খেলাধুলা | The Daily Ittefaq

কখনো হাল ছাড়িনি

কখনো হাল ছাড়িনি
ইত্তেফাক ডেস্ক২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০৪:৩৪ মিঃ
কখনো হাল ছাড়িনি
অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উড়ন্ত শুরুর পর টানা দুই ম্যাচে হার। আমিরাতের তপ্ত আবহাওয়াই হয়ে পড়েছে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা। যেখানে চারদিনে তিন ম্যাচ খেলতে হয়েছে। রবিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধী জয়ে দলে ফিরেছে আত্মবিশ্বাস। গতকাল পড়ন্ত বিকালে দুবাইয়ের ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলের লবিতে বসে এশিয়া কাপের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে কথা বলেছেন জান-ই-আলম।
 
প্রশ্ন: প্রায় ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে শারীরিক ভাবে কিংবা কন্ডিশনের দিক দিয়ে এটাই আপনার সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্ট কিনা?
 
মাশরাফি: এটাতো সত্যি কথা। শরীর একপর্যায়ে গিয়ে চলছে না। কারণ চারদিনে তিনটা ম্যাচ খেলাটা কঠিন ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, সেটা আসলে রিকভারি হচ্ছে না। এটা একটু কঠিন। এ ধরনের টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচের আগে অন্তত একদিনের বিশ্রাম থাকে। কোথাও কোথাও দুই দিনের বিশ্রামও থাকে।
 
প্রশ্ন: বাংলাদেশেও তো গরমে খেলেন, এখানকার সাথে ভিন্নতা কি?
 
মাশরাফি: সমস্যা হচ্ছে পেশীতে ক্র্যাম্প হয়ে যাচ্ছে। ক্র্যাম্প হয়ে গেলে স্বাভাবিক খেলাটা খুব কঠিন। আমার যেমন ব্যাক ক্র্যাম্প করছিল, মুস্তাফিজের যেমন পিঠে ক্র্যাম্প করছিল। এইসব জায়গায় ক্র্যাম্প করলে আপনি তো বোলিং করতে পারবেন না। এইসব জায়গায় ক্র্যাম্প করলে দৌড়ে বোলিং করা কঠিন। নির্দিষ্ট যে বলটা প্রয়োজন সেই বলটা হবে না।
 
প্রশ্ন: টানা দুই ম্যাচ হারের পর আফগানদের বিরুদ্ধে জয়ে কি পুরো দল পুরনো ছন্দে ফিরল?
 
মাশরাফি: আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা যখন প্রথম ম্যাচ খেলেছি। সত্যি কথা হচ্ছে ওই ম্যাচে আমাদের কারোই প্রস্তুতি ছিল না। আমাদের পরের ম্যাচটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা জানি ভারত এখানে এক নম্বর দল হিসেবেই খেলছে। সেই সঙ্গে একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি, ওখানেও আমরা ছাড়তে পারছি না। আমরা সবাই কিন্তু বিভ্রান্ত ছিলাম। আমরা কি করবো? আমাদের কি করা উচিত। আমরা শতভাগ দিতে পারছিলাম না। শতভাগ দিলে কালকে যদি আবার সমস্যা হয়ে যায়। বিরাট একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই করতে করতে কিন্তু ৪০ ওভার পর্যন্ত ঠিকমতোই ছিলাম আমরা। ওখানে আমার বোলিং করার কথাও ছিল না। আমি রুবেলকে করাতে সাহস পাচ্ছি না। পরের দিন খেলতে হবে। তারপরও চিন্তা করলাম, আচ্ছা আমিই করি। আমরাও ওয়ার্মআপ ঠিকমতো নেই। প্রস্তুতি ঠিক নেই। তারপরও আমিই করেছি। যার কারণে বোলিং বিভাগে একটু এলোমেলো ছিলাম।
 
ভারতের বিপক্ষে হারটা অপ্রত্যাশিত কিছু না। ভারত এখানে নাম্বার ওয়ান দল। আমি মনে করি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা আমরা ভালো খেলতে পারিনি। একেবারেই প্রস্তুতি শতভাগ থাকার পরও আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।
 
আফগানিস্তানকে অনেকে দুর্বল দল ভাবছে। ওদের দুইজন বোলার আছে যারা এই বছর সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। আমি জানি না কারা বলছে, আফগানিস্তান এখন অন্যতম সেরা দল হয়ে উঠছে। শুধু ওদের বোলিং আক্রমণ দিয়ে। ওদের তিনজন স্পিনার আছে যারা বিশ্বমানের। নবী-মুজিব-রশিদ। আফগানিস্তানের সঙ্গে সহজেই জিতবো এমন কোনো ভাবনাও ছিল না। শতভাগ ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে। কখনো কখনো বড় বড় জয়ের চেয়ে এমন জয় টিমকে অনুপ্রেরণা যোগায়।  আমি বলছি না কালকের (আজ) ম্যাচে কি হবে। জয়তো জয়ই, হারতো হার।
 
প্রশ্ন: এমন কন্ডিশনে টানা বোলিং করা পেসারদের জন্য বড় পরীক্ষা ছিল নিশ্চয়ই.....
 
মাশরাফি: ৩৩ ওভারের সময় মুস্তাফিজকে যখন এনেছি তখন কিন্তু ওকে আমার পাঁচটা ওভার করানোর ইচ্ছা ছিল। ওই সময় পাঁচটা ওভার করে দিয়ে যেখানে ২০-২২ রানের পার্থক্য ছিল ওটা ৪০ রানের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্ল্যান ছিল। যেন কয়েকটা উইকেট তুলে নিয়ে চাপটা তৈরি হয়। মুস্তাফিজ দুই ওভার বল করেই আমাকে বললো ভাই আর পারছি না। তখনতো খুব স্বাভাবিক আমার জন্যও শকিং, টিমের জন্য শকিং। কিন্তু আপনিতো একজন খেলোয়াড়কে ইনজুরি করে দিতে পারেন না।
 
তখন আমিই শুরু করলাম। আমার ইনজুরি এখন ম্যাটার করবে না। আসলে অনেক কিছুই মাথায় চলে। কিন্তু এমন গরমে মাথা অনেক সময় কাজ করে না। সবকিছুর সঙ্গে সবকিছুর সম্পর্ক আছে। আপনি যেটা বললেন আমি আসলে ইনজুরি নিয়ে ভাবি না।
 
প্রশ্ন: শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে বল দেয়ার সময় নিজের ভেতর কি কাজ করছিল?
 
মাশরাফি: শতভাগ আত্মবিশ্বাস ছিল ওর উপর আমার। কারণ ওরে মারতে গেলে আউট হওয়ার সুযোগ আছে। ও যদি কাটারটা ঠিক জায়গায় ফেলে। ওর সাথে খালি আমার আলাপ এটুকু হয়েছে যে, তুই কাটারটা যে মারবি ঠিক জায়গায় মারিস। যেটা তুই আগে মারতি। আর কিছু ভাবার দরকার নেই। যেহেতু তুই অন্য কোনো বল করবি না, একটা বলই করবি, তাহলে নিশ্চিত করবি বলটা যেন ঠিক জায়গায় পড়ে, যেখানে তুই চাচ্ছিস।
 
প্রশ্ন: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ২৫০ উইকেট হয়ে গেল আপনার। ঠিক কিভাবে দেখছেন এমন বড় অর্জনকে?
 
মাশরাফি: (হাসি).....সত্যি কথা বলতে কি, আমি যতদিন ক্রিকেট খেলছি, আমি প্রত্যেকটা ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলছি। আমি সবসময় সত্ থাকার চেষ্টা করেছি মাঠে। এমনকি আমার শরীর যখন ফিফটি-ফিফটি তখনও শতভাগ দিতে চেষ্টা করেছি। কখনো ইনজুরি হয়েছে, ইনজুরির আগে বা ইনজুরি হতে পারে এসব নিয়ে ভাবিনি। ছোট-খাট জিনিস সামলেই এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। এখনও সমস্যা নিয়ে চলছি। এই টুর্নামেন্টে আমি দুইটা নো বল করছি। আপনি কবে দেখছেন আমাকে নো বল করতে।
 
আসলে ২৫০ উইকেট আমার কাছে ম্যাটার করে না। আমার কাছে বড় যে, আমি সবকিছুর ভেতর দিয়ে চলতে পারছি। যে কোনো ভাবে ম্যানেজ করে চলছি। এটা বড় স্বস্তির। একইভাবে আপনি যদি বলেন ২৫০ উইকেট, অবশ্যই এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। কারণ আমার অনেক স্বপ্ন ছিল যখন ক্রিকেট শুরু করি। সেগুলো যখন অর্জন হয়নি। কিন্তু মিলিয়ে দেখলে আবার মনে হয়, মনে একটা শান্তি আছে। কখনো হাল ছাড়িনি। অনেক কঠিন সময় এসেছে। এতকিছুর পর এমন একটা অর্জন অবশ্যই নিজেকে আনন্দ দেয়।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪