খেলাধুলা | The Daily Ittefaq

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ, আফগানদের হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ, আফগানদের হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০২:১৪ মিঃ
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ, আফগানদের হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ
বাংলাদেশকে হারাতে শেষ ওভারে ৮ রান প্রয়োজন ছিল আফগানদের। উইকেট ছিল ৬টি। কিন্তু মোস্তাফিজের কাটার জাদুতে জয় তুলে নিতে পারেনি দলটি। ফিজের কৌশলী বোলিংয়ের সামনে ৩ রানে আফগানদের আত্মসমর্পন করতে হলো। সামনে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে ভারতের সঙ্গে ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।
 
আফগান রূপকথা থামিয়ে এশিয়া কাপে টিকে থাকল বাংলাদেশ। সুপার ফোর পর্বে টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে আফগানদের বিদায় নিশ্চিত হলো। দুই ম্যাচ জিতে ভারত ফাইনালে পা দিয়ে রেখেছে। একটি করে জয় এখন বাংলাদেশ-পাকিস্তানের। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আবুধাবিতে এই দুই দলের ম্যাচেই নির্ধারিত হবে এক ফাইনালিস্ট।
 
প্রথমে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুলের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে সাত উইকেটে ২৪৯ রানের পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে সাত উইকেটে ২৪৬ রান করতে সমর্থ হয় আফগানিস্তান। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে মাহমুদউল্লাহ ম্যাচ সেরা হন।
 
রান তাড়া করতে নেমে ২৬ রানে দুই উইকেট হারায় আফগানরা। ইহসানউল্লাহ (৮) মুস্তাফিজের শিকার হন। সাকিবের থ্রোয়ে রান আউট হন রহমত শাহ (১)। শাহজাদ-হাসমতউল্লাহ শাহিদির ৬৪ রানের জুটি ভেঙেছেন মাহমুদউল্লাহ। ১০ রানে মিঠুনের হাতে জীবন পাওয়া শাহজাদ বোল্ড হন ৫৩ রান করে। আজগর আফগানের সঙ্গেও শাহিদির জুটি জমে গিয়েছিল। তারা ৭৮ রান যোগ করেন। ৬ ওভারে ৩৬ রান দেয়া মাশরাফি তৃতীয় স্পেলে ৩ ওভারে ১৫ রানে নেন দুই উইকেট যা ম্যাচে ফেরায় বাংলাদেশকে। মাশরাফিও পূর্ণ করেন ওয়ানডেতে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক। মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরেন ৩৯ রান করা আজগর। একপ্রান্ত আগলে থাকা শাহিদি বোল্ড হন ৭১ রান করে। পরে নবী-সামিউল্লাহ মিলে তোপ দাগাতে থাকেন। নবীর ২৮ বলে ৩৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংসটা থামান সাকিব। সামিউল্লাহ ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের মুস্তাফিজ-মাশরাফি দুটি করে উইকেট পান।
 
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংসটা ছিল হঠাত্ ঝড়ে এলোমেলো হওয়া এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ প্রতিরোধে জেগে ওঠার জ্বালানিতে সমৃদ্ধ। রশিদ খান-মুজিবের স্পিন জুজু চেপে বসেনি এদিন। তারপরও ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের সপ্তমে চড়ে বসা বাংলাদেশের ত্রাতা হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল। ১২৮ রানের রেকর্ড জুটি গড়েছেন তারা যা ষষ্ঠ উইকেটে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে সর্বোচ্চ ১২৩ রানের জুটি ছিল আল-শাহরিয়ার ও খালেদ মাসুদের গড়া, ১৯৯৯ সালে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
 
আফগান স্পিনারদের তৈরি করা চাপের দেয়াল ভেঙেছেন মাহমুদউল্লাহ। খোলস ছাড়িয়ে রানের চাকা সচল করেছেন ধীরে ধীরে। ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান ফিরেছেন ৪৭তম ওভারে। খেলেছেন ৭৪ রানের (৩ চার, ২ ছয়) অসাধারণ ইনিংস। খুলনা-ঢাকা-দুবাই হয়ে আবুধাবি আসা ইমরুল দেখিয়েছেন অভিজ্ঞতার স্বরুপ। ভ্রমণ ক্লান্তি ছাপিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ছয় নম্বরে নেমে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ১৫তম হাফ সেঞ্চুরি। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অপরাজিত ছিলেন ৭২ রানে (৬ চার)।
 
রুবেল-মোসাদ্দেককে বসিয়ে ইমরুল-অপুকে একাদশে আনার সিদ্ধান্তটা কার্যকর হয়েছিল। যদিও ব্যাটিংয়ে শুরুতে ১৮ রানে শান্ত (৬), মিঠুনকে (১) হারিয়ে চিরাচরিত ধাক্কাটা ঠিকই এসেছিল ব্যাটিং লাইনে। তৃতীয় উইকেটে লিটন ও মুশফিকের ৬৩ রানের জুটিটা বিচ্ছিন্ন হতেই ছন্দপতনের শুরু। ১৯তম ওভারে রশিদ খানকে পরপর দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লিটনের সম্ভাবনাময় ইনিংসটির অপমৃত্যু হয়। তিনি ৪১ রান করেন। তারপর সাকিব-মুশফিকের অপ্রত্যাশিত ‘বালকসুলভ’ ভুল বিপর্যয় ডেকে আনে। লিটনের দুই বল পর সাকিব (০) রানআউট হন, যেখানে রান নিতে রাজি ছিলেন না মুশফিক। এক ওভার পর একই কান্ডের শিকার এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। এবার নন-স্ট্রাইকে ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন ইমরুল। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এদিন ওয়ানডেতে ৫ হাজার রান পূর্ণ করা মুশফিক রানআউট হন ৩৩ রানে। মাশরাফি ১০, মিরাজ ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। আফগানদের পক্ষে আফতাব আলম তিনটি উইকেট পান।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪