বাণিজ্য | The Daily Ittefaq

টেকনাফের উলুফুলের ঝাড়ু যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে

টেকনাফের উলুফুলের ঝাড়ু যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে
টেকনাফের উলুফুলের ঝাড়ু যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে

ঘর-গৃহস্থালী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে আমাদের নাগরিক জীবনের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ হলো ফুলের ঝাড়ু। শহরাঞ্চলে এই ফুলের ঝাড়ুর চাহিদা অনেক। এইসব ফুলের ঝাড়ুর কাঁচামালের জোগান আসে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে। টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলে ছন জাতীয় এসব গাছকে স্থানীয়ভাবে ‘পুরিন’ বা ‘উলুফুল’ বলে ডাকা হয়। টেকনাফের পাহাড়ীয়া উলুফুলের তৈরি এসব ঝাড়ু এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। উলুফুল সংগ্রহে সীমান্তের কাঠুরিয়া নারী-পুরুষ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। চাহিদার যোগান দিতে সীমান্তের অনেকে এখন উলুফুল চাষ করার চিন্তা ভাবনা করছেন। সীমান্তে উলুফুল সংগ্রহ এবং বিক্রি করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কারিগরি সহযোগিতা পেলে টেকনাফের ন্যাড়া পাহাড় সমূহে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকহারে উলুফুলের চাষ করা যেতে পারে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিত্যক্ত শত শত হেক্টর পাহাড় এবং ঢালু জমি উলুফুল চাষের আওতায় আসলে এটি একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে অবদান রাখবে। পাশাপাশি অনেক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা  গেছে, উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রীজ, তুলাতুলী, কম্বন, লাতুরীখোলা, আমতলী, লম্বাবিল, পুটিবনিয়া, বাহারছড়ার শামলাপুর, শীলখালী, কচ্ছপিয়া, জাহাজপুরা, নোয়াখালী, হ্নীলার আলী আকবরপাড়া, মরিচ্যাঘোনা, পানখালী, খণ্ডাকাটা, আলীখালী, লেচুয়াপ্রাং, মুচনী, জাদীমুরা ও দমদমিয়া এলাকার শত শত নারী-পুরুষ (কাঠুরিয়া) সংরক্ষিত বন থেকে উলুফুল সংগ্রহ করছেন। সংগৃহীত ফুল আঁটি বেঁধে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে নগদ টাকা আয়ের মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছেন তারা। উপজেলার হোয়াইক্যং এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের উঠতি বয়সের কিছু ব্যবসায়ী গ্রাম থেকে উলুফুল সংগ্রহ করে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রীজ এলাকার নূরুল আলম, লম্বাবিল এলাকার রমজান আলী, হোয়াইক্যংয়ের আলমের মতো অনেকে উলুফুলের ভ্রমের ব্যবসা করে দুয়েক মাসের মধ্যে লাখ টাকা পেয়েছেন।

উলুফুলের ব্যবসায়ী লম্বাবিল এলাকার নূরুল আলম জানান, আমি ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর এসব সংগ্রহ করে ঢাকা এবং বরিশালে নিয়ে বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করছি। এ বছরও এক হাজার বান্ডিল সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি।

হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন জানান, টেকনাফের সব ন্যাড়া পাহাড়ে পরিকল্পিতভাবে উলুফুলের চাষ করা যেতে পারে। প্রযুক্তির এই যুগে বনাঞ্চল রক্ষায় কাঠুরিয়া শ্রমিক দিয়েই বাণিজ্যিকভাবে উলুফুলের চাষ করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢালু এবং পরিত্যক্ত জমিতে সহজ উপায়ে উলুফুলের চাষ করে বাড়তি টাকা আয় করা সম্ভব। পরিচর্যা ছাড়াই খুব অল্প সময়ের মধ্যে উলুফুল সংগ্রহ করা যায়। এই চাষে উদ্যোগীদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫