতে পারবে না। আমাদের একটা মানদণ্ড আছে।’

 

গত চার বছর ধরে এইচপির সঙ্গে যুক্ত আছেন স্থানীয় কোচ জাফরুল এহসান। চলতি বছরে বিদেশি কোচ না থাকায় এইচপির প্রধান কোচের ভূমিকায়ও আছেন তিনি। একই ক্রিকেটারকে বারবার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত জানিয়ে অভিজ্ঞ এই কোচ বলেছেন, ‘অবশ্যই এ বিষয়গুলো লক্ষ রাখা উচিত। তারা কিন্তু খুব ভালো পারফরম্যান্স করে আসতেছে। যারাই চার বছর ধরে আছে তারা পারফর্ম করতেছে আমাদের ঘরোয়া লিগগুলোতে, সকল ফরম্যাটে। সেজন্যই হয়ত দলটা যখন নির্বাচকরা করেন, তারা নিশ্চয়ই দেখেন যে, এই ছেলের সম্ভাবনা আছে। তবে আমি আবারো বলছি সেটাও দেখা উচিত যে, একই ছেলে যদি সফল না হয় তাকে রাখার বিষয়টি। এটাও বিবেচনায় রাখা উচিত।’

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭