খেলাধুলা | The Daily Ittefaq

রেস্টুরেন্টে কাজ করেন প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার রাসেল

রেস্টুরেন্টে কাজ করেন প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার রাসেল
অনলাইন ডেস্ক১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১২:২৭ মিঃ
রেস্টুরেন্টে কাজ করেন প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার রাসেল
 
বাংলাদেশে যে কোনো বিচারে ক্রিকেটই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। বাকি যেকোনো খেলার চেয়ে এখানে ক্রিকেটারদের আয়ই সবচেয়ে বেশি। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি, অতি উচ্চ আয় এবং উন্নত জীবনযাত্রা অনেকেরই ঈর্ষার কারণ। এমনকি জাতীয় দলের বাইরে আছেন এমন ক্রিকেটারদের উপার্জনও নেহায়েত কম নয়। অথচ ঢাকার থেকে বেশ দূরের জনপদ শরীয়তপুরে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিবন্ধী দলের এক ক্রিকেটারের দেখা মিললো, যিনি কি না জীবিকার জন্য কাজ করছেন একটি রেস্টুরেন্টে।
 
তিনি হলেন রাসেল শিকদার। তিনি বলেন, ‘আমার একবছর বয়সের সময় টাইফয়েড জ্বর হয়। তখন আমি ভাবতাম না যে আমার এইরকম একটা সমস্যা হবে। আমি যে প্রতিবন্ধী হয়ে যাবো তা কখনো আমার চিন্তা-ভাবনাতে আসেনি। তবুও বড় হওয়ার সাথে সাথে খেলা চালিয়ে যেতে থাকি। অনেকে অনেক কথা বলতো যে, তুই খেলে কি করবি? জবাবে বলতাম, খেলাটা আমার ভালো লাগে, ভালোবাসি এটাকে। দেখি কতদূর যাওয়া যায়। খেলার জন্য এসএসসি পরীক্ষাটাও আমি দিতে পারিনি। যখন আমার টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয় তখন আমি প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ গ্রুপে চান্স পাই। তখন আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি, আর এরপর থেকে পড়ালেখাটাও আর ওইরকমভাবে হয়ে ওঠেনি।’
 
নিজের ক্রিকেট জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ন্যাশনাল ক্যাম্পে চান্স পাই। ২০১৪ সালেই ভারতে এশিয়া কাপ খেলতে যাই। এছাড়া দুবাই গেছি, ইংল্যান্ড গেছি, ইন্ডিয়া গেছি, বাংলাদেশেও একটি টুর্নামেন্ট হইছিল, ওইটায় অংশ নিছি। কয়েকটা টুর্নামেন্টে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হইছি এবং হায়দ্রাবাদে একটা টুর্নামেন্ট হইছিল। ফাইনাল ম্যাচ ছিল, যেটা সুপার ওভার পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ওই সুপার ওভারে আমি বল করে ম্যাচটারে জিতাই।’
 
কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা বিভাগ খোলার কথা বলেছিলেন। যদিও এর বাস্তবায়ন হয়নি।  রাসেল জানালেন- বেতনভুক্ত খেলোয়াড়ের কোনো প্রথা না থাকায় তার মত অনেক খেলোয়াড়ই খেলা ছেড়ে দিচ্ছেন।
 
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে গেলে, একটা বল কিনতে গেলে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা লাগে। আমি স্ট্রাইক বোলার, আমাকে সবসময় নতুন বল দিয়ে বল করতে হয়। সেই সামর্থ্যটা আমার নাই। এজন্যই এখন আমার এই রেস্টুরেন্টে কাজ করতে হয় নিজের অর্থ যোগানোর জন্য। মাশরাফি, সাকিব ওরা যেরকম বেতনভুক্ত, আমরা ওরকম বেতনভুক্ত না। এখন বেতনভুক্ত যদি না হয় তাহলে আমাদের চলাফেরার সমস্যা হয়। দেখা গেছে এখন পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমার এই খেলাই ছেড়ে দিতে হবে।’-  বিবিসি বাংলা।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬